মমতাজের মৃত্যু ও শাহজাহানের হিন্দুস্তান বিক্রয়

আগের সংবাদ

কোম্যানকে ভুল প্রমাণ করেই চলছেন সুয়ারেজ

পরের সংবাদ

প্রবাসে শ্রমিক পাঠাতে নতুন বন্ধুর সন্ধানে সরকার

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২২, ২০২১ , ৯:৪০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ২২, ২০২১ , ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ

করোনার কারণে দেশে ফিরে এসে আটকে গেছে অনেক শ্রমিক। যাদের যাওয়ার কথা ছিল তাদের মধ্য থেকে অনেকেই যেতে পারেননি। যার ফলে কোভিড- ১৯ পরবর্তী সময়ে তেল নির্ভর মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে কাজের সুযোগ কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে এক প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন দেশের অভিবাসী শ্রমিকদের জন্য শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, এর বাইরেও বিকল্প শ্রমবাজার খুঁজছে সরকার।

কোন কোন দেশে নতুন করে শ্রমবাজার খোঁজা হচ্ছে জানতে চাইলে সরকারের জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মহাপরিচালক মোঃ শামসুল আলম বিবিসে বলেন, নতুন যেসব দেশে সম্ভাবনা দেখছে বাংলাদেশ সেগুলোর মধ্যে রয়েছে মধ্য এশিয়া ও পূর্ব ইউরোপের দেশ রোমানিয়া, উজবেকিস্তান এবং কাজাখস্তান। এ ছাড়াও জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং হংকং এর কথাও ভাবা হচ্ছে।

তিনি বলেন, “মরুভূমির চেয়ে এসব দেশে আবহাওয়া সহনীয়। তাছাড়া এসব দেশে কাজগুলোর ধরণ ভাল, শুধু ক্লিনারের কাজ না। বেতনও বেশি আবার শ্রমিকদের অধিকারের পরিস্থিতিও ভাল।”

অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করে এরকম সংস্থা রামরু’র নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক তাসনিম সিদ্দিকি বলেন, “২০২৫ সাল পর্যন্ত জাপান সারা বিশ্ব থেকে পাঁচ লাখ কর্মী নেবে। বাংলাদেশকে এই বাজারটা ধরতে হবে। যারা জাপানিজ ভাষা জানবে ও সেখানকার সংস্কৃতি সম্পর্কে জানবে তাদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে।”

তিনি আরও জানিয়েছেন, গত অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে দুই হাজারের মত শ্রমিক বিদেশে কাজে গেছেন।

তার মধ্যে আটশই মধ্য এশিয়ার দেশ উজবেকিস্তানে। সেখানে মধ্যপ্রাচ্যের দেশের থেকে তারা বেশি বেতন পাচ্ছেন। তবে সেখানে যেতে হলে কমপক্ষে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা থাকতে হবে। ঠিক কি কাজে সেখানে যাচ্ছেন বাংলাদেশিরা সেটি পরিষ্কার নয়।

কী ধরনের কাজে এসব দেশে শ্রমীকের চাহিদা রয়েছে জানতে চাইলে নারী অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করে এরকম সংস্থা বিএনএসকে’র নির্বাহী পরিচালক সুমাইয়া ইসলাম বলেন, “করোনাভাইরাস মহামারির কারণে ইউরোপসহ বহু দেশে বিশেষ করে বয়স্কদের কেয়ার-গিভার বা সেবাদানকারীর চাহিদা অনেক বেড়েছে। শিশুদের দেখভালের জন্য আয়া দরকার হচ্ছে। বাংলাদেশের যেসব নারীরা মধ্যপ্রাচ্যে গৃহকর্মীর কাজ করছেন তারা ইতিমধ্যেই এধরনের নার্সিং-এর অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।”

তিনি বলছেন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইউরোপের দেশগুলোতে মানুষের গড় আয়ু বেশি তাই বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বেশি।

এসব দেশে প্রচুর বয়স্ক ব্যক্তি একা থাকেন অথবা বয়স্কদের কোন বিশেষায়িত আবাসনে থাকেন। যুক্তরাজ্যে ইতিমধ্যেই অনেক বাংলাদেশি নারী, বয়স্ক ও শিশুদের সেবাদানকারী হিসেবে কাজ করছেন।

সুমাইয়া ইসলাম বলেন, যারা মধ্যপ্রাচ্যে গৃহকর্মী, বিমানবন্দর, রাস্তা ও শপিং মলে পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে কাজ করেন তারা খুব সহজেই হোটেলে নানা কাজ করতে পারবে।

বিদেশের শ্রমবাজার ধরতে হলে ওই দেশের ভাষা ও পাশাপাশি ইংরেজিতেও ভালো দক্ষ হতে হবে। এব্যাপারে তাসনিম সিদ্দিকি বলছেন, “যাওয়ার আগে কেবল দুই তিন মাসের ক্রাশ কোর্স করে কখনোই নতুন বাজার ধরা যাবে না। সেজন্য একদম স্কুল থেকেই অন্যান্য দেশের ভাষা ও সংস্কৃতিতে ওরিয়েন্টেশন দরকার।”

বিভিন্ন কারিগরি শিক্ষা, যেমন ওয়েল্ডিং, ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী মেরামত, গাড়ি মেরামত, বৈদ্যুতিক কাজ এসব কাজের শিক্ষা মাধ্যমিক স্কুল পর্যায় থেকেই শুরু করার কথা বলছেন তিনি। শিক্ষার্থীদের যার যেটাতে আগ্রহ।

নার্স ও ল্যাব টেকনিশিয়ান তৈরিতে বেসরকারি খাতের সাথে ভর্তুকি দিয়ে হলেও সরকারের প্রশিক্ষক কেন্দ্র গড়ে তোলা উচিত বলে তিনি মনে করেন। এছাড়াও কৃষিকাজে যোগ দিতে হলে কৃষি যন্ত্রপাতি, গাছের আধুনিক উপায়ে পরিচর্যা, গাছ ও তার মৌসুম সম্পর্কে প্রশিক্ষণও নিতে হবে। সূত্র: বিবিসি

এমআই

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়