অনুরূপ আইচের স্ত্রীর কাহিনী নিয়ে আসছে ‘তোর লাগিয়া’

আগের সংবাদ

করোনায় লণ্ডভণ্ড শিক্ষাব্যবস্থা পুনরুজ্জীবন সহজ হবে না

পরের সংবাদ

চীনা টিকা কার্যকারিতায় ব্রাজিলের উপলব্ধি

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৮, ২০২১ , ১০:১৪ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ১৮, ২০২১ , ১০:১৪ অপরাহ্ণ

চীনা টিকায় খুব একটা কাজ হবে না। কারণ সেই টিকা অতি নিম্নমানের। তাই এখন দেশবাসীকে বাঁচাতে ভারত থেকে ২০ লাখ কোভিডের টিকা কিনছে ব্রাজিল। ইতোমধ্যেই তারা ভারতে বিশেষ বিমান পাঠিয়েছে। মহারাষ্ট্রের পুনার সেরাম ইনস্টিটিউটের তৈরি কোভিশিল্ড কিনবে লাতিন আমেরিকার দেশটি। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার সহযোগিতায় সিরাম তৈরি করছে অত্যন্ত উচ্চমানের করোনার টিকা। চীনের সরকারি সংস্থায় তৈরি কোভিড প্রতিষেধকের তুলনায় এই টিকা অনেক বেশি কার্যকর বলে বিজ্ঞানীরা আগেই অভিমত ব্যক্ত করেছেন। ব্রাজিল সরকারও বুঝেছে চীনা টিকা অত্যন্ত নিম্নমানের। এটা দিয়ে দেশবাসীকে রক্ষা করা যাবে না। তাই ভারতের দ্বারস্থ হয়েছে ব্রাজিল।

কোভিড-১৯ নিয়ে চীনের ফের মুখ পুড়ল। গরিব দেশগুলোতে কম পয়সায় করোনার টিকা পাঠাতে গিয়ে মুখ পুড়ল কমিউনিস্ট শাসিত দেশটির। চালাকি ধরা পড়ে গিয়েছে। ব্রাজিলে প্রাথমিক পরীক্ষায় কার্যকারিতা কিছুটা বেশি ধরা পড়লেও পরে জানা গিয়েছে, ৫০ শতাংশের কাছাকাছি চীনা টিকার সাফল্যের হার। নিম্নমানের এই টিকা ইতোমধ্যেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পৌঁছে যাওয়ায় চারদিকে শুরু হয়েছে চীনের সমালোচনা। করোনাকে এমনিতেই অনেকে চীনা ভাইরাস বলে কটাক্ষ করেন। এখন উন্নয়নশীল দেশগুলোতে পাঠানো চীনা টিকা নিয়েও শুরু হয়েছে বিরূপ সমালোচনা। অথচ লাতিন আমেরিকা থেকে শুরু করে আফ্রিকা ও এশিয়ার বহু দেশই আস্থা রেখেছিল চীনা টিকার ওপর। চীনা টিকা সম্পর্কে বলা হয়েছিল, সাধারণ রেফ্রিজারেটরেই রাখা যায় এটিকে। দামও কম। আবার সহজেই পরিবহনও করা যায় এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায়। তাই পাশ্চাত্যের ধনী দেশের দিকে না তাকিয়ে বহু দেশই চীনা ফাঁদে পা দিয়েছিল।

ব্রাজিলে প্রথম থেকেই অবশ্য করোনাভ্যাক নিয়ে বিভ্রান্তি ধরা পড়ে। ওয়ার্ল্ড স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, প্রথমে ঠিক ছিল ১৫ ডিসেম্বর বুটানটন ও সেনোভ্যাক যৌথভাবে প্রাথমিক ট্রায়ালের রিপোর্ট তুলে ধরবে ১৫ ডিসেম্বর। পরে অতিরিক্ত তথ্য সংগ্রহের উছিলায় আরো এক সপ্তাহ সময় চাওয়া হয় কার্যকারিতার রিপোর্ট প্রকাশে। এক সপ্তাহ পরও সিনোভ্যাক বা বুটানটন তুরস্ক ও ইন্দোনেশিয়া থেকে রিপোর্ট সংগ্রহের কথা বলে আরো সময় চেয়ে নেয়। আর এতেই সন্দেহ বাড়তে থাকে ব্রাজিলের বিজ্ঞানীদের। ব্রাজিল বুঝতে পেরেছে চীনা টিকা আসলে তাদের কোভিড মুক্তির পথ দেখাবে না। তাই তড়িঘড়ি করে ভারত থেকে তারা কোভিশিল্ড আমদানি করছে। শুধু ব্রাজিলই নয়, বহু দেশই চীনের এই কম দামি ভ্যাকসিনে ভরসা করতে গিয়ে এখন পস্তাচ্ছে। তারা চাইছে বরাত বাতিল করে উন্নতর মানের কোভিড ভ্যাকসিন আমদানি করতে। কিন্তু বরাত বাতিল করা নিয়েও নীরব চীন। কম দামে নির্ঝঞ্ঝাটে টিকাকরণের টোপ দিয়ে দুনিয়ার বহু দেশকে বিভ্রান্ত করার পর এখন তারা নীরব। চীনা খেলনা বা অন্যান্য সামগ্রীর মতোই করোনা টিকারও যে গুণগত মান এতটা খারাপ হবে অনেক দেশই সেটা বুঝতে পারেনি। এখন প্রায় সব দেশেই দাবি উঠছে, চীনা টিকা বাতিলের। আদ্দিকালের প্রযুক্তিতে নিম্নমানের রাসায়নিক দিয়ে তৈরি চীনা সরকারি সংস্থার কোভিড টিকা চীনকে আবার আন্তর্জাতিক দুনিয়ার সামনে প্রশ্নচিহ্নের সামনে দাঁড় করাল। শুধু ব্রাজিলই নয়, তুরস্ক ও ইন্দোনেশিয়ার মানুষও চীনের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুসছেন। হংকংয়ের বাসিন্দারাও চীনা টিকায় টিকাকরণের বিরুদ্ধে। জনমতকে উপেক্ষা করে চীনে অবশ্য পুলিশ ও সেনা দিয়ে চলছে কোভিড টিকাকরণ। অথচ আন্তর্জাতিক ছাড়পত্রই পায়নি চীনের উৎপাদিত কোভিডের টিকা।
কলাম লেখক
[email protected]

এসএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়