স্মৃতির পাতায় ঊনসত্তরের অগ্নিঝরা দিনগুলো

আগের সংবাদ

রাজধানীতে অজ্ঞাত ব্যক্তি ছুরিকাঘাতে নিহত

পরের সংবাদ

নতুন শ্রমবাজার খোঁজে

কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকুক

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৩, ২০২১ , ১০:৩২ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ২৩, ২০২১ , ১০:৩২ অপরাহ্ণ

করোনা পরিস্থিতি-উত্তর বড় ধরনের সংকট ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে দেশের শ্রমবাজার। মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, কুয়েত, ইতালিসহ কয়েকটি দেশ থেকে প্রবাসী শ্রমিকরা দেশে ফেরত আসছেন। এ সংখ্যা আড়াই থেকে ৩ লাখের কম নয়। আবার নতুন করে কোনো দেশে কেউ যেতেও পারছেন না। এমতাবস্থায় বিদেশে শ্রমবাজার সংকুচিত হয়ে আসছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখার বিষয়ে সরকারের উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বাড়বে, এটাই স্বাভাবিক। আমরা মনে করি প্রবাসী শ্রমিকদের বিষয়ে সরকারের যথাযথ কর্মসূচি থাকা আবশ্যক; বিশেষ করে নতুন শ্রমবাজার তৈরিতে সরকারকে দৃষ্টি দিতে হবে। আশার খবর, বিদেশ ফেরতদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি ও প্রণোদনা দেয়ার পাশাপাশি নতুন শ্রমবাজারে আগ্রহ রয়েছে সরকারের। এর মধ্যে ৬টি দেশে শ্রম রপ্তানির ব্যাপারে কাজ শুরু করেছে পররাষ্ট্র ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়। দেশগুলো হচ্ছে- কম্বোডিয়া, পোল্যান্ড, চীন, রোমানিয়া, ক্রোয়েশিয়া এবং সিচিলেস। ইতোমধ্যে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়াও প্রায় চ‚ড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধানের জন্য ক‚টনৈতিক প্রচেষ্টাও জোরেশোরে চলছে। মধ্য এশিয়া ও পূর্ব ইউরোপের দেশ রোমানিয়া, উজবেকিস্তান এবং কাজাখস্তানে শ্রমবাজার খুলতে পারে। এ ছাড়া জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং হংকংয়ের কথাও ভাবা হচ্ছে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার সৌদি আরব। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্যানুযায়ী, গত বছরও দেশ থেকে সবচেয়ে বেশি কর্মী গিয়েছিলেন সৌদি আরবে, প্রায় ৫৭ শতাংশ। তালিকার দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানের দেশগুলোও মধ্যপ্রাচ্যের দেশ দুটি হলো যথাক্রমে ওমান (১০.৩৮ শতাংশ) ও কাতার (৭.১৮ শতাংশ)। বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম ক্ষেত্র হলো রেমিট্যান্স। জনশক্তি রপ্তানি এ ক্ষেত্রে বড় ভ‚মিকা পালন করছে। শ্রমিক সংকট উত্তরণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি ফোরামে বিশ্বনেতাদের কিছু প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এই সংকটের সময় বিদেশের বাজারে অভিবাসী শ্রমিকদের চাকরি বহাল রাখা; যদি অব্যাহতি দিতেই হয় তবে শ্রমিকদের সুরক্ষা এবং স্বাস্থ্য সুবিধাসহ ক্ষতিপূরণ এবং বরখাস্ত সংক্রান্ত অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করা; মহামারির পরে অর্থনীতিকে সক্রিয় করতে এই কর্মীদের পুনরায় নিয়োগ দিতে প্রস্তাব রাখেন তিনি। চলমান করোনা সংকটে শ্রমিক সমস্যাগুলো উত্তরণে প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবগুলো অত্যন্ত সময়োপযোগী। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থাপিত প্রস্তাবগুলো সংশ্লিষ্ট দেশ বিবেচনায় নিলে সংকট অনেকটা দূর হবে। পাশাপাশি স্ব-স্ব দেশেরও দায়িত্ব রয়েছে। নতুন বাজার খোঁজার ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের নজর দিতে হবে। জাপানে নতুন বাজার সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। জাপানের পাশাপাশি অন্যান্য দেশও খুঁজে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে। ২০১৮ সাল থেকে আফ্রিকার দেশ সোমালিয়া, সুদান, উগান্ডা এবং জাম্বিয়া বাংলাদেশকে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রস্তাব দিয়ে আসছে। সেসব প্রস্তাব অনুযায়ী বাংলাদেশের শিল্পোদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীরা দেশগুলোতে সহজ শর্তে কৃষি, কৃষিভিত্তিক শিল্পপণ্য, কৃষিজ খাদ্যশিল্প এবং তৈরি পোশাক খাতে বিনিয়োগে মনোযোগ দিতে পারে। এসব দেশে আমাদের বড় কর্মসংস্থানের বাজার তৈরির সুযোগ হতে পারে। এজন্য জোরালো ক‚টনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

এসএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়