কারাবিধি লঙ্ঘন করে নারীর সঙ্গে সময় কাটালেন হলমার্কের জিএম

আগের সংবাদ

তিনজনকে প্রত্যাহার, তদন্ত কমিটি গঠন

পরের সংবাদ

চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়ন ও প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২২, ২০২১ , ৯:৪০ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ২২, ২০২১ , ১০:৫১ অপরাহ্ণ

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নের জন্য ১ হাজার কোটি টাকার তহবিল ঘোষণা করেছেন। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো নির্মাণ এবং উন্নয়নের জন্য অল্প সুদে এই তহবিল ঘোষণা করেন। চলচ্চিত্র নির্মাতারা যদি প্রধানমন্ত্রীর একটা উপদেশ মেনে চলেন তাহলেই হয়তো হয়ে উঠবে আমাদের ভালো চলচ্চিত্র। বর্তমান সমাজের বিভিন্ন ইস্যুকে সিনেমাতে তুলে এনে সামাজিক বার্তামূলক চিত্রনাট্য হলে সেটা অনেকেই দেখতে চাইবেন। এখনকার সিনেপ্লেক্সগুলোতে যখন মানুষ যায় তখন বাংলা থেকে ইংরেজি সিনেমাই বেশি দেখতে যায়। কারণ সিনেপ্লেক্সে খুব কম বাংলা সিনেমা দেখানো হয়। আর হলেও অত টাকা খরচ করে বাংলা সিনেমা দেখতে ইচ্ছা করে না। কারণ একটা বাংলা সিনেমা শুরু হলে গল্পের শেষে কী হবে তা আগেই আঁচ করা যায়। গল্পের মধ্যে টান টান কোনো উত্তেজনা বা শিল্পীদের অসাধারণ অভিনয় দেখতে পাব এমন কোনো আশাও অনর্থক।

আমাদের ভালো কনটেন্টের অভাব হওয়ার কথা নয়। মোগল-ব্রিটিশ-পাকিস্তান বিজয় করা বাংলাদেশিদের বহু ভালো বিষয় আছে। জন্মলগ্ন থেকেই বিভিন্ন সময়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক নানা চলচ্চিত্র নির্মাণ হয়ে আসছে। এ দেশের সুস্থ ধারার চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে একটি বড় অংশ জুড়ে আছে এই মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক চলচ্চিত্রগুলো। ওরা ১১ জন, সংগ্রাম, একাত্তরের যীশু, হাঙ্গর নদীর গ্রেনেডগুলোতে যেমন উঠে এসেছে যুদ্ধের ভয়াবহতা তেমনি আছে নিজ জন্মভূমিকে ভালোবাসার এক অকৃত্রিম টানের চিত্র। শিশুদের জন্য সিনেমা নির্মাণ হওয়ার সময়ের দাবি। শিশুতোষ চলচ্চিত্র বা অ্যানিমেশন অভাবে আমাদের সেনামণিরা বিদেশি অ্যানিমেশন বা কার্টুন-গেমসে আসক্ত হয়ে যাচ্ছে। তাতে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আরো সুস্থ চলচ্চিত্রবিমুখ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রায় ৬০ বছর আগে ‘মুখ ও মুখোশ’ সিনেমার মধ্য দিয়ে বাংলা চলচ্চিত্রের পথচলা শুরু হয়েছিল। মাঝে অনেকটা সোনালি সময় পার করেছে এই চলচ্চিত্র। কিন্তু পাঁচ যুগ পরে এসে এখন তা অনেকটাই মুখ থুবড়ে পড়েছে। করোনাকালে দর্শক সংকট কাটাতে বাংলাদেশের সিনেমা হলগুলোতে হিন্দি ছবি চালানোর প্রস্তাবও এসেছে। সিনেমা হলগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়া ঠেকাতে এমন পদক্ষেপের বিকল্প নেই বলে নির্মাতারা মনে করলে তাতে গভীরভাবে না কোনো কাজ করা হবে নিজ সংস্কৃতির জন্য হুমকি।

চলচ্চিত্র প্রদর্শনে বিপর্যয় আসে ১৯৯৯ সাল থেকেই, কারণ হিসেবে বলা যায় তখন থেকেই অশ্লীলতানির্ভর নিম্নমানের ছবি নির্মাণ শুরু হয়। সাধারণ দর্শক তাই পরিবারের সবাইকে নিয়ে সে রকম ছবি দেখার কথা ভাবতেই পারেনি। ভালো নির্মাতার অভাবও চলচ্চিত্রের দুর্দশার মূল কারণ। কেননা এখনো দু-একটি ভালো সিনেমা এলে হলভর্তি দর্শক দেখা যায়। সিনেমা হল বন্ধের হিড়িক একুশ শতকের শুরুতেই শুরু হয়। ঢাকার ‘গুলিস্তান’ ও ‘নাজ’ সিনেমা হল ভেঙে নির্মাণ করা হয় মার্কেট কমপ্লেক্স। একইভাবে পুরান ঢাকার ‘মুন’ ও ‘স্টার’ সিনেমা হল ভেঙেও করা হয়েছে বিশাল মার্কেট। ঢাকার ‘এশিয়া’, ‘মধুমতি’তে এখন আর জমজমাট আয়োজন হয় না। আশির দশকে ঢাকা শহরে ছিল ৪৪টি সিনেমা হল। বর্তমানে কমতে কমতে সংখ্যাটি পঁচিশেরও নিচে নেমে এসেছে।

চলচ্চিত্র নির্মাণে প্রযুক্তির ব্যবহারও খুব বেশি বাড়েনি। বিগত বছরগুলোতে বিএফডিসির কোনো আধুনিকায়নই হয়নি। বিভিন্ন সূত্র বলছে ঢাকার কিছু সিনেমা হলে দীর্ঘকাল ধরে চলে আসছে বিদেশি সিনেমা। এক টিকেটে ২ ছবির এসব প্রদর্শনীতে মূলত দেখানো হয় পর্নো সিনেমা, যা খুবই বিপজ্জনক কথা।
’৯৫ এর পর থেকে আস্তে আস্তে এখন এমন দীনহীন সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির জন্য যতটানা জনগণ দায়ী তার চেয়ে বেশি স্বয়ং ইন্ডাস্ট্রি ও নির্মাতারা নিজে। ইন্ডাস্ট্রির অব্যবস্থাপনা ও পরিচালকদের অশ্লীল কনটেন্টগুলোই জনমনে বাংলা সিনেমার প্রতি বিতৃষ্ণা সৃষ্টি করেছে। সরকারি-বেসরকারিভাবে সচেতনতাই পারে আমাদের একটি সুস্থ শিল্প উপহার দিতে।

শিক্ষার্থী, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।

[email protected]

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়