সংবাদপত্র পর্যালোচনা

আগের সংবাদ

হাসপাতালে ভর্তি আলিয়া ভাট

পরের সংবাদ

মুজিবর্ষের গৃহ নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২০, ২০২১ , ১১:৪০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ২০, ২০২১ , ১১:৪৪ পূর্বাহ্ণ

মুজিববর্ষে কেউ গৃহহীন থাকবে না সরকারের এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে নেত্রকোনায় ইউনিয়ন পর্যায়ে ভূমি ও গৃহহীনদের জন্য ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নিলেও স্থানীয় কিছু অসাধু কর্মকর্তার কারণে শতভাগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন নেত্রকোনার সীমান্তবর্তী কলমাকান্দার লেংগুড়া আশ্রয়ন প্রকল্পের উপকারভোগীরা। জেলা প্রশাসকও প্রাথমিকভাবে অনিয়মের খবর পেয়ে ইট ও কাঠ পরিবর্তন করার কথা জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়, মুজিববর্ষে গৃহহীন থাকবে না কেউ, সরকারের এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নকল্পে নেত্রকোনায় জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধায়নে ৯৬০ জন গৃহহীনকে ঘর প্রদানের নির্মাণের কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে। এরমধ্যে জেলার দশ উপজেলায় বিভিন্ন শ্রেণিতে এসব সরকারী ঘর উপকারভোগীদের মাঝে হস্তান্তর করার সকল প্রক্রিয়াও প্রায় সম্পন্ন হয়েছে।

এরমাঝে শুধুমাত্র কলমাকান্দায় ১০১ টি ঘর নির্মাণ কাজ চলমান। কিন্তু কলমাকান্দা লেংগুড়া ইউনিয়নের আশ্রয়ন প্রকল্পে ১৬টি ঘর নদী তীরবর্তী হওয়ায় বর্ষাকালে ঘরগুলোতে পানি উঠার আশংকায় উপকারভোগীরা। এছাড়াও ঘর নির্মাণে ইট, কাঠ ও সিমেন্ট নিম্নমানের ব্যবহৃত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয় এলাকাবাসীদের।

স্থানীয় বাসিন্দা ও বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়াহাব বলেন, ঘরগুলো উঁচু না করায় এটার শতভাগ সুবিধা পাবে না, বালি বেশি পরিমানে ব্যবহার করা হচ্ছে, সিমেন্টের কোম্পানি ভালো না। এ বিষয়ে কর্মরত শ্রমিকদের অনিয়মের কথা জানতে চাইলে তারা ঠিকাদারের সাথে কথা বলতে পরামর্শ দেন বীরমুক্তিযোদ্ধাকে।

ভোক্তভোগীদের আভিযোগ নদীর তীরবর্তী নিচু স্থানে গৃহ-নির্মাণের ফলে পাহাড়ি ঢলে এসকল ঘর তলিয়ে যাওয়ার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হবে। গৃহ নির্মাণের আগে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানালেও কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন উপকারভোগীরা। ঘর প্রাপ্তির তালিকায় নাম থাকায় নাম না প্রকাশ করার শর্তে এক নারী জানান, ঘরের মেজে নিচু হয়েছে, এখানে পানি আসলে ঘরে থাকা যাবে না এটা আমি টিএনও (ইউএনও) স্যারকে জানালে তিনি বলছেন, পানি আসলে রাস্তায় থাকবা পরে সরকার আবার তোমাদের ত্রাণ দিবে। পরে আমরা গরিব মানুষ কি আর বলবো বেশি বললে যদি ঘর না পাই তাই আর কিছু বলিনি।

এদিকে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ অস্বীকার করে, কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল রানা বলেন, ঢল আসলে উপজেলা সদরও পানিতে তলিয়ে থাকে তাই বাজেট নেই মেঝে উঁচু করার তাই করিনি। সিমেন্ট ও ইটের বিষয়ে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক কাজি মো. আবদুর রহমান জানান, প্রথমদিকে নিন্মমান কাজের খবর পেয়ে শুরুতেই ইট ও পরিবর্তন করে দিয়েছি। নতুন কোন অনিয়মের অভিযোগ উঠলে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

জেলার ১০টি উপজেলায় ৯৬০টি গৃহ নির্মাণ প্রকল্পের প্রতিটি ঘর নির্মাণে বরাদ্দ রয়েছে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। বরাদ্দকৃত টাকা সঠিক ভাবে ব্যায়ের মাধ্যমে গৃহ-নির্মাণের দাবি উপকারভোগীসহ স্থানীয়দের।

পিআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়