রাণীনগরে ঘর ভেঙে জায়গা দখলের অভিযোগ

আগের সংবাদ

শেখ জামালের নামে টেনিস কমপ্লেক্স

পরের সংবাদ

ধুনটে অবৈধ বালু উত্তোলনে ৭ শ্রমিকের কারাদণ্ড

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৮, ২০২১ , ৫:৪৭ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ১৮, ২০২১ , ৫:৪৭ অপরাহ্ণ

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় আওয়ামী লীগ নেতাদের অবৈধ বালু মহলে অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত। অভিযানকালে বালু উত্তোলন ও সরবরাহের কাজে নিয়োজিত ৪টি নৌকা ও ৪টি বাল্কহেড জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া বালু উত্তোলন কাজে জড়িত ৭জন শ্রমিককে গ্রেপ্তার করে ১৫ দিন করে কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রট।

দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন ধুনট উপজেলার রাধানগর গ্রামের ফরিদ সরকারের ছেলে সুজাত আলী (২৩), আব্দুর রহমানের ছেলে জেল হক (৩৫), বৈশাখী গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে সুমন সরকার (৩২), পারলীপুর গ্রামের ফজর আলীর ছেলে মহাব্বত আলী (৩২), সিরাজগঞ্জ তারাশের বিলসারা গ্রামের আছের আলীর ছেলে আলাউদ্দিন (৫০), টাঙ্গাইলের কালীহাতি উপজেলার গোহালীয়া গ্রামের আজাহার মন্ডলের ছেলে ঠান্ডু মিয়া (৩৫), বেড়িপটল গ্রামের শরিফুল ইসলামের ছেলে হোসেন আলী (২৫)।

সোমবার দুপুর ১২টায় ধুনট থানা থেকে গ্রেপ্তারকৃত শ্রমিকদের বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে রবিবার রাতে উপজেলার ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়নের যমুনা নদীর চর এলাকায় পুলিশের সহযোগীতায় ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তারের পর কারাদণ্ড প্রদান করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়নের পূর্বপাশ দিয়ে বয়ে গেছে যমুনা নদী। প্রতি বছর নদী ভাঙ্গনে ওই ইউনিয়নের বৈশাখী, রাধানগর, বধুয়ারভিটা, কৈয়াগাড়ি, নিউসারিয়াকান্দি, ভূতবাড়ী, শিমুলবাড়ী, পুকুরিয়া, বানিয়াজানসহ প্রায় ১০টি গ্রামের হাজার হাজার একর ফসলি জমি ও বসত ভিটা ভাঙ্গনের কবলে পড়ে যমুনায় বিলীন হয়েছে। ভাঙ্গন কবলিত এসব গ্রামের মানুষ আশ্রয় নিয়েছে নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে। বাঁধে আশ্রীত এসব মানুষ যমুনার মাছ ও চরের বিভিন্ন ধরনের ফসলের চাষাবাদ করে জিবিকা নির্বাহ করেন।

এ অবস্থায় ১৫ থেকে ২০ দিন ধরে ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়নের বৈশাখী, রাধানগর, বধুয়ারভিটা নামের কয়েকটি চরের শতশত একর জমি থেকে জোড় করে একাধিক খননযন্ত্র মেশিন বসিয়ে ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম ও ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক হযরত আলীর নেতৃত্বে সরকার দলীয় লোকজন অবৈধভাবে বালু তুলছেন।

প্রতিদিন তারা প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি খননযন্ত্র বসিয়ে বালু তুলে। বাল্কহেড ও নৌকা দিয়ে পরিবহন করে বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে বিক্রি করছেন। তাদের ভয়ে প্রতিবাদ করার সাহস নেই ভাঙ্গনকবলিত এসব এলাকার মানুষের প্রশাসনের কছে অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাননি তারা।

ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সঞ্জয় কুমার মহন্ত ভোরের কাগজকে বলেন, যমুনা নদীর চর কেটে বালু তোলার অভিযোগে ৪টি বাল্কহেড জব্দ করা হয়েছে। বালু তোলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৭জনকে গ্রেপ্তার করে ২০১০সালের বালুমহল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনের ৪(খ) ধারা অনুযায়ী ১৫দিন করে কারাদণ্ড দিয়ে থানায় সোপর্দ করা হয়। সোমবার থানা থেকে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পিআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়