ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে ম্যান অব দ্য ম্যাচ মিরাজ

আগের সংবাদ

ওবায়দুল কাদেরের পরিবারকে রাজাকার বললেন সাংসদ একরাম

পরের সংবাদ

বৃদ্ধা মাজেদা এখন স্বপ্নের নীড়ে

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২২, ২০২১ , ৮:২৪ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ২২, ২০২১ , ৮:২৪ অপরাহ্ণ

বৃদ্ধা মাজেদা এখন আর তেমন একটা চোখে দেখে না। মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভিক্ষা করে যখন যা পান, তা দিয়েই নাকি তিনি তার পেটের আগুন নিভান। আজ এই বাড়ি তো কাল সেই বাড়ির বারান্দা। আবার কখনও রাস্তার ফুটপাতই ছিল এতোদিন তার ঠিকানা। আজ মাজেদার মুখে তৃপ্তির হাসি, দু’চোখে আনন্দ অশ্রু। মাজেদা জানায়, শেখের বেটী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারণে আজ মাথা গোজার ঠাঁয় পেয়েছি। আমার মাথায় যত চুল আল্লাহ যেন তাকে ততো বছর বাঁচিয়ে রাখে। এ তো গেল মাজেদার কথা।

উপজেলার বনগজ গ্রামের সুমন মিয়ার স্ত্রী ফাতেমা বলেন, আগে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ঝিয়ের কাজ করতাম। এতো অল্প আয়ে ছোট ছেলে-মেয়েদের নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটাতাম। সংসার চালিয়ে কারো বাড়িতে ভাড়া থাকার মতো টাকাও থাকত না। তাই খোলা আকাশের নিচেই পরিবার নিয়ে রাত কাটতে হতো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া ঘরসহ বাড়ি পেয়ে এখন এতো আনন্দ ও খুশি লাগছে যা আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না।

উপজেলার মোগড়া গ্রামের রিক্সা চালক আলী আহাম্মদ বলেন, আগে আমাদের কিছুই ছিল না, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কল্যাণে আমাদের এখন দুই শতক জায়গাসহ একটি ঘর হয়েছে। আগে আমাদের কোনো ঠিকানা ছিল না, এখন আমাদের একটি ঠিকানা হয়েছে। জীবনে এর চেয়ে বেশি খুশির কী থাকতে পারে। আমি প্রধানমন্ত্রীর জন্য দুই হাত তুলে দোয়া করছি আল্লাহ যেন উনাকে সব সময় ভালো রাখেন।

“আশ্রয়ণের অধিকার শেখ হাসিনার উপহার” শ্লোগানে মুজিব বর্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসাবে সারা দেশের মতো ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার চর নারায়ণপুর গ্রামে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য দুই শতক জমিসহ পাকাঘর নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে।

উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনির হোসেন বলেন, এই এলাকার ভূমিহীন ও গৃহহীনরা প্রধানমন্ত্রীর দেয়া জমিসহ ঘর পেয়ে এখন আনন্দ-উল্লাসে আছে। পরিবারগুলো এখন থেকে সামাজিক মর্যাদা ও নতুন ঠিকানা পাবে। এখন সবাই প্রধানমন্ত্রী জন্য দোয়া করছেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তাপশ চক্রবর্তী বলেন, যাচাই-বাছাই করে ৬৫১টি ভূমি ও গৃহহীন পরিবার শনাক্ত করে নামের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে চরনারায়ণপুরে ৪৫টি ঘর ইতোমধ্যেই নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ঘরের অনুকুলে এক লাখ ৭১ হাজার টাকা বরাদ্দ ছিল। আইনমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য আনিসুল হকের নিদের্শে ঘরগুলি উন্নতমানের সামগ্রী দিয়েই নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে।

আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূরে আলম বলেন, সারাদেশের ন্যায় প্রথম পর্যায়ে আখাউড়া উপজেলায়ও ৪৫টি পরিবারের জন্য গৃহ নির্মাণ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ২৩ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৯টায় প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঘরগুলি গৃহহীন ও ভ’মিহীন উপকারভোগীদের কাছে হস্তান্তর করবেন।

তিনি আরো বলেন, উপজেলার প্রকৃত ভূমিহীন ও গৃহহীনরা এসব জমিসহ ঘর পেয়েছেন। প্রতিটি ঘরে উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে বিদ্যুতায়ন ও পানির সু-ব্যবস্থা করে দেয়া হয়েছে।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়