আত্মিক স্বজন

আগের সংবাদ

আচার্য সমীপে

পরের সংবাদ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হতে পেরে আমি সত্যিই খুব গর্বিত

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২১, ২০২১ , ৯:৫৬ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ২১, ২০২১ , ৯:৫৬ অপরাহ্ণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যা বাঙালি হিসেবে আমাদের অর্জনের ও গৌরবের। আমাদের স্বাধীনতা অর্জনের প্রতিটি সংগ্রামের সূতিকাগার হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রী হতে পেরে আমি সত্যিই খুব গর্বিত।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষপূর্তি উদযাপন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় গণভবন থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আয়োজিত সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

আক্ষেপ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে আমিও আজ ঘরবন্দী। আর এ কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারলাম না। যদিও মন পড়ে আছে বিশ্ববিদ্যালয়ে। এ অবস্থা বেশিদিন থাকবে না।

শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যখন নিরস্ত্র বাঙালির ওপর হামলা চালায় তখন তারা রাজারবাগ পুলিশ ফাঁড়ি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পিলখানা এবং ৩২ নম্বরের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ি বেছে নিয়েছিল। সেদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক শিক্ষককে হত্যা করেছিল। পরবর্তীতে যখন আমাদের বিজয় সন্নিকটে সে সময় আমাদের শিক্ষকদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। আমি আজ সবাইকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি।

তিনি বলে, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আমার পরিচয় আজিমপুর গার্লস স্কুল পড়ার সময় থেকে। ৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন শুরু হলে স্কুলের দেয়াল টপকে পালিয়ে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মিছিলে অংশ নিয়েছি। এরপর কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রতিটি আন্দোলনে সক্রিয় ছিলাম।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবময় অতীতের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষে আমরা চাই এটি তার পুরোনো গৌরব ফিরে পাক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ সম্মানজনক একটি বিশ্ববিদ্যালয়। কাজেই এর পুরোনো গৌরব আবার ফিরে আসবে, এখানে জ্ঞানের চর্চা হবে, গবেষণা হবে, শিক্ষার প্রসার ঘটবে। আমাদের সকল অর্জনের বাতিঘর যেটা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সে আলো ছড়িয়ে পড়বে সারা বাংলাদেশে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘ আজ ২০২১ আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। বাংলাদেশ এই সময়ে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করছে। এই স্বাধীনতা সংগ্রামে আমাদের মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্ত্রের ঝনঝনানি শুরু হয়। অস্ত্র দিয়ে শিক্ষার্থীদের বিপথে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। নষ্ট করা হয়েছে শিক্ষার পরিবেশ।’

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি দৃষ্টিপাত করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে স্কুল প্রতিষ্ঠা করা, পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষাকে যেমন গুরুত্ব দিয়েছি সেইসঙ্গে প্রতিটি জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় করে দিয়েছি। বিভিন্ন ধরনের বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় আমরা তৈরি করে দিচ্ছি। যেটা আমি প্রথম শুরু করেছিলাম ৯৬ সালে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান শিক্ষার দিকে অনীহা ছিল। এখন তো আমরা বহুমুখী বিশ্ববিদ্যালয় করে দিচ্ছি। আমি চাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।’

এমএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়