হোয়াইট হাউসের শেষ দিনে ট্রাম্পকন্যা টিফিনির বাগদান

আগের সংবাদ

নৌকার বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থী হলে কঠোর ব্যবস্থা

পরের সংবাদ

রাজধানীতে ডাকাতি ও হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্তসহ গ্রেপ্তার ৬

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২০, ২০২১ , ১:৪৩ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ২০, ২০২১ , ১:৪৩ অপরাহ্ণ

রাজধানীর বিমানবন্দর থানা এলাকায় ডাকাতি ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত প্রধান অভিযুক্তসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা গুলশান বিভাগ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- সজল, মূসা, বাচ্চু, সজীব, মুন্না ও সিদ্দিক। এ সময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতিতে ব্যবহৃত একটি পিকআপ গাড়ি, চাকু ও লুন্ঠনকৃত সাত হাজার টাকা এবং একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

ডিএমপি মিডিয়া এন্ড পাবলিক রিলেশন সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বুধবার (২০ জানুয়ারি) সকাল ১১ টার দিকে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার।

তিনি বলেন, রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ বেশ কয়েকটি স্থানে পাইকারি সবজির আড়ত বসে। স্বল্প আয়ের ব্যবসায়ীরা এসব আড়ত থেকে সবজি ক্রয় করে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে। একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল সাধারণত রাত ১১টা বা ১২ টার পর হতে একটি ভাড়া করা পিকআপ নিয়ে ডাকাতির উদ্দেশ্যে বের হয়। ডাকাত দল আড়তে আসা স্বল্প আয়ের ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে। টার্গেটকৃত ব্যক্তিদের আড়তে নেয়ার উদ্দেশ্যে সুকৌশলে তাদের গাড়িতে তোলে। গাড়িতে তোলার পর যাত্রীবেশে থাকা ডাকাতদলের সদস্যরা ব্যবসায়ীদের কাছে থাকা নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এরপর চলন্ত গাড়ি থেকে তাদেরকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়।

ডিবির প্রধান আরো বলেন, ঘটনার দিন গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর, আপন মিয়া ও তার সঙ্গী নজরুল ইসলাম প্রতিদিনের ন্যায় দক্ষিণখাঁন তার বাসা থেকে কারওয়ান বাজারের উদ্দেশ্যে বের হয়। বিমানবন্দর থানার কাওলা ফুটওভার ব্রীজের পূর্ব পাশে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। অজ্ঞাতনামা ডাকাতরা পিকআপ ভ্যানযোগে এসে কারওয়ান বাজার যাবে মর্মে যাত্রী ওঠায়। ভিকটিমদ্বয় উক্ত কারওয়ান বাজারগামী পিকআপে উঠে বসে। পিকআপে ওঠার সঙ্গে-সঙ্গে পিছনে যাত্রীবেশে বসে থাকা ডাকাতরা তাদের টাকাসহ মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে চলন্ত গাড়ি থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। এ ঘটনায় ভিকটিম আপন মিয়া মারা যায়। উক্ত বিষয়ে বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা হয়। থানা পুলিশের পাশাপাশি মামলাটি তদন্ত শুরু করে ডিবি পুলিশ। এ মামলার ঘটনা তদন্তে অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করে গোয়েন্দা বিভাগ। এরপর গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯ টার দিকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, রাজধানীতে দিনের বেলা পিকআপ ও ট্রাক চলাচল করে না, রাতে চলাচল করে। তাই রাজধানীর দিন ও রাতের চিত্র ভিন্ন। স্বল্প আয়ের ব্যবসায়ীরা এমন ঘটনার সম্মুখীন হলেও সাধারণত থানায় কোনো অভিযোগ জানায় না। তাই এ ঘটনাগুলো পুলিশের অজানাই থেকে যায়। এমন ঘটনার শিকার হলে পুলিশকে অবহিত করার জন্য পুলিশের এ কর্মকর্তা সবাইকে অনুরোধ জানান।

গোয়েন্দা গুলশান বিভাগ সূত্র জানায়, গ্রেপ্তাকৃতরা আব্দুল্লাহপুর থেকে কারওয়ান বাজার, রামপুরা থেকে যাত্রাবাড়ী ও যাত্রাবাড়ী থেকে ভুলতা গাউছিয়া এলাকায় পিকআপযোগে ডাকাতি করে। পিকআপের সামনের সিটে তিনজন বসে ও বাকীরা যাত্রী বেশে পিকআপের পিছনে থাকে। ঢাকা মহানগরীর যেসব এলাকায় মাছ, ফলমূল ও সবজির পাইকারি আড়ত বসে, সেখানে যারা মালামাল ক্রয় করতে যায় তাদেরকে টার্গেট করে পিকআপের যাত্রী হিসেবে উঠায়। ঘটনার দিন তারা ভিকটিমদের কারওয়ান বাজার নেয়ার উদ্দেশ্যে সুকৌশলে পিকআপ ভ্যানে তোলে। গাড়িতে উঠার পর গ্রেপ্তারকৃত মূসা ও রফিক ভিকটিকমদ্বয়ের বুকে চাকু ধরে। পিকআপের সামনে বসা গ্রেফতারকৃত সজল পিছনে চলে আসে ও ভিকটিমদের কাছে থাকা টাকা এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এরপর ডাকাত দলের অন্যান্য সদস্যরা ভিকটিমকে পিকআপ থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। তারা সপ্তাহে একাধিক দিন ডাকাতির জন্য বের হয়। প্রতিদিন তারা কয়েকটি ডাকাতির ঘটনা ঘটায়।

এমএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়