নতুন দুই প্রণোদনা কর্মসূচির অনুমোদন

আগের সংবাদ

কাবুলে সুপ্রিম কোর্টের ২ নারী বিচারককে প্রকাশ্যে হত্যা

পরের সংবাদ

বঙ্গভ্যাক্সের পরীক্ষামূলক প্রয়োগে অনুমোদনের আবেদন

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৭, ২০২১ , ১:৪২ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ১৭, ২০২১ , ৪:১৮ অপরাহ্ণ

গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড উদ্ভাবিত করোনার টিকা ‘বঙ্গভ্যাক্স’-এর পরীক্ষামূলক প্রয়োগের নীতিগত অনুমোদনের জন্য বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা পরিষদের (বিএমআরসি) কাছে আবেদন করেছে সিআরও লিমিটেড।

গ্লোবের পক্ষ হয়ে আজ রবিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে বিএমআরসিতে ২০টি ফাইলে টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগের প্রোটোকল জমা দেয়া হয়।

আবেদনে এক সঙ্গে প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের পরীক্ষামূলক প্রয়োগের অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। মানবদেহে বঙ্গভ্যাক্সের পরীক্ষামূলক প্রয়োগের এই গবেষণায় কাজ করবেন ৫৭ জনের একটি দল। দলের প্রধান বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে হেপাটাইটিস নির্মূল বিষয়ক বিশেষজ্ঞ প্যানেলের সদস্য ও দেশের শীর্ষস্থানীয় হেপাটোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব (স্বপ্নীল)। অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব জানান, অনুমোদন পাওয়ার ১০ দিনের মধ্যেই পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু করতে পারবেন তারা। শতাধিক সেচ্ছাসেবকের প্রয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ ডিসেম্বর ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর গ্লোব বায়োটেককে বঙ্গভ্যাক্স উৎপাদনের অনুমতি দেয়। ওই সময় প্রতিষ্ঠানের গবেষনা ও উন্নয়ন বিভাগের প্রধান ডা. আসিফ মাহমুদ বলেন, পরীক্ষামূলক প্রয়োগের জন্য ভ্যাকসিন উৎপাদনের যে লাইসেন্স, তা আমরা পেয়েছি। আগামী সপ্তাহে এর জন্য বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা পরিষদে (বিএমআরসি) প্রটোকল জমা দেয়া হবে। এরপরই শুরু হবে পরীক্ষামূলক প্রয়োগের কাজ।

করোনার ভ্যাকসিন আবিস্কারের দৌড়ে গ্লোব বায়োটেকই একমাত্র বাংলাদেশি কোম্পানি। গ্লোবের ভ্যাকসিন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন ক্যান্ডিডেট তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি গত ২ জুলাই মাসে এক সংবাদ সম্মেলনে ভ্যাকসিন আবিষ্কারে সফলতার দাবি করেছিল। জানিয়েছিলো প্রতিষ্ঠানটি গত ৮ মার্চ এই ভ্যাকসিন তৈরির কাজ শুরু করে। শুরুতে ভ্যাকসিনটির নাম রাখা হয়েছিলো, ব্যানকোভিড। তবে, মুজিববর্ষের কারণে, স্বাস্থ্যসচিবের প্রস্তাবে ডিসেম্বরে তা পরিবর্তন করে ‘বঙ্গভ্যাক্স’ নাম দেয় উৎপাদক প্রতিষ্ঠান। পহেলা অক্টোবর তাদের উদ্ভাবিত ভ্যাকসিন করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সক্ষম বলে নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রতিবেদন প্রকাশ করে বায়ো-আর্কাইভ।

গত ৫ অক্টোবর সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটি দাবি করে, প্রাণীদেহে তাদের ওই সম্ভাব্য ভ্যাকসিন ‘কার্যকর ও সম্পূর্ণ নিরাপদ’ প্রমাণিত হয়েছে। তারা ঘোষণা করেছিলো সব ঠিকঠাক থাকলে ডিসেম্বরের শেষ অথবা জানুয়ারিতে তাদের উদ্ভাবিত ভ্যাকসিন আসবে। ২২ অক্টোবর এক সংবাদ সম্মেলনে গ্লোব কর্তৃপক্ষ জানায়, বাংলাদেশে নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত বংশীধর মিশ্র তাদের দেশে বঙ্গভ্যাক্সের পরীক্ষামূলক প্রয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে। নেপালের আনমোল গ্রুপের সঙ্গে দুই মিলিয়ন ডোজ ‘বঙ্গভ্যাক্স’ কেনার জন্য সমঝোতা চুক্তিও হয়। এছাড়া আরো কয়েকটি দেশ থেকেও ২০ মিলিয়ন ডোজের অর্ডার এসেছে।

প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ সেদিন জানায়, বাংলাদেশকে সন্তুষ্ট করেই তরা বাইরে সরবরাহ করব। ভ্যাকসিনের পরীক্ষামূলক প্রয়োগের জন্য আইসিডিডিআর, বির সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি করলেও পরে তা বাতিল করে গ্লোব। গত ১ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এই চুক্তি বাতিলের কথা জানানো হয়। বলা হয়’ আইসিডিডিআর, বির অনাগ্রহ দেখে তারা চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়।

এমএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়