নিকোটিন নয়, সিগারেটের ধোঁয়াই মৃত্যুর কারণ

আগের সংবাদ

সাকিবের পর এবার দাদি হারালেন জামাল

পরের সংবাদ

নিষিদ্ধ ট্রাক্টরে অতিষ্ঠ জনজীবন

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২১, ২০২১ , ৮:৫১ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ২১, ২০২১ , ১০:১৭ অপরাহ্ণ

যন্ত্রদানব নিষিদ্ধ ট্রাক্টরে অতিষ্ঠ ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার সব রাস্তা। ট্রাক্টরের দৌরাত্বে প্রতিনিয়ত নষ্ট হচ্ছে কাঁচা পাকা রাস্তা। এছাড়াও এসব ট্রাক্টরের বেপরোয়া চলাচলে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। গ্রামীণ সড়কের চলাচলকারী জনসাধারণ অবৈধ ট্রাক্টরের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। উপজেলার আঞ্চলিক মহাসড়ক ও গ্রামীণ সড়কে অবাধে ধাবিয়ে বেড়াচ্ছে নিষিদ্ধ যন্ত্রদানব ট্রাক্টর। চাষাবাদের জন্য আমদানিকৃত ট্রাক্টর এখন অবৈধ ট্রাক বা পরিবহন হয়ে গ্রামীণ জনপদে সর্বনাশ ঘটাতে শুরু করেছে। বিরামহীন চলাচলে শব্দ দূষণেও আশপাশের গ্রামের মানুষ, রাস্তায় চলাচলকারী জনসাধারণ ও শিক্ষার্থীরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এসব অবৈধ যন্ত্রদানবের প্রতি নজর নেই কালীগঞ্জের প্রশাসনের।

এক দোকানি বলেন এসব ট্রাক্টরের বেপরোয়া চলাচলের কারণে গ্রামীণ রাস্তা-ঘাট ভেঙে চুরমার হয়ে গেলে। ধুলাবালির কারণে ১০ গজ দূরের কোনো দৃশ্যই দেখা যায় না। কয়েক মিনিট পর পরই একটি দুটি করে মাটি, বালি ও ইট ভর্তি ট্রলি বেপরোয়াভাবে চলাচল করছে।

জাকির হোসেন নামে এক পথচারী বলেন, উপজেলার রঘুনাথপুর বাজারের পাশে গড়ে উঠা ইট ভাটার মালিক এসব ট্রাক্টর ব্যবহার করে রাস্তাঘাট ভেঙে গুঁড়িয়ে দিচ্ছে। যে কারণে ১০ মিনিটের রাস্তায় ৩০ মিনিট সময় বেশি লাগে। পাশাপাশি ধুলার কারণে ১০ গজ দূরের কোনো চোখে পড়ে না। এসব অবৈধ ট্রাক্টরগুলো রাস্তাঘাট ও পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করলেও এসব বন্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না স্থানীয় প্রশাসন।

জানা যায়, উপজেলার সবকয়টি ইট ভাটার ইট ও মাটি পরিবহনের কাজেই মূলত ব্যবহৃত হচ্ছে এসব ট্রাক্টর। ট্রাক্টরের নেই কোন বৈধ রোডপার্মিট। তাছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্সের প্রয়োজন না হওয়ায় ১৫ থেকে ২০ বছরের শিশু- কিশোররাও এসব ট্রাক্টর অবাধে চালাবার সুযোগ পাচ্ছে। ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনা।

ভ্যান চালক বলেন, ট্রাক্টরের বেপরোয়া চলাচলের কারনে আমরা অনেক সময় বিপদে পরি, আমারা গরিব মানুষ, রাস্তায় চলার সময় ট্রাক্টর আসলে আমরা প্রায় সময় খাদে পড়ি। সরকারের কোটি কোটি টাকার রাস্তাঘাট ধ্বংস করছেন গুটিকয়েক ইটভাটার মালিক। তারা স্বল্পমূল্যে ফসলি জমির মাটি কিনে ভাটায় পরিবহনের ফলে বিলীন হচ্ছে রাস্তাঘাট।

পিরোজপুর গ্রামের শাহারুল ইসলাম বলেন, উপজেলার বারবাজার পিরোজপুরের জে কে বি ভাটার মালিক জানান, আমি এলাকার প্রভাবশালী আমার খুঁটির জোরে এসব ট্রাক্টর বহাল তবিয়তে চালাচ্ছি। আমি প্রশাসন ম্যানেজ করেই চলি, আমাকে কিছু করার ক্ষমতা নেই।

সরেজমিনে দেখা যায়, ট্রাক্টরের বেপরোয়া চলাচল গ্রামীণ রাস্তা-ঘাট ভেঙে চুরমার হয়ে যাচ্ছে। কৃষি জমির উর্বর টপসয়েল কেটে ইটভাটার সরবরাহ এবং পুকুর-দীঘিনালা ভরাট চলছে। ট্রাক্টরের অত্যাচারের মুখে গ্রামের মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। রোড পারমিশনবিহীন ট্রাক্টর ও লাইসেন্স বিহীন চালকের কারণে দোকার পাট, রাস্তা- ঘাটে চলাচলকারী মানুষ সার্বক্ষনিক উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে চলাচল করছে। বিকট শব্দে মাটি বোঝাই নিয়ে সাদা পাউডারের মতো ধুলো উড়িয়ে ধাবিয়ে চলছে। এভাবেই কালীগঞ্জ উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের পাড়া মহল্লার সড়ক ও গ্রামীণ রাস্তাসহ উপজেলার প্রত্যেক সংযুক্ত সড়ক গুলোতেই দিনরাত চষে বেড়াচ্ছে প্রায় ২ শতাধিক অবৈধ ট্রাক্টর।

তবে এলাকাবাসীরা সংশ্লিষ্ট কৃর্তপক্ষের কাছে ট্রাক্টর বন্ধের দাবি করে বলেন, আমরা বুঝতে পারি না, ট্রাক্টর চলাচল বন্ধের কাজটি কেন এতো কঠিন। ট্রাক্টর চলাচলে যাদের স্বার্থ রক্ষা হয়, তারা কী সব কিছুর ঊর্ধ্বে?

এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মাহফুজুর রহমান মিয়া বলেন, এসব টলি ট্রাক্টর রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষতি করে।

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সূবর্ণা রানী সাহা বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি নিষিদ্ধ ট্রাক্টর বন্ধের বিষয়ে আমাদের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইতোপূর্বে জেলায় কয়কেটি ভাটা মালিককে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানার আওতায় আনা হয়েছে। এ নিয়ে নিয়মিত অভিযান চলবে। উপজেলায় খুব দ্রুত এ বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়ে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে এর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থ গ্রহণ করা হবে।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়