বিপ্লবী ভাষাসৈনিক আলী তাহের মজুমদার আর নেই

আগের সংবাদ

সিংগাইরে মাটি খেকোদের দৌরাত্ম্যে ফসলি জমি উজাড়

পরের সংবাদ

ঘর পেয়ে মহাখুশি জন্মান্ধ মিজানুর রহমান

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৩, ২০২১ , ৩:০৯ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ২৩, ২০২১ , ৩:২৮ অপরাহ্ণ

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের আওতায় ভূমিহীন ও গৃহহীন রৌমারী উপজেলার ৫০টি পরিবার পেয়েছে নতুন ঠিকানা। শনিবার (২৩ জানুয়ারি ) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের অধীনে নির্মিত এসব ঘরের উদ্বোধন করেন।

এভাবে পযার্য়ক্রমে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের বাসস্থান নিশ্চিত করা হবে বলে ভিডিও কনফারেন্সিয়ের মাধ্যমে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন। এ সময় রৌমারী উপজেলা পরিষদ হল রুমে ভিডিও কনফারেন্স অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষায়ক প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন এমপি, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল্লাহ্, উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা আল ইমরান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আজিজুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা সাবেক কমান্ডার ও নব-নির্বাচিত বন্দবেড় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের সরকার, উপজেলা আ. লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মিনু, দাঁতভাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান এস.এম রেজাউল করিম, উপজেলা আ‘লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, উপজেলা যুবলীগ সভাপতি হারুনর রশিদ হারুন, রৌমারী ইউনিয়ন আ. লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন বিপ্লব, সাংবাদিকবৃন্দ প্রমুখ।

অনুষ্ঠান শেষে উপজেলার বন্দবেড় ইউনিয়নের টাঙ্গারিপাড়া গ্রামে মোনতাজ আলীর ছেলে জন্মান্ধ মিজানুর রহমানের কাছে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ভূমিহীন ও গৃহহীন পূনর্বাসন প্রথম ঘরের চাবি ও দলিল পত্র তুলে দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন। এ সময় প্রতিমন্ত্রী জন্মান্ধ মিজানুরের কাছে পাঁচ হাজার ফোন নম্বর মুখস্ত জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রীর, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা চেয়ারম্যানসহ অনেকের ফোন নম্বর মুখস্ত বলেন। স্বাবলম্বী হওয়ার লক্ষে ব্যবসার করার জন্য ১ লক্ষ টাকা দিবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন প্রতিমন্ত্রী।

মিজানুর রহমাননের বয়স ২৬ বছর। জন্ম থেকে তার দুই চোখ অন্ধ। উপজেলার বন্দবেড় ইউনিয়নের টাঙ্গারিপাড়া গ্রামে তার জন্ম। বাবা মোনতাজ আলী একজন কৃষক, মা মোমেনা খাতুন গৃহিণী। দুই ভাই-বোনের মধ্যে মিজানুর বড়। ছোট বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। সামান্য কিছু জমিতে টিনের ছাউনি দিয়ে কোনো মতে পরিবার নিয়ে জীবন যাপন করছে। আত্মবিশ্বাস ও প্রবল স্মরণশক্তির মাধ্যমে জন্মান্ধ মিজানুর ধার দেনা করে জীবিকা চালিয়ে যাচ্ছেন।

অন্ধ মিজানুর বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ঘরটি পেয়ে আমি অনেক আনন্দিত। এখন আমরা নিজের নামে জমি ও ঘর পেলাম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অনেক ধন্যবাদ।

উপজেলা প্রশাসন অফিস সূত্রে জানা গেছে, আশ্রয়ন প্রকল্প-২ এর আওতায় উপজেলায় মোট ৫০টি আধা পাকা সেমি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। বন্দবেড় ইউনিয়নে ১০টি, যাদুরচর ইউনিয়নে ৩০টি ও দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নে ১০টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। প্রত্যেক ঘর বাবদ নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার টাকা।

উপজেলার বন্দবেড় ইউনিয়ন গিয়ে দেখা যায়, টাপুরচর বাজারের পাশে একটি পুকুর পাড়ে রাস্তার ধারে নির্মাণ করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন বাড়ি। ঘরগুলোতে ব্যবহার করা হয়েছে লাল রংঙের টিন। দুইরুম বিশিষ্ট বাড়িতে রয়েছে একটি রান্নাঘর, গোসলখানা, টয়লেটসহ অন্যন্যা সুবিধা রয়েছে।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল্লাহ বলেন, ঘরগুলোর নির্মাণ কাজের শুরু থেকে আমি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ নিজেই উপস্থিত হয়ে দেখভাল করেছি। কাজের যেন কোনো অনিয়ম না হয় সেই দিকে সবসময় নজর রেখেছি। এসব ঘর উপজেলা ভূমি ও গৃহহীনদের মাঝে হস্তান্তর করা হলো।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল ইমরান জানান, মুজিব জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সারাদেশের ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য আধা সেমি পাকা ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। উপজেলায় ৫০টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার পাচ্ছেন ওই ঘর। প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন শেষে সুবিধাভোগী পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন এমপি বলেন, দেশের সব গৃহহীনদের বাসস্থান নিশ্চত করবে সরকার। কেউ গৃহহীন থাকবে না। এটি ছিল আওয়ামী লীগের অঙ্গীকার। মুজিব শতবর্ষে গৃহহীনদের ঘর নিমার্ণের মাধ্যমে শেখ হাসিনার করা অঙ্গিকার আজ তা বাস্তবায়ন হচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকার যে উন্নয়নে বিশ্বাসী এটি তার বড় উদাহরণ।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়