তিনজনকে প্রত্যাহার, তদন্ত কমিটি গঠন

আগের সংবাদ

সাংবাদিকের মুঠোফোন কেড়ে নিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান

পরের সংবাদ

কাদেরকে কুটক্তি: একরামের বহিষ্কারের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২২, ২০২১ , ৯:৫২ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ২৩, ২০২১ , ১২:৪৪ অপরাহ্ণ

নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরীর বহিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি ও ধর্মঘট শুরু করেছেন বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা।

শুক্রবার (২২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে কটুক্তি করার প্রতিবাদে বসুরহাট রূপালী চত্বরে একরাম বিরোধী বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে ঘোষণা দিয়ে কর্মসূচি শুরু করেন আবদুল কাদের মির্জা। সময় টিভির এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।

কাদের মির্জা বলেন, একরাম চৌধুরী মাতাল অবস্থায় আমাদের নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ওবায়দুল কাদেরকে নিয়ে চরম কটুক্তি করেছে। এরপর অনেক অপেক্ষা করেছি। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নির্দেশে বসুরহাট বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল থেকে আমাদের ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিয়েছিলাম। কিন্তু আমরা বিচার পাই নি।

তাই এমপি একরামুল করিম চৌধুরীকে দল থেকে বহিষ্কার, জেলা কমিটি বাতিল ও নোয়াখালীর অপরাজনীতি অনিয়ম দুর্নীতি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তিনি বসুরহাট বঙ্গবন্ধু ম্যুরালে লাগাতার অবস্থান ধর্মঘট অব্যাহত রাখবেন বলেও ঘোষণা দেন।

তিনি আরও বলেন, নিক্সন চৌধুরীর বিষয়ে আমি কিছু বলব না, ওরা বঙ্গবন্ধু ও নেত্রীর পরিবারের লোক। উনার বিষয়ে নেত্রী চিন্তা করবেন। বঙ্গবন্ধু পরিবার হচ্ছে আমাদের আদর্শ। পরিবারের একজন অপরাধ করলে কি পুরো বঙ্গবন্ধু পরিবার দায়ী থাকবে? ওটাকে দায়ী করবেন না। শয়তান সব জায়গায় ও সব পরিবারেই আছে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খিজির হায়াত খান, সাধারণ সম্পাদক নুর নবী চৌধুরী, বসুরহাট পৌরসভা আওয়ামী লীগের উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আজম পাশা চৌধুরী রুমেল, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি গোলাম ছরওয়ার, সাধারণ সম্পাদক লুৎফুর রহমান মিন্টু, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও চরপার্বতী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম তানভীর, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নিজাম উদ্দিন মুন্না প্রমুখ।

ভিডিও বার্তায় একরামুল করিম চৌধুরী বলেন, আমি কথা বললে তো আর মির্জা কাদেরের বিরুদ্ধে কথা বলব না। আমি কথা বলব ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে। একটা রাজাকার পরিবারের লোক এই পর্যায়ে এসেছে, তাঁর ভাইকে শাসন করতে পারে না। এগুলো নিয়ে আমি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে কথা বলব। আমার যদি জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি না আসে। তাহলে আমি এটা নিয়ে শুরু করব।

লাইভ ভিডিওর বিষয়ে শুক্রবার সকালে সাংসদ মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন , আমি তো ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে কিছু বলিনি। আমি বলেছি মির্জা কাদেরের পরিবার স্বাধীনতাবিরোধী। আর কাদের ভাই হলো বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা। রাজাকার বংশের কাদের মির্জা গত এক মাস ধরে দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, এর কোনো বিচার হয় না।

একরামুল করিম চৌধুরী বলেন, মির্জা কাদেরের চাচা রাজাকার কমান্ডার ছিলেন। তাঁকে কাদের ভাইয়ের বাহিনী গুলি করে মেরেছে। তাঁর বাবা ছিলেন মুসলিম লীগার। মির্জা কাদেরের নানা ছিলেন শান্তি বাহিনীর কমান্ডার। মামা ছিলেন রাজাকার। তাঁদের পুরো বংশই ছিল রাজাকার। একটা রাজাকার বংশের লোক নিয়মিত ৩০০ সাংসদের বিরুদ্ধে বলে যাচ্ছেন, তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ভূমিকা নেই দলের ভেতর।

ভিডিওতে ওবায়দুল কাদেরের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে একরামুল করিম চৌধুরী বলেন, আমি আসলে কাদের ভাইকে নিয়ে কিছু বলিনি। গত এক মাস ধরে ধৈর্য ধরেছি। আমি মির্জা কাদেরকে উদ্দেশ করেই কথাগুলো বলেছি।’

জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি নিয়ে জটিলতা কী? জানতে চাইলে একরামুল করিম চৌধুরী বলেন, কমিটি নিয়ে কোনো ধরনের জটিলতা নেই। প্রায় পাঁচ-ছয় মাস আগে জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি কেন্দ্রে জমা দেওয়া হয়েছে, কিন্তু ওই কমিটি এখনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়