বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক হলেন আহমেদ জামাল

আগের সংবাদ

প্রথাগত পুলিশিং নয়, জনকল্যাণে কাজ করতে হবে

পরের সংবাদ

নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক হচ্ছে: তথ্যমন্ত্রী

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৮, ২০২১ , ৮:৩৭ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ১৮, ২০২১ , ৮:৪০ অপরাহ্ণ

তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, জনগণের স্বত:স্ফূর্ত অংশগ্রহণে পৌর নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনেও সার্বিকভাবে ৬১ শতাংশ ভোটার উপস্থিতি ছিল। ইভিএম ভোটেও উপস্থিতি ছিল ৫৭ শতাংশের বেশি। অতীতের মতো অনাকাঙ্খিত দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হয়েছে। ভারতে ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে ১৯ জন প্রাণ হারিয়েছিল। সেই তুলনায় আমাদের দেশে এ নির্বাচন অনেক শান্তিপূর্ণ হয়েছে। সোমবার সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. হাছান বলেন, দ্বিতীয় দফায় আওয়ামী লীগ ৬০ শতাংশের বেশি আর বিএনপি পেয়েছে ১৮ শতাংশ ভোট। প্রথম দফায় বিএনপির মাত্র ২ জন প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছিল, এবার ৪জন। এ নির্বাচনের পর বিএনপি মহাসচিব যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেটি স্বাভাবিক। প্রথম এবং দ্বিতীয় নির্বাচনেই তারা জনগণ কর্তৃক প্রচন্ডভাবে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। তাদের দুর্বলতা ঢাকতে আর মুখ রক্ষার জন্য এসব বক্তব্য দিচ্ছেন। জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন এবং স্থানীয় নির্বাচনে তাদের যে সাংগঠনিক দুর্বলতা তা মেনে নিয়ে তাদের কর্মপরিকল্পনা নেয়ার অনুরোধ করছি। তবেই বিএনপি লাভবান হবে। এরপরেও বিএনপি কয়েকটি আসনে নির্বাচিত হয়েছে।

সহিংসতার কথা উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সিলেটের একটি পৌরসভায় বিএনপির কর্মীরা আমাদের প্রার্থীর গাড়ি ভেঙ্গে দিয়েছে, অনেকে আহত হয়েছেন। তারা এরকম বহু জায়গায় হামলা চালিয়েছে। বিদ্রোহী প্রার্থী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের বিদ্রোহী প্রার্থীদের ব্যাপারে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ইতিপূর্বেও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এখনো যারা বিদ্রোহী হয়েছেন তাদের ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। মির্জা আব্দুল কাদেরকে নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ড. হাছান বলেন, তিনি তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের সম্মিলিত ভোটের চেয়ে তিনগুণ ভোট বেশি পেয়েছেন। এজন্য কাদের মির্জা নিশ্চয়ই অভিনন্দন পাওয়ার যোগ্য।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্য ‘বাংলাদেশ ভবিষ্যতে আল-কায়েদার কর্মক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে’- এবিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে আল-কায়েদার কোনো উপস্থিতি নেই। যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অজ্ঞতাবশত যখন এই বক্তব্য রাখেন, সেটি খুবই দুঃখজনক। সরকারের পক্ষ থেকে এর তীব্র প্রতিবাদ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জানানো হয়েছে। আজকের বাস্তবতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যেভাবে সহিংসতা দেখা দিয়েছে, সেখানে পার্লামেন্টে হামলায় কয়েকজন নিহত হয়েছেন, যা আমাদের দেশ কিম্বা আশেপাশের কোনো দেশে কখনো হয়নি। এফবিআই তথ্য দিচ্ছে, তাদের আশঙ্কা যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট শপথ নেয়ার দিন দিন সারাদেশে সহিংসতা ছড়াতে পারে। পৃথিবীর অন্যান্য দেশে সন্ত্রাসবাদ দমন করা আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব এবং লক্ষ্য। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমি মনে করি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসবাদ এবং বর্ণবাদ এ দুটির ব্যাপারে তাদের আরো মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন।

সম্প্রতি রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে বিএনপি ও জামায়াতের দোয়া মাহফিলে সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে- এবিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা সবসময় বলে আসছি, জনগণ কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত বিএনপি এবং দেশে আরো কিছু গোষ্ঠি সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। শেষ পর্যন্ত দেখতে পেলাম, দোয়া-মাহফিলকেও ষড়যন্ত্রের অংশ এবং উপলক্ষ্য হিসেবে নেয়া হয়েছে। এটি আসলেই দুঃখজনক। এ ধরণের ষড়যন্ত্র তারা আগেও করেছে। কিন্তু এগুলো করে লাভ হবে না।

এসএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়