মাঠে ফিরেই চমক দেখালেন সাকিব

আগের সংবাদ

সাকিব-হাসানের দাপটে ১২২ রানেই গুটিয়ে গেল ক্যারিবীয়রা

পরের সংবাদ

পেঁয়াজ চাষে সম্ভাবনাময় চরাঞ্চলের মাটি

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২০, ২০২১ , ২:৪৫ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ২০, ২০২১ , ২:৪৬ অপরাহ্ণ

পেঁয়াজ চাষে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে ২১টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত বৃহৎ এ উপজেলার অনাবাদি জমিসহ বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলগুলোয়। উপযোগী জমিতে যথাসময়ে পেঁয়াজের চাষ করলে বাম্পার ফলন পাওয়া যাবে বলে মনে করেন এ অঞ্চলের কৃষকরা। আগ্রহী চাষিদেরকে উন্নতমানের পেঁয়াজের বীজ, সার, সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুৎ ও ফলন উৎপাদন পরবর্তী সংরক্ষণসহ আনুষঙ্গিক সুযোগ সুবিধা দেয়া হয় তাহলে পেঁয়াজ চাষে এগিয়ে আসবেন বলে জানান চরাঞ্চলের কৃষকরা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, চরফ্যাসনে পেঁয়াজ আবাদ করার মতো হাজার,হাজার হেক্টর জমি রয়েছে। সরকার যদি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে পেঁয়াজ চাষের অনুকূলীয় জমিগুলো নির্বাচন করে চাষিদের সুযোগ সুবিধাসহ প্রণোদনা দেয় তাহলেই চরাঞ্চলগুলো হয়ে উঠবে পেঁয়াজের ভাণ্ডার। কৃষি বিশ্লেষকগণ আরও বলেন, নিজ দেশেই যদি পেঁয়াজ উৎপাদন ও সংরক্ষণ করা যায় তাহলে আমদানি কেন রপ্তানি করেও জাতীয় উন্নয়নে চরাঞ্চলের জনগোষ্ঠী অধিক ভূমিকা রাখতে পারবে।

চরফ্যাশন উপজেলার চর-কলমী, চর মালা, চর শাহজালাল, চর পাতিলা, চর কুকরি-মুকরি, ঢাল চর, তারুয়াসহ আরও একাধিক চরাঞ্চলে রয়েছে হাজার, হাজার হেক্টর জমি। এসব চরের অধিকাংশ জনগোষ্ঠী মৎস্য শিকার, গরু, মহিশ পালন ধান চাষ এবং মৌসুমী চাষাবাদসহ বাঙ্গি ও তরমুজ আবাদ করে আসছে যুগ যুগ ধরে। এ চরগুলো নদী সংলগ্ন হওয়ায় বেশিরভাগ চাষিরা সারা বছর ধান চাষ করে। অল্পসংখ্যক চাষিই মরিচসহ সাথি চাষ আলু, টমেটো, লাউ, কুমড়া এবং শসা-খিরাসহ তরমুজ বাঙ্গিও চাষ করে।

উপজেলার আমিনাবাদ ইউনিয়নের ধান চাষি কামাল উদ্দিন,এবং নীলকমল ইউনিয়নের তরমুজ চাষী খলিল মিয়া, সুমন হাওলাদার, কলমী ইউনিয়নের জামাল মুন্সি এবং ওসমানগঞ্জের ইব্রাহীম মোল্লাসহ একাধিক কৃষক জানান, ধান ও সবজীর পাশাপাশি তরমুজ চাষে প্রচুর অর্থলগ্নি করতে হয়। বৈরি আবহাওয়া না থাকলে ঘাম ঝরানো শ্রমে ভালো ফলন ও অধিক মূল্য পাওয়া যায়। তাই প্রতিবছর পৌষের শুরুতেই শুষ্ক মৌসুমে তরমুজ ও বাঙ্গির চাষ করেন এ চাষিরা। তবে অনেক মৌসুমেই বৈরী আবহাওয়ার জন্য ভালো ফলন না হওয়ায় লোকসানও গুণতে হয়েছে তাদের। সম্প্রতি বছর করোনার প্রাদূর্ভাবের শুরুতেই তরমুজের ভালো ফলন হলেও ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় হতাস হতে হয়েছে এসব চাষিদের।

তারা আরও জানান, বাণিজ্যিকভাবে চরাঞ্চলগুলো পেঁয়াজ উৎপাদনের জন্য উপযোগী। এসব জমিতে পেঁয়াজ চাষ করে আঞ্চলিক চাহিদা পূরণ করে রপ্তানি করাও সম্ভব। যদি সংশ্লিষ্ট দপ্তর প্রত্যেক উপজেলা ভিত্তিক পেঁয়াজ সংরক্ষণাগার তৈরিসহ এসব কৃষকদের উন্নত জাতের পেঁয়াজের বীজ ও সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুতের বন্দবস্ত এবং কৃষি ঋণসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা দেন তাহলে তারা পেঁয়াজ উৎপাদন করে দেশের খাদ্য চাহিদা মিটিয়ে জাতীয় অর্থনিতিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারবে বলে জানান এ চাষিরা।

কৃষি সম্প্রসারণের তথ্যমতে, অন্যান্য বছরের চেয়ে গত ১৯-২০ অর্থ বছরে উপজেলার ৬হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে তরমুজ ও বাঙ্গির আবাদ হয়েছে। এছাড়াও এ উপজেলায় আমন ধানের চাষাবাদ বেশি হওয়ায় ২০২০ ও ২১ অর্থ বছরে ৭০ হাজার ২৭৫ হেক্টর জমিতে আমন উফশি এবং স্থানীয় আমনের চাষ হয়েছে। পাইকাররা বলেন, ঝরঝঞ্চার কারণে বাম্পার ফলন না হলেও অধিক লোকসানে পড়েনি উপজেলার চাষিরা।

তবে চরফ্যাশন উপ-সহকারী কৃষি অফিসার ঠাকুর কৃষ্ণ দাস বলেন, এবছর লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৭৭ হাজার ৫৭০ হেক্টর জমিতে ধান উৎপাদন হবে। প্রতি হেক্টরে সাড়ে ৪ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও বৈরি আবহাওয়ার কারণে প্রতি হেক্টরে পৌনে ৪ মেট্রিকটন ধান উৎপাদন হয়েছে।

এ অঞ্চলের আমন ধান চাষে বীজতলা থেকে শুরু করে ফলন পরবর্তী ধানের গুদাম পর্যন্ত নিতে প্রায় ৫ মাস অর্থাৎ ১৫০ দিন বা তার চেয়েও বেশি সময় লাগলেও উন্নত মানের পেঁয়াজ ঘরে তুলতে প্রায় সাড়ে ৩মাস অর্থাৎ ১১৫ দিনের বেশি সময় লাগেনা বলে জানান উপজেলা কৃষি অফিসার আবু হাসনাইন। তিনি বলেন, বাজারে ব্রীজ ধান-৬২ এবং বিনা ধান-২১ (জীবন কাল ১০০-১০৫দিন) এর নতুন জাতের ধানের বীজ রয়েছে। এই ধানের ফলন সাড়ে ৩ মাসে অর্থাৎ ১১৫ দিনের ভেতরে ঘরে তোলা সম্ভব। তিনি আরও বলেন, চরফ্যাশনে কৃষি সম্প্রসারনের লক্ষমাত্রা অনুযায়ী মরিচের পাশাপাশি সাথি ফসল হিসেবে ২৫০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করার লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ভোলার উপপরিচালক মোহাম্মদ রাশেদ হাসনাতের সঙ্গে পেঁয়াজের সম্ভাবনা নিয়ে কথা বললে তিনি জানান, জলবায়ুগত দিক থেকে পেঁয়াজ চাষে এ অঞ্চলের মাটিতে শুষ্ক মৌসুমে জলাবদ্ধতা হয় না এবং এখানকার মাটি দো-আঁশ, এটেল দো-আঁশ, বেলে দো-আঁশ এবং পলিযুক্ত মাটি হওয়ায় ভোলার চরাঞ্চলগুলোয় পেঁয়াজের চাষ অধিক সম্ভাবনাময়।

তিনি আরও জানান, ২০২০-২১ অর্থ বছরে ৭শ ২৪ হেক্টর জমিতে পেয়াজ আবাদে সরকারি লক্ষ্য থাকলেও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি ও মরিচের সাথে আন্তঃফসল হিসেবে পেঁয়াজ চাষ সম্প্রসারণে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করায় জেলায় এক হাজার হেক্টরের অধিক জমিতে পেঁয়াজ উৎপাদনে লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হয়েছে। আশা করি, এক হাজার হেক্টরের অধীক জমিতে জেলায় এ পেঁয়াজ উৎপাদন করা হবে। ফলে দেশে পেঁয়াজের উৎপাদন অন্যান্য বছরের চেয়ে এগিয়ে যাবে এবং আমদানি নির্ভরতা কমে যাবে।

পিআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়