শেরপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১

আগের সংবাদ

নলডাঙ্গায় পৌর মেয়র আওয়ামী লীগ প্রার্থী মনির

পরের সংবাদ

ভারতে ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু ফলাফলে নজর বাংলাদেশের

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৭, ২০২১ , ১১:৪৪ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ১৭, ২০২১ , ১১:৪৪ পূর্বাহ্ণ

আগামী কয়েকটা দিন বাংলাদেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ

দেশে সব আলোচনার মূলে এখন করোনার ভ্যাকসিন (টিকা)। দীর্ঘসময় ধরে উদ্বেগ-শঙ্কা কাটানোর পর অল্প কিছুদিনের মধ্যেই বাংলাদেশে আসতে যাচ্ছে বহুল প্রত্যাশিত ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত অক্সফোর্ড-এস্ট্রাজেনেকার করোনার টিকা। আর এরপর শুরু হতে যাচ্ছে এই টিকার গণপ্রয়োগ। এদিকে গতকাল শনিবার ভারতে করোনার গণটিকা প্রয়োগ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। শুরুতে সম্মুখসারির তিন কোটি মানুষকে টিকা দেয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে দেশটির সরকার। ওই তালিকায় স্বাস্থ্যকর্মী ছাড়াও পরিচ্ছন্নতাকর্মী, সেনাবাহিনী ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মীদের নাম রয়েছে। এই কর্মসূচিতে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট ও বায়োটেকের উৎপাদিত টিকা দেয়া হচ্ছে।

আর সিরাম উৎপাদিত করোনার টিকা বাংলাদেশে প্রয়োগ হতে যাচ্ছে ফেব্রুয়ারি মাসে। সম্প্রতি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম জানান, চলতি মাসের ২১ থেকে ২৫ জানুয়ারির মধ্যে যে কোনো দিন দেশে আসবে সিরাম উৎপাদিত টিকা। প্রথম চালানেই আসবে ৫০ লাখ ডোজ টিকা। আর সব কিছু ঠিক থাকলে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে মাঠ পর্যায়ে টিকা দেয়ার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। আর তাই ভারতে টিকাদান শুরুর বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ হচ্ছে, ভারতে ব্যবহৃত টিকা প্রয়োগ হবে বাংলাদেশেও। বাংলাদেশে যেহেতু টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ হচ্ছে না তাই ভারতে এই টিকা প্রয়োগের ফলাফল বাংলাদেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

করোনার টিকা সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করার জন্য যোগাযোগসামগ্রী তৈরির কাজে গঠিত উপকমিটির প্রধান এবং রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পরামর্শক ডা. মুশতাক হোসেন ভোরের কাগজকে বলেন, করোনা ভাইরাস এবং এই ভাইরাস প্রতিরোধে টিকা প্রয়োগের বিষয়টি সবসময়ই আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। এ সংক্রান্ত সব বিষয়ের ওপরই আমাদের পর্যবেক্ষণ আছে। তবে ভারতে টিকা প্রয়োগের বিষয়টি অবশ্যই আমাদের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। কেননা, ভারতে যে টিকা প্রয়োগ হচ্ছে ওই একই প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত টিকা বাংলাদেশেও প্রয়োগ করা হবে। এ ছাড়া বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের আবহাওয়া, নৃতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যের মধ্যে যথেষ্ট মিল রয়েছে। আর তাই সেখানে করোনার টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগের ফলাফল আমাদের জন্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

টিকাবিষয়ক বিশেষ কমিটি নাইট্যাগের (ন্যাশনাল ইমিউনাইজেশন টেকনিক্যাল এডভাইজারি গ্রুপ) এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভোরের কাগজকে বলেন, বাংলাদেশে টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ হয়নি। ভারতে যেহেতু একই প্রতিষ্ঠানের টিকা ব্যবহার হচ্ছে এবং ভারতের সঙ্গে আমাদের অনেক বিষয়ে মিলও আছে তাই সেখানে টিকা প্রয়োগের বিষয়টি আমাদের জন্য অবশ্যই ইতিবাচক। ভারতে এই টিকা কার্যকর হলে ধরেই নেয়া যায় বাংলাদেশেও এই টিকা কার্যকর হবে। তবে এটাও মানে রাখতে হবে কিছু ক্ষেত্রে হয়তো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। তবে তা খুব বেশি মারাত্মক হবে বলে মনে হয় না। কেননা, এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে যা তথ্যউপাত্ত আছে তাতে বোঝা যাচ্ছে অক্সফোর্ডের টিকার ‘মারাত্মক কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া’ নেই।

গতকাল শনিবার দুপুরে গাজীপুরে এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আবদুল মান্নান জানান, ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে সরকার বিনামূল্যে করোনার টিকা দিতে চাচ্ছে। অনুষ্ঠানে বেসরকারিভাবে টিকা প্রয়োগের বিষয়েও কথা বলেন তিনি।

সচিব বলেন, বেসরকারিভাবে টিকা কীভাবে প্রয়োগ হবে তা সরকার নির্ধারণ করে দেবে। তবে অবশ্যই সরকারিভাবে টিকা দেয়ার আগে নয়। দেশে করোনার টিকা উৎপাদনের বিষয়ে যাচাইবাছাই চলছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিয়ম মেনেই তার অনুমোদন দেয়া হবে।
প্রসঙ্গত; ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্য, আর্জেন্টিনা, ভারতসহ আরো কয়েকটি দেশ অক্সফোর্ড-এস্ট্রোজেনেকার টিকার জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও শিগগিরই অনুমোদন দেবে বলে আশা করছে এস্ট্রাজেনেকা।

এমআই

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়