প্রচারণার নামে শব্দদূষণ বন্ধ করুন!

আগের সংবাদ

ভ্যাকসিন নিলাম আপনিও নিন

পরের সংবাদ

শিক্ষা নিয়ে শঙ্কা দূর করতে হবে

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২০, ২০২১ , ১০:১১ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ২০, ২০২১ , ১০:১১ অপরাহ্ণ

করোনা ভাইরাসের কারণে গত বছরের মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এ পর্যন্ত ১১ বার বন্ধের নোটিস দিয়েছে সরকার। এই নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। কেউ কেউ ভাবছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার যৌক্তিকতাই আসে না। কারণ দেশের সব কিছুই স্বাভাবিক চলছে। তাহলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে কী লাভ হচ্ছে? আবার কারো মতে, শিক্ষা যাই হোক- শিশুর জীবন আগে, তাই এই পরিস্থিতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না খোলায় ভালো। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললে সরকার ভুল সিদ্ধান্ত নেবে ইত্যাদিসহ বিভিন্ন মত রয়েছে। জগতে যত মত, তত পথ রয়েছে। তাই শিক্ষা নিয়ে এই ভিন্ন মত অস্বাভাবিক কিছু না। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিষয়ে সরকারকে সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
সংবিধান স্বীকৃত মৌলিক চাহিদাগুলোর মধ্যে শিক্ষা একটি। আমার কাছে শিক্ষাকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধিকার বলে মনে হয়, কারণ ‘শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। শিক্ষার কারণেই ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত বোধ বৃদ্ধি পায়। মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের নিরাপদে রাখতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ কিন্তু শিক্ষার্থীরা কি বাস্তবে বাড়িতে থাকছে? জরিপ করে দেখেন বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে ভিড় বাড়ছে। সেখানে কারা যাচ্ছে? তাহলে সরকারের নির্দেশনা কতটা বাস্তবায়ন হচ্ছে? আশা করছি দ্রুততম সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ঘোষণা আসবে। কারণ করোনার কারণে অনেক অভিভাবক প্রতিষ্ঠান বন্ধ বা পরীক্ষা হবে কিনা- এই ভাবনায় পড়ালেখায় দায়িত্বশীল ভ‚মিকা রাখছেন না। বন্ধ প্রাইভেটসহ পড়ালেখা, দীর্ঘদিন এভাবে থাকলে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে এলেও মনোযোগ দিতে পারবে না। ফলে ঝরে পড়া ছাড়াও মধ্যম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা পরিণত হবে নিম্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীতে। শ্রেণির নির্দিষ্ট সিলেবাসটি সম্পূর্ণ না করলে আপনার সন্তান পিছিয়ে পড়বে বা পরবর্তী শ্রেণিতে তার মেধার ওপর প্রভাব পড়বে। আমার মনে হয় বিষয়টি আমরা অনেকেই ভাবছি না। অর্থাৎ পরীক্ষা না হলেও প্রথম শ্রেণির বই আপনার সন্তানকে সম্পন্ন করতে হবে। কারণ প্রথম শ্রেণির বই সম্পন্ন করলেই আপনার সন্তান দ্বিতীয় শ্রেণিতে ভালো ফল করতে পারবে। তা ছাড়া সে অনেক কিছু আয়ত্ত করতে পারবে না।
দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা এ সময় বাইরে ঘোরাঘুরি করছে, টিভি দেখে সময় ব্যয় করছে। এ ছাড়া মোবাইল ব্যবহার করে খারাপ অভ্যাস হয়ে যাচ্ছে। আমরা দেখেছি দীর্ঘদিন করোনার স্বাস্থ্যবিধি মেনে এক সময় জনগণ স্বাস্থ্যবিধির প্রতি অনীহা শুরু করে। আইন করেও তা নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। জনগণের চলাফেরায় মনে হয়েছে করোনা বিদায় নিয়েছে। ঠিক একইভাবে দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় অনেক স্থানে গোপনে পাঠদান শুরু হয়েছে। ফলে অনেকের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেক অভিভাবকের মধ্যেও শঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে। শঙ্কা কাটাতে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যবিধি দুটোর সমন্বয় করা যেতে পারে। কারণ শিক্ষা ও স্বাস্থ্য দুটোই জরুরি। তাই সরকারকে সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে শিক্ষা নিয়ে শঙ্কা দূর করতে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

সাংবাদিক ও লেখক।
[email protected]

এসএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়