শুভ জন্মদিন, নির্মূল কমিটি

আগের সংবাদ

ইশরাককে আত্মসমর্পণের নির্দেশ হাইকোর্টের

পরের সংবাদ

আবারো গৃহবধূ নির্যাতন

অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৮, ২০২১ , ১০:৪৬ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ১৮, ২০২১ , ১০:৪৬ অপরাহ্ণ

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের পর একই জেলার হাতিয়ায় গৃহবধূ নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে ওই গৃহবধূকে সন্তানদের সামনে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। গত ১ জানুয়ারির ঘটনায় ৫ জানুয়ারি নির্যাতিত গৃহবধূ আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন। দেশব্যাপী যে হারে ধর্ষণের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে, তাতে উদ্বিগ্ন না হয়ে পারা যায় না। স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন ওঠে, এ কোন বর্বরতার মধ্যে আমরা বসবাস করছি? জানা যায়, গত ১ জানুয়ারি হাতিয়ার চানন্দি ইউনিয়নের আদর্শ গ্রামে ওই গৃহবধূর স্বামীর অনুপস্থিতিতে স্থানীয় জিয়া বাহিনীর প্রধান জিয়া ওরফে জিহাদ, ফারুক, এনায়েত, ভুট্টু মাঝি ঘরে ঢুকে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এতে ব্যর্থ হয়ে তারা ওই গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন চালায় এবং মোবাইল ফোনে সেই ভিডিও ধারণ করে। ২০১৯ সালের ৩০ ডিসেম্বর রাতে গণধর্ষণের শিকার হন নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চার সন্তানের এক জননী। স্বামী ও সন্তানদের বেঁধে রেখে তাকে ধর্ষণ করে ধর্ষকরা। প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ধর্ষণের শিকার বেশিরভাগই শিশু ও কিশোরী। কী ভয়াবহ ব্যাপার! জাতীয়ভাবে বড় প্রতিবাদ না হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তেমন জোরালো ভ‚মিকা দেখা যায় না। সাধারণত দরিদ্র ও দুর্বল ঘরের মেয়েরাই ধর্ষণের শিকার হয়। দীর্ঘমেয়াদে মামলা চালানোর মতো অর্থ ও সময় তাদের পরিবার দিতে পারে না। সামাজিকভাবেও তাদের অবস্থান শক্তিশালী নয়। বিপরীত দিকে অর্থবিত্ত বা সামাজিকভাবে প্রভাবশালীরা বা তাদের মদদপুষ্টরাই ধর্ষণের মতো অপরাধ করে। ফলে এসব ক্ষেত্রে পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করে, মামলা নিলেও তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে টালবাহানা করে, অপরাধীদের বাঁচিয়ে প্রতিবেদন দেয় কিংবা অপরাধী প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের দেখতে পায় না। এ রকম অভিযোগ অজস্র। ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের খবর যত বেশি পাওয়া যায়, এসব অপরাধের দায়ে অপরাধীদের শাস্তির দৃষ্টান্ত তার চেয়ে অনেক কম। ধর্ষণকারীরা এতদিনে জেনে গেছেন, ধর্ষণ করলে তাদের খুব একটা সমস্যা হবে না। ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ১ লাখ ৭০ হাজার মামলা বর্তমানে বিচারাধীন। বছরে নিষ্পত্তি হচ্ছে মাত্র ৩.৬৬ শতাংশ মামলা। আর সাজা পাচ্ছে হাজারে মাত্র সাড়ে চারজন। সাজার হার ০.৪৫ শতাংশ। তার মানে ৯৯.৫৫ শতাংশ আসামি খালাস পেয়ে যাচ্ছে। আইনে ত্রæটি, পুলিশি তদন্তে ত্রæটি ও অবহেলা, ফরেনসিক টেস্টের সীমাবদ্ধতা, প্রভাবশালীদের চাপ এবং সামাজিক কারণে এ রকম হচ্ছে। আমরা দেখতে চাই, নোয়াখালীর হাতিয়ায় গৃহবধূ নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্তদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে। কোনোভাবেই দুর্বৃত্তদের ছাড় দেয়া যাবে না।

এসএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়