সামাজিক ও মানসিক শক্তির সন্ধানে

আগের সংবাদ

১৩ লক্ষ টাকার হেরোইনসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক

পরের সংবাদ

পোশাকশিল্প বাঁচাতেই হবে

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৭, ২০২১ , ৯:০৩ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ১৭, ২০২১ , ৯:০৬ অপরাহ্ণ

রপ্তানিমুখী পোশাকশিল্পে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মতো প্রধান বাজারসহ নতুন বাজারে রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তৈরি পোশাকশিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাত। অনেক চড়াই-উতরাই অতিক্রম করে গত কয়েক দশকের পথপরিক্রমায় দেশের তৈরি পোশাকশিল্প আজকের এ পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে। অনেক প্রতিক‚লতা এবং দেশি ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের বেড়াজাল ছিন্ন করে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প এগিয়ে যাচ্ছে অগ্রগতির পথে। দেশের অর্থনীতিকে বেগবান করতে পোশাকশিল্পের কোনো বিকল্প নেই। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিদেশ থেকে যে রেমিট্যান্স আসছে তার অন্যতম খাত হলো গার্মেন্টস শিল্প। প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিকের তৈরি পোশাক রপ্তানি করে বাংলাদেশ প্রচুর বৈদেশিক অর্থ আয় করছে। যে কোনো দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা নিঃসন্দেহে সে দেশের শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। জানা গেছে, পোশাক রপ্তানিতে ধস নামায় শ্রমিকদের ওপরেও চাপ বাড়ছে। করোনার সময়ে প্রায় ৮ হাজার ২৯টি কলকারখানা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। এর মধ্যে তৈরি পোশাক খাতের ৭১৩টি কারখানা বন্ধ হয়েছে। ১০৬ পোশাক কারখানায় ৭০ হাজার পোশাক শ্রমিক ছাঁটাইয়ের শিকার হয়েছেন। বেতন বকেয়া, আকস্মিক ছাঁটাই ও কর্মহীনতার মুখে পড়ে ঢাকা, গাজীপুর, সাভার, নারায়ণগঞ্জের শ্রমঘন এলাকার শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ পরিস্থিতিতে সরকারের প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে ঋণ নিয়ে শ্রমিকদের বেতন চালিয়েছিলেন পোশাকশিল্প মালিকরা। করোনায় রপ্তানি খাতে সরকারের ৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা ঋণ প্যাকেজ থেকে এপ্রিল-জুনে ৩৫ লাখ পোশাককর্মীকে বেতন দেয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় চলতি বাজেট থেকে এ সহায়তা প্রদান করে। তবে শর্ত ছিল, এ ঋণ ১৮ মাসে পরিশোধ করতে হবে। আর এর গ্রেস পিরিয়ড হবে ৬ মাস। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বিজিএমইএ এই ঋণ পরিশোধের মেয়াদ ১৮ মাস থেকে বাড়িয়ে ৫ বছর এবং গ্রেস পিরিয়ড ৬ মাস থেকে বাড়িয়ে ১২ মাস করার প্রস্তাব দিয়েছে। এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি কি বিবেচনাযোগ্য? শ্রমিকদের কল্যাণের দিকে নজর দিয়ে সুরাহা হওয়া প্রয়োজন। আমরা জানি, স্বাধীনতার ৫০ বছরপূর্তিতে পোশাক রপ্তানি থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বিজিএমইএ। এই লক্ষ্যমাত্রাকে অনেকে উচ্চাভিলাষী বললেও লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব। এর জন্য বিদ্যমান অনেক সমস্যা দূর করতে হবে। বিশ^ পোশাক বাজার এখন ৬৫০ বিলিয়ন ডলারের। বাংলাদেশ এর মাত্র ৫ শতাংশ সরবরাহ করে। এ হার ৮ শতাংশে উন্নীত করতে পারলেই ৫০ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব। এই টার্গেট পূরণে প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের আন্তরিক ও বাস্তবভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা এবং তার বাস্তবায়ন। নিশ্চিত করতে হবে শ্রমিকদের চাকরি নিরাপত্তা। একই সঙ্গে পোশাকশিল্পের কর্মপরিবেশ আরো উন্নত করতে হবে। করোনাকালীন এ সময়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আমাদের সামনে এগোতে হবে।

এসএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়