মহামারীতে দারিদ্র্য বেড়ে ৪২ শতাংশ

আগের সংবাদ

আপিল করেও শাস্তি কমল না মেসির

পরের সংবাদ

ঘরের সাথে স্বাবলম্বী হওয়ার উপহার পেলেন জন্মান্ধ মিজানুর

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৩, ২০২১ , ৯:০৫ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ২৩, ২০২১ , ৯:০৫ অপরাহ্ণ

দেশের সব গৃহহীনদের বাসস্থান নিশ্চত করবে সরকার। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মমশতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের মধ্যে উপজেলার বন্দবেড় ইউনিয়নের টাঙ্গারিপাড়া গ্রামের জন্মান্ধ মিজানুর রহমানের কাছে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে টাপুরচরে নির্মিত প্রথম ঘরের চাবিটি হস্তান্তর করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন এমপি। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নিবার্হী অফিসার আল ইমরান ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল্লাহ। শনিবার(২৩জানুয়ারি ) দুপুরের দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের পরে পূনবার্সন প্রকল্পের অধীনে নির্মিত এসব ঘরের উদ্বোধন করেন।

উপজেলার বন্দবেড় ইউনিয়নের টাঙ্গারিপাড়া গ্রামে মোনতাজ আলীর ছেলে জন্মান্ধ মিজানুর রহমানের কাছে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ভূমিহীন ও গৃহহীন পূনর্বাসন প্রথম ঘরের চাবি ও দলিল পত্র তুলে দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন। এসময় প্রতিমন্ত্রী জন্মান্ধ মিজানুরের কাছে পাঁচ হাজার ফোন নম্বর মুখস্থ জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রীর, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা চেয়ারম্যানসহ অনেকের ফোন নম্বর মুখস্থ বলেন। এমন প্রতিভা দেখে প্রতিমন্ত্রী মুগ্ধ হয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার লক্ষে ব্যবসার করার জন্য ১ লক্ষ টাকা দিবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন।

মিজানুর রহমান, বয়স ২৬ বছর। জন্ম থেকে তার দুই চোখ অন্ধ। উপজেলার বন্দবেড় ইউনিয়নের টাঙ্গারিপাড়া গ্রামে তার জন্ম। বাবা মোনতাজ আলী একজন কৃষক, মা মোমেনা খাতুন গৃহিনী। দুই ভাই বোনের মধ্যে মিজানুর বড়। ছোট বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। সামান্য কিছু জমিতে টিনের ছাউনি দিয়ে কোনো মতে পরিবার নিয়ে জীবন যাপন করছে। আত্মবিশ্বাস ও প্রবল স্মরণশক্তির মাধ্যমে জন্মান্ধ মিজানুর মোবাইলের টাকা রিচার্জ, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অন্যনের কাছ থেকে ধার দেনা করে জীবিকা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের ফোন নম্বর মুখস্থ তার কাছে। মোবাইল রিচার্জ করতে গেলে নম্বর না বলে ব্যক্তির নাম বললেই টাকা চলে যাচ্ছে গ্রাহকের মোবাইলে ফোনে। অথবা মোবাইল ফোনের শেষের তিন সংখ্যা বললেও টাকা চলে যায় গ্রাহকের কাছে। ইচ্ছা থাকলেও পড়ালেখা চালিয়ে যেতে পারেনি মিজানুর। বাধ্য হয়েই টাকা উপার্জনের পথে নামে। শুরুর দিকে সময়টা মোটেও ভাল চলছিল না। শেষ পর্যন্ত বর্তমানে কিছু করে দেখিয়েছেন। মোবাইল ফোনে রিচার্জ, বিকাশে বিদ্যুৎ বিল, বৈদ্যতিক যন্ত্রাংশ বিক্রিসহ নানা কাজ করে তিনি সংসারের আর্থিক অনটন ঘুচিয়েছেন। দীর্ঘ দিন ধরে এ কাজ করলেও একবারও ভুল করেনি। সারা দিনের হিসাব মুখস্থ রাখতে পারেন জন্মান্ধ এই মিজানুর রহমান। চোখ দিয়ে দেখতে না পেলেও টাকা লেনদেন কিভাবে করেন জানতে চাইলে মিজানুর বলেন, মোবাইল সেট ব্যবহার করতে করতে আমার সব জানা হয়ে গেছে। রিচার্জ করতে কোন বাটন চাপতে হবে, কোন অপশনে যেতে হবে-সেটাও আমার জানা হয়ে গেছে। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রেও অসুবিধা হয়না।

স্বপের নতুন ঠিকানা পাওয়ার বিষয়ে অন্ধ মিজানুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দেয়া প্রথম ঘরটি পেয়ে আমি অনেক আনন্দিত। এমন একটা জমিসহ ঘর পেয়ে মহাখুশি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
এব্যাপারে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল্লাহ বলেন, অন্ধ মিজানুর রহমানকে একটা ঘর দেওয়া হয়েছে। আমি যতটুকু পারি আমার উপজেলা পরিষদ থেকে তাকে সহযোগীতা করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আল ইমরান জানান, মুজিব জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সারাদেশের ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য আধা সেমি পাকা ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। তার মধ্য থেকে উপজেলার বন্দবেড় ইউনিয়নের টাঙ্গারিপাড়া গ্রামে জন্মান্ধ মিজানুর রহমান কে একটি ঘর দেওয়া হয়েছে। সরকারি যে কোনো সুযোগ সুবিধা আসলে তাকে সহযোগীতার চেষ্টা করবো।

এব্যাপারে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন-(এমপি) বলেন, উপজেলায় প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উপহারের প্রথম ঘরটি অন্ধ মিজানুর রহমানকে দেয়া হয়েছে। জন্মান্ধ মিজানুরের প্রতিভা দেখে আমি মুগ্ধ। প্রাথমিক ভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার লক্ষে ব্যবসার করার জন্য ১ লক্ষ টাকা দিবো। প্রযোজনে আরও সহযোগীতা করা হবে। দেশের সব গৃহহীনদের বাসস্থান নিশ্চত করবে সরকার। কেউ গৃহহীন থাকবে না।

উল্লেখ্য যে, আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় উপজেলায় মোট ৫০ টি আধা পাকা সেমি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। বন্দবেড় ইউনিয়ন টাপুর চর গ্রামে ১০ টি, লাঠিয়াল ডাঙ্গা গ্রামে ৩০ টি ও দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের হরিণধরা গ্রামে ১০টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। প্রত্যেক ঘর বাবদ নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লক্ষ ৭৩ হাজার টাকা।

ডিসি

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়