পিরিয়ড নারীর কাল নয়, অহংকার

আগের সংবাদ

টিকার সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা হোক

পরের সংবাদ

বাংলাদেশের চেয়ে কম বয়সী ৫৯টি রাষ্ট্র

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২২, ২০২১ , ১০:৩১ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ২২, ২০২১ , ১০:৩১ অপরাহ্ণ

২০২১-এ বাংলাদেশ যখন স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর পূর্তি পালন করতে যাচ্ছে, তখন স্বাধীন-সার্বভৌম ১৯৫টি রাষ্ট্রের তালিকায় বাংলাদেশের চেয়ে কমবয়সি রাষ্ট্রের সংখ্যা ৫৯; সংখ্যাটা ৬০-ই হতো যদি করোনাকালীন সংকট না থাকত এবং পাপুয়া নিউগিনি সরকারের একগুঁয়েমি বাধা হয়ে না দাঁড়াত।
সম্ভাব্য ৬০তম দেশটির কথাই আগে বলি। এক সময় এর নাম ছিল জার্মান পাপুয়া নিউগিনি। তবে দ্বীপটির নাম বোগেনভাইল। ১৯৭৫-এ অস্ট্রেলিয়া যখন পাপুয়া নিউগিনিকে স্বাধীনতা দেয় দ্বীপের জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বোগেনভাইলকে পাপুয়া নিউগিনির একটি প্রদেশ হিসেবে ঠেলে দেয়া হয়। তার আগেই তারা তাদের দ্বীপকে স্বাধীন নর্থ সলোমন আইল্যান্ডস বলে ঘোষণা দিয়েছিল। ১৯৬৮ সালে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপগুলোর স্বাধীনতা আন্দোলন চলাকালে পোর্ট মোরেসবি বৈঠকে বোগেনভাইলের সামনে তিনটি পথ খোলা থাকে : (১) বোগেনভাইল পাপুয়া নিউগিনির অংশ হবে, (২) বোগেনভাইল সলোমন আইল্যান্ডসের অংশ হবে, (৩) বোগেনভাইল স্বাধীন রাষ্ট্র হবে। তবে স্বাধীন হতে হলে গণভোট অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দ্বীপের অধিবাসীকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
কিন্তু কোনো গণভোট অনুষ্ঠিত হয়নি। ১৯৭৫ সালে অস্ট্রেলিয়া পাপুয়া নিউগিনিকে স্বাধীনতা দেয় এবং ব্রিটেন ১৯৭৮ সালে সলোমন আইল্যান্ডসকে স্বাধীনতা দেয়। পঁচাত্তরেই বোগেনভাইলকে পাপুয়া নিউগিনির সঙ্গে যুক্ত করা হয় এবং ছিয়াত্তরে সে দেশের একটি প্রদেশ ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে বোগেনভাইল রেভ্যুলুশনারি আর্মি গঠিত হয় এবং তারা পাপুয়া নিউগিনির সেনাবাহিনীর সঙ্গে নিয়মিত সংঘর্ষে লিপ্ত হতে থাকে। পাপুয়া নিউগিনি বনাম বোগেনভাইল জনযুদ্ধ শুরু হয়ে যায়।
আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপে ১৯৯৮তে উভয়পক্ষ অস্ত্র বিরতি দেয়। ২০০১ সালে প্রদেশ এবং রাষ্ট্রের মধ্যে বোগেনভাইল শান্তিচুক্তি সম্পাদিত হয়। এই চুক্তি অনুযায়ী স্বায়ত্তশাসিত বোগেনভাইল সরকার গঠিত হয়। চুক্তির অপর একটি শর্তে বলা হয়, আগামী দশ থেকে পনেরো বছরের মধ্যে স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে এবং তাতে যদি স্বাধীনতার পক্ষে রায় হয় সে অনুযায়ী পাপুয়া নিউগিনি সরকার ব্যবস্থা নেবে। ২০১৯-এর ২৩ নভেম্বর থেকে ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে এখানে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। ভোটার উপস্থিতি ৮৭.৫৯ শতাংশ এবং পাপুয়া নিউগিনি সরকারকে বিস্মিত করে ৯৮.৩১ ভাগ ভোট স্বাধীনতার পক্ষে পড়ে আর ১.৬৯ শতাংশ অধিকতর স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে ভোট পড়ে। স্বাধীনতার সিদ্ধান্ত তখনই হতে পারত। না হওয়ার পেছনে প্রধান কারণ যতটা না দেশের আকার কমে যাওয়া তার চেয়ে বেশি একটি গুরুত্বপূর্ণ খনি হাতছাড়া হওয়া। পানগুনা খনি তখন পড়বে বোগেনভাইলে এবং লোভনীয় বিষয় হচ্ছে এই খনিতে অন্তত ষাট বিলিয়ন ডলারের তামার মজুত রয়েছে। এই খনি থেকে এক সময় তামা উত্তোলন করা হতো, কিন্তু জনযুদ্ধ শুরু হলে ১৯৮৯ সালে তামার খনি বন্ধ করে দেয়া হয়। এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি আর্থিক উৎস কেন্দ্রীয় সরকারকে বরাবরই প্রলুব্ধ করবে।
নির্বাচন নিয়ে কোনো প্রশ্ন উঠেনি, এমনকি কেন্দ্রীয় সরকারের বোগেনভাইল বিষয়ক মন্ত্রী নির্বাচনের ফলাফল বিশ্বাসযোগ্য এবং প্রত্যাশিত। অন্যদিকে স্বায়ত্তশাসিত এই অঞ্চলের প্রশাসনিক প্রধানও বলেছেন : নির্বাচনের ফলাফল আমাদের অন্তত মনস্তাত্তি¡ক স্বাধীনতা দিয়েছে।
অস্ট্রেলীয় পর্যবেক্ষক মনে করেন স্বাধীনতার পক্ষে এমনকি ৫০ থেকে ৬০ ভাগ ভোট পড়লেও পাপুয়া নিউগিনি দ্বীপটি ধরে রাখার একটি যুক্তি খুঁজে বের করতে পারত, কিন্তু স্বাধীনতার পক্ষে এই ‘ল্যান্ডস্লাইড ভিক্টরি’ দমিয়ে রাখা অসম্ভব হবে এবং তা করতে গেলে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়বে। এদিকে পাপুয়া নিউগিনিতে কর্মরত মার্কিন দূত স্বচ্ছ একটি নির্বাচন পরিচালনা করার জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন এবং পরবর্তী রাষ্ট্র গঠন প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।
দেশীয় উপার্জনে রাষ্ট্রের চলবে কিনা- এ প্রশ্নে অর্থনৈতিক জরিপ দেখাচ্ছে আপাতত ৫৬ ভাগ খরচ দেশীয় উৎস থেকে মেটানো সম্ভব হবে, বাকিটা বৈদেশিক সহায়তা নিয়ে পূরণ করতে হবে (স্মরণ করতে চাই ১৯৭২ সালের স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের প্রথম বাজেটে দেশীয় উৎস থেকে মাত্র ৮ ভাগ অর্থ এসেছে, ৯২ ভাগই বৈদেশিক সহায়তা, এখন ঠিক উল্টো, প্রায় ৯০ ভাগই দেশীয় উৎস থেকে আহরণ করা অর্থ।) রাষ্ট্র গঠনে সহায়তার জন্য তারা অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের সহায়তা চাইবে এটা স্পষ্ট। তবে বৃহত্তর সহায়তা দিতে প্রস্তুত চীন। বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) আওতায় চীন বোগেনভাইলকে বৃহৎ সংযোগ পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করতে আগ্রহী। এটি আবার আমেরিকার জন্য মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
স্বাধীনতার পক্ষে এই গণভোটের ফলাফল আরো কয়েকটি স্বাধীনতাকামী অঞ্চলকে মূল দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হতে উৎসাহিত করবে- ইন্দোনেশিয়ার ওয়েস্ট পাপুয়া প্রদেশ এবং ফ্রান্সের অধীন নিউ ক্যালোডানিয়া। সর্বশেষ স্বাধীনতা লাভ করা রাষ্ট্র দক্ষিণ সুদান, দশ বছর আগে ৯ জুলাই ২০১১। স্বাধীনতা চাই না সুদানের অংশ হিসেবে থাকতে চাইÑ এই নিয়ে গণভোটের ছয় মাসের মধ্যে রিপাবলিক অব সাউথ সুদান নবীনতম রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এই গণভোটের ফলাফল ছিল অনুপ্রেরণাদায়ক; ৯৮.৮৩ ভাগ ভোট পড়ে পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতার পক্ষে। ১৯৫৬ থেকে ২০১১ পর্যন্ত সুদানের অংশ হিসেবে থেকে সশস্ত্র বিদ্রোহী হয়ে শেষ পর্যন্ত তারা স্বাধীনতা অর্জন করে। এদিকে ওয়েস্ট পাপুয়া অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ইন্দোনেশিয়ার গড় প্রবৃদ্ধির চেয়ে বেশি হওয়ায় সরকার সেখানকার বিপ্লব দমাতে এবং জনগণকে সন্তুষ্ট করতে বৃহৎ অবকাঠামো নির্মাণের দিকে নজর দিয়েছে। মাথাপিছু আয় যদিও একটি দেশের পূর্ণাঙ্গ আর্থিক পরিচয় বহন করে না এবং মাথাপিছু আয়ের হিসাবটিও বিতর্কিত তবুও সাধারণ আলোচনায় এই সূচকটি ব্যবহার করা যায়। এই লেখাটিতে আমি এটাই বলতে চাই যে, ‘বাংলাদেশ সেদিন স্বাধীন হয়েছে’ কিংবা ‘বাংলাদেশ নবীন রাষ্ট্র’- এ ধরনের বালখিল্যতা করার সুযোগ আর নেই। বাংলাদেশের পরেও আরও ৫৯ দেশ স্বাধীনতা লাভ করেছে। জ্যেষ্ঠতার প্রশ্নে বাংলাদেশ তার ৫০তম বর্ষের যথেষ্ট উপরে অবস্থান করছে। আমরা বরাবরই দুর্বল অর্থনীতির দেশের দিকে তাকিয়ে বলি আমরা তাদের চেয়ে ভালো আছি, সরকারের মন্ত্রীরাও এ নিয়ে বাদ্য বাজান। আজ পর্যন্ত একজন মন্ত্রীকেও বলতে শুনিনি বাংলাদেশের পরে স্বাধীনতা লাভ করেও অর্থনৈতিকভাবে অনেক দেশ বাংলাদেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে আছে।
পার্চেজিং পাওয়ার প্যারেটির (পিপিপি) হিসেবে বাংলাদেশের চেয়ে কনিষ্ঠ ৫৯ দেশের মধ্যে ৪৩ দেশের মাথাপিছু আয় বাংলাদেশের চেয়ে বেশি। যে ১৬টি দেশের আয় বাংলাদেশের চেয়ে কম সেটা খুব কম নয়, কিন্তু যেগুলোতে বেশি অনেক দেশেই তা অবিশ্বাস্য রকম বেশি। ২০১৯ সালের (করোনাকালের ঠিক আগের বছর) মাথাপিছু আয়ের হিসাবে বাংলাদেশের পেছনে থাকা দেশগুলো হচ্ছে : গিনি বিসাও, মোজাম্বিক, কমোরোস, সাও টোমে ও প্রিন্সিপে, পাপুয়া নিউগিনি, সলোমন আইল্যান্ডস, কিরিবিতি, জিম্বাবে, ভানুয়াতু, মার্শাল আইল্যান্ডস, মাইক্রোনেশিয়া, ইয়েমেন, তাজিকিস্তান, ইরিত্রিয়া, কসোভো এবং পূর্ব তিমুর।
যে ৪৩টি দেশ বাংলাদেশের পরে স্বাধীনতা লাভ করেও মাথাপিছু আয়ের হিসাবে বাংলাদেশের উপরে অবস্থান করছে, সেই দেশগুলো হচ্ছে : বাহরাইন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহামা, গ্রেনাডা, কেপভার্দে, অ্যাঙ্গোলা, সুরিনাম, সিমিলিজ, জিবুতি, টুভালু, ডমিনিকা, সেইন্ট লুইস সেইন্ট ভিনসেন্ট ও গ্রেনাডাইনস, অ্যান্টিগুয়া অ্যান্ড বারবুডা, চেলিজ, সেইন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, ব্রæনাই, লিথুয়ানিয়া, নামিবিয়া, জর্জিয়া, ক্রোয়েশিয়া, সে্লাভেনিয়া, এস্টোলিয়া, কিরগিজস্তান, রাশিয়া, বেলারুশ, মলডোভা, আজারবাইজান, উজবেকিস্তান, লাটভিয়া, ম্যাসিডোনিয়া, আর্মেনিয়া, তুর্কমেনিস্তান, ইউক্রেন, কাজাখস্তান, বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনা, চেক রিপাবলিক, পালাও, মন্টেনোগ্রা এবং সার্বিয়া।
১৯৭১-এ বাংলাদেশের স্বাধীনতার বছরে স্বাধীনতা লাভ করেছে আরো তিনটি দেশ : বাহরাইন, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত। মাথাপিছু আয়ের হিসাবে একজন বাংলাদেশির চেয়ে ১৮ গুণ বেশি আয় করে থাকে কাতারের নাগরিক। ১৯৭২-এ কোনো দেশ স্বাধীন হয়নি, ১৯৮২তেও না, ১৯৮৫, ১৯৮৭, ১৯৮৮, ১৯৮৯ তেও কোনো দেশ স্বাধীন হয়নি; ১৯৯৫ থেকে ২০০১, ২০০৭, ২০০৯, ২০১০ এবং ২০১২ থেকে ২০২০ পর্যন্ত কোনো দেশ স্বাধীন হয়নি; ২০২১-ও হয়তো এভাবেই যাবে।
আন্দোলন করে একটি দেশ থেকে বেরিয়ে এসে স্বাধীন দেশ হিসেবে অর্থনৈতিক দিক থেকে সে দেশকে ডিঙ্গিয়ে যাওয়া অবশ্যই গৌরবের এবং তা স্বাধীনতাকেও আরো যৌক্তিক করে তোলে। সুদান থেকে বেরিয়ে দক্ষিণ সুদান রিপাবলিক মাথাপিছু আয়ে এখনো সুদানের এক-তৃতীয়াংশেও পৌঁছতে পারেনি। অবশ্য আমার একদা সহপাঠী আফ্রিকান বন্ধু মুসা এনডেঙ্গু বলেন, সুদানের অধীনে দক্ষিণ সুদান আরো খারাপ অবস্থায় ছিল। ইন্দোনেশিয়া থেকে বেরিয়ে আসা পূর্ব তিমুরের মাথাপিছু আয় ইন্দোনেশিয়ানদের অর্ধেকেরও কম। ইথিওপিয়া থেকে বেরিয়ে আসা ইরিত্রিয়ার মাথাপিছু আয় ইথিওপিয়ানদের দুই-তৃতীয়াংশ; পর্তুগিজ কলোনি গিনি বিসাও স্বাধীন হওয়ার পর তাদের যে মাথাপিছু আয় পর্তুগালের নাগরিকদের আয় তার চেয়ে ষোলো গুণ বেশি। এদিক দিয়ে বাংলাদেশ প্রশংসা পেতেই পারে, পিপিপির হিসাবে একজন বাংলাদেশির মাথাপিছু আয় পাকিস্তানির চেয়ে ৪০০ ডলার বেশি। এই ব্যবধান প্রকৃতপক্ষে অন্তত ১০০০ ডলার হতো যদি না ক্যাপিটাল ফ্লাইটের ঘটনা ঘটত। মূলধন পাচারকারীদের কারো কারো নাম মাঝে মধ্যে জানা যায় কিন্তু যেসব মহারথীর প্রশ্রয়ে রাষ্ট্র এই বঞ্চনার শিকার তারা কদাচিৎ চিহ্নিত হয়ে থাকেন। প্রতিনিয়ত দেশ থেকে যে টাকা বেরিয়ে যাচ্ছে তার ক্ষুদ্রাংশই পণ্য হিসেবে ফিরে আসছে, বৃহদাংশ ব্যয় হচ্ছে ভোগে ও ভিন্ন দেশের উন্নয়নে।
বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তীতে পাকিস্তানের দিকে না তাকিয়ে আমরা দক্ষিণ কোরিয়ার দিকে তাকাই না কেন? ১৯৬০ সালে বাংলাদেশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার মাথাপিছু আয় কমবেশি ৮০ ডলার ছিল, ৬০ বছর পর ২০১৯-এর হিসাবে বাংলাদেশের আয় ৫২০০ ডলার আর দক্ষিণ কোরিয়ার ৪৩,৫২০ ডলার; মাথাপিছু আয়ে বাংলাদেশের নাগরিকের প্রায় সাড়ে আটগুণ। রাজনৈতিক অস্থিরতা, সামরিক আইন এসবের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ কোরিয়াকে এগোতে হয়েছে; দক্ষিণ কোরিয়া পেরেছে, আমরা ততটা পারিনি।
সুবর্ণজয়ন্তীর উচ্ছ্বাস প্রকাশের সময় এটাও স্মরণ রাখতে হবে- আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া সেকেন্ড হোম বানাবার টাকা পাচার করে, সেসব দেশের সবুজ কার্ড পাওয়ার উৎসব করার নাম আর যা-ই হোক, দেশপ্রেম নয়। সন্তানের ভবিষ্যতের সঙ্গে যদি দেশের ভবিষ্যৎ সরাসরি জড়িত না থাকে তাহলে সন্তান যে দেশের সবুজ কার্ডধারী হবে, মূলধনও সেদিকেই ধাবিত হবে।

ড. এম এ মোমেন : সাবেক সরকারি চাকুরে, নন-ফিকশন ও কলাম লেখক।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়