বিপাকে আখচাষীরা, গুড় তৈরী করে ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার চেষ্টা

আগের সংবাদ

টিকায় দশ কাজের এক কাজে বাংলাদেশ

পরের সংবাদ

দূষণমুক্ত ও বাসযোগ্য নির্মল পৃথিবী চাই

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৯, ২০২১ , ৯:৫৯ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ১৯, ২০২১ , ৯:৫৯ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশে প্লাস্টিক ব্যবহারকারীর ধরন নির্ণয়ের লক্ষ্যে বেসরকারি সংস্থা এনভায়রনমেন্ট এন্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন একটি গবেষণা করেছে। গবেষণা থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, বাংলাদেশে প্লাস্টিক দূষণের জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী তরুণ ও যুবসমাজ। তাদের ব্যবহৃত বেশিরভাগ পণ্যই সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক। সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক হলো সেসব প্লাস্টিক, যেগুলো একবার ব্যবহারের পর অকেজো হয়ে যায়। গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, বাংলাদেশে যে পরিমাণ সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক ব্যবহার করা হয়, তার শতকরা ৩৫ শতাংশ ব্যবহার করে থাকে ১৫-২৫ বছর বয়সি জনগোষ্ঠী, শতকরা ৩৩ শতাংশ ব্যবহার করে থাকে ২৬-৩৫ বছর বয়সিরা। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে, দেশে মোট ব্যবহৃত সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিকের শতকরা ৬৮ শতাংশই ব্যবহার করছে তরুণ ও যুব জনগোষ্ঠী। সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক ব্যবহারকারী এই বিশাল জনগোষ্ঠীর এমন অনেকে আছেন, যারা পরিবেশের ওপর প্লাস্টিকের বিরূপ প্রভাব নিয়ে মোটেও ভাবছে না।
আমাদের দেশ একটি নদীমাতৃক দেশ। প্লাস্টিক বর্জ্যরে অব্যবস্থাপনার ফলে কৃষিকাজের সহায়ক, হাজারো মানুষের জীবিকা নির্বাহের মাধ্যম, প্রোটিনের অন্যতম আধার এ নদীগুলো তাদের নাব্য হারিয়ে ফেলছে দিন দিন। ফলে দেশের অর্থনীতিও বিপর্যস্ত হচ্ছে। প্লাস্টিক ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ। প্রজনন ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস করে, স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাসে বিঘ্ন তৈরি করে, কখনো কখনো ক্যান্সারের মতো প্রাণঘাতী রোগও ঘটায়। তা ছাড়া প্লাস্টিক উৎপাদন প্রক্রিয়ায় প্রচুর পরিমাণে গ্রিনহাউস গ্যাসগুলোর নিঃসরণ ঘটে। সর্বোপরি, প্লাস্টিক দূষণ আমাদের অস্তিত্বর প্রশ্নে হুমকি সৃষ্টি করছে, মানবজাতিকে নিয়ে যাচ্ছে এক করুণ পরিণতির দিকে।
আমরা সাধারণত সমস্যার কথাই বলি। সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হয় না। অথচ যে কোনো ধরনের সমস্যা সমাধানে নাগরিক উদ্যোগ খুব ফলপ্রসূ হয়ে থাকে। আমাদের প্রত্যেককে নিজ নিজ জায়গা থেকে এগিয়ে আসতে হবে, প্লাস্টিক ব্যবহারের বিরুদ্ধে সচেতন হতে হবে। আগে প্রয়োজন আত্মসমালোচনা ও আত্মশুদ্ধি। পরে অন্যের ছিদ্রন্বেষণ। আর কবে হবে আমাদের বোধোদয়? সবাই প্লাস্টিক পণ্যের বিকল্প ব্যবহারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়। নিজেদের পরিবেশ নিজেরা রক্ষার চেষ্টা করি। একটি বসবাসযোগ্য সুস্থ পৃথিবী গড়ে ওঠুক আমাদের হাত ধরেই। প্লাস্টিক দূষণের মাত্রা ক্রমাগত হারে বৃদ্ধি পেতে থাকলে, অদূর ভবিষ্যতে প্লাস্টিক বর্জ্যরে নিচে চাপা পড়বে মানবসভ্যতা। সময় এখন এ মারাত্মক দূষণ ঠেকানোর জন্য সোচ্চার হওয়ার। প্লাস্টিক দূষণ হ্রাস করার জন্য আমাদের উৎপাদন ব্যবস্থা, ভোগ, বণ্টন, ভোক্তা আচরণ ও রাজনৈতিক চিন্তাচেতনায় ব্যাপক পরিবর্তন আনতে হবে। প্লাস্টিক দূষণ রোধের কার্যক্রমকে গতিশীল করে তুলতে ভোক্তা, উদ্যোক্তা, মিডিয়াকর্মী, নেতাকর্মী সবাইকে সোচ্চার হতে হবে। সাধারণ আমজনতাকে প্লাস্টিক পণ্য ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করতে হবে। পরিবেশ নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। প্লাস্টিক ব্যবহার রোধে আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে। প্লাস্টিক পণ্যের ওপর অধিকহারে শুল্কারোপ করা যেতে পারে, এতে করে এসব পণ্যের উৎপাদন কমবে দেশে। প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে পাটজাত পণ্যের ব্যবহারে মানুষজনকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। সর্বত্র পাটজাত পণ্যের প্রাপ্তি সুলভ করতে সরকার এসব পণ্য উৎপাদনে ভর্তুকি প্রদান করে উৎপাদনকারীদের উৎসাহী করে তুলতে পারেন অনায়াসে। পাশাপাশি প্লাস্টিক বর্জ্য রিসাইকেলে প্রযুক্তির ব্যবহারে পরিবেশ মন্ত্রণালয় অধিক গুরুত্বারোপ করতে পারেন। পরিবেশবাদী সংস্থাগুলোকে এগিয়ে আসতে এ কাজে। আমরা বিশ্বাস করি, ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সরকার, গণমাধ্যমকর্মী, পলিসিমেকার, নেতাকর্মীরা এই পৃথিবীর কল্যাণের কথা চিন্তা করে প্লাস্টিক দূষণের বিরুদ্ধে একযোগে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবেন।

শিক্ষার্থী, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
[email protected]

এসএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়