চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীর ২.০৩ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি উদঘাটন

আগের সংবাদ

নিউজ ফ্ল্যাশ

পরের সংবাদ

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ঘরে তুললেন বিজয়ীরা

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৭, ২০২১ , ৮:২৭ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ১৭, ২০২১ , ৯:০১ অপরাহ্ণ

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বসেছিল ২০১৯ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আসর। প্রতি বছর এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকলেও এবার করোনাভাইরাসের কারণে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন না তিনি। গণভবন থেকে অনলাইনে ভার্চুয়ালি উপস্থিত থেকে প্রধান অতিথির দায়িত্ব পালন করেন।

রবিবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হয় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০১৯ প্রদান অনুষ্ঠান। এতে ২৬টি ক্যাটাগরিতে ছয়টি যুগ্মসহ ৩৩টি পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অনুষ্ঠানের সভাপতি তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। এখানে বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান। তথ্য সচিব খাজা মিয়া স্বাগত বক্তব্য দেন। তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বক্তব্য রাখার পর চলচ্চিত্রে বিশেষ অবদানের জন্য আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয় মাসুদ পারভেজ (সোহেল রানা) ও কোহিনুর আক্তার সুচন্দাকে।

এদিকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রাপ্তির মঞ্চে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত ও আজীবন সম্মাননাপ্রাপ্তদের জন্য বিশেষ স্বীকৃতির দাবি করেছেন মুক্তিযোদ্ধা, প্রযোজক ও চিত্রনায়ক মাসুদ পারভেজ সোহেল রানা। আজীবন সম্মাননা পুরস্কারপ্রাপ্ত এ তারকা বলেন, ‘আজীবন সম্মাননা পেয়ে আমার মিশ্র অনুভূতি হয়েছে। এক ধরনের আনন্দ-অশ্রুও হয়েছে। আবার মনে হয়েছে এরপর আমাকে আর পুরস্কারের জন্য বিবেচনা করা হবে না।

ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রতিবছর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আজীবন সম্মাননা প্রাপ্তদের ভিআইপি ঘোষণার দাবি জানাই। একই সঙ্গে অন্যান্য ক্যাটাগরিতে পুরস্কারপ্রাপ্তদের সিআইপি ঘোষণা করা দরকার। দুই বছরের জন্য হলেও। চলচ্চিত্রের সব ধরনের শিল্পী, পরিচালক ও কুশলীদের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা করার অনুরোধ করছি। আপনি যদি নির্দেশ প্রদান করেন, আমি মনে করি বিএফডিসির মহাব্যবস্থাপকের মাধ্যমে এটি করা হলে সাধারণ কোনো শিল্পী, কর্মচারী মৃত্যুর আগ পর্যন্ত না খেয়ে থাকবেন না।’ মহান মুক্তিযুদ্ধের ৩ বছর পর মাসুদ পারভেজ সোহেল রানা প্রযোজনা করেছিলেন ‘ওরা ১১ জন’ চলচ্চিত্র। যে ছবি দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সোহেল রানা তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, এক সাক্ষাৎকারে বঙ্গবন্ধু তাকে আদেশ দিয়েছেন, চলচ্চিত্রের জন্য এভাবেই কাজ করে যেতে। তার জন্যই নিজের এই প্রাপ্তি বলে মনে করেন সোহেল রানা। তাই বঙ্গবন্ধুকে তিনি উৎসর্গ করেন জীবনের সেরা পুরস্কার আজীবন সম্মাননা।

প্রধানমন্ত্রী সরাসরি উপস্থিত না থাকলেও অনুষ্ঠানে কোনো রকম ঘাটতি রাখেনি তথ্য মন্ত্রণালয়ের চলচ্চিত্র বিভাগ ও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন সংস্থা (বিএফডিসি)। চলচ্চিত্রের বিভিন্ন অঙ্গনের মানুষদের অংশগ্রহণে এবারো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান করা হয় বর্ণিল আয়োজনে। ছিল নানা রকম পরিবেশনা। আয়োজনটির উপস্থাপনা করেন অভিনেতা আনিসুর রহমান মিলন ও অভিনেত্রী আশনা হাবিব ভাবনা। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের শুরু হয় সাদিয়া ইসলাম মৌর নৃত্য পরিবেশনায়। আর শেষ হয় ওয়ার্দা রিহাবের দলের নৃত্য পরিবেশনায়। জুটি বেঁধে মঞ্চ মাতান ফেরদৌস আহমেদ ও অপু বিশ্বাস, সাইমন সাদিক ও মাহিয়া মাহি। আর এককভাবে নাচ পরিবেশন করেন নুসরাত ফারিয়া। এ ছাড়া গান পরিবেশন করেন লিজা, অলোক সেন, লুইপা ও অপু।

২০১৯ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন যারা:
আজীবন সম্মাননা (যুগ্ম): মাসুদ পারভেজ (সোহেল রানা) ও কোহিনুর আক্তার সুচন্দা । শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র (যুগ্ম): ন ডরাই ও ফাগুন হাওয়ায়। শ্রেষ্ঠ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র: নারী জীবন। শ্রেষ্ঠ প্রামাণ্য চলচ্চিত্র: যা ছিলো অন্ধকারে। শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পরিচালক: তানিম রহমান অংশু (ন ডরাই)। শ্রেষ্ঠ অভিনেতা প্রধান চরিত্রে: তারিক আনাম খান (আবার বসন্ত)। শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী প্রধান চরিত্রে: সুনেরাহ বিনতে কামাল (ন ডরাই)। শ্রেষ্ঠ অভিনেতা পার্শ্ব চরিত্রে: এম ফজলুর রহমান বাবু (ফাগুন হাওয়ায়)। শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী পার্শ্ব চরিত্রে: নারগিস আক্তার (মায়া দ্য লস্ট মাদার)। শ্রেষ্ঠ অভিনেতা/অভিনেত্রী খল চরিত্রে: জাহিদ হাসান (সাপলুডু)। শ্রেষ্ঠ শিশু শিল্পী (যুগ্ম) নাইমুর রহমান আপন (কালো মেঘের ভেলা) ও আফরীন আক্তার (যদি একদিন)। শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক: মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী ইমন (মায়া দ্য লস্ট মাদার)। শ্রেষ্ঠ নৃত্য পরিচালক: হাবিবুর রহমান (মনের মতো মানুষ পাইলাম না)।

ফেরদৌস ও অপু বিশ্বাস

শ্রেষ্ঠ গায়ক: মৃনাল কান্তি দাস (তুমি চাইয়া দেখো- শাটল ট্রেন)। শ্রেষ্ঠ গায়িকা (যুগ্ম): মমতাজ বেগম (বাড়ির ওই পূর্বধারে- মায়া দ্য লস্ট মাদার) ও ফাতিমা-তুয-যাহরা ঐশী (মায়া, মায়া রে- মায়া দ্য লস্ট মাদার)। শ্রেষ্ঠ গীতিকার (যুগ্ম): নির্মলেন্দু গুণ (ইস্টিশনে জন্ম আমার- কালো মেঘের ভেলা) ও ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী (চল হে বন্ধু চল- মায়া দ্য লস্ট মাদার)। শ্রেষ্ঠ সুরকার (যুগ্ম): প্লাবন কোরেশী (বাড়ির ওই পূর্বধারে) ও সৈয়দ মো. তানভীর তারেক (আমার মায়ের আঁচল- মায়া দ্য লস্ট মাদার)। শ্রেষ্ঠ কাহিনিকার: মাসুদ পথিক (মায়া দ্য লস্ট মাদার)। শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার: মাহবুব উর রহমান (ন ডরাই)। শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতা: জাকির হোসেন রাজু (মনের মতো মানুষ পাইলাম না)। শ্রেষ্ঠ সম্পাদক: জুনায়েদ আহমদ হালিম (মায়া দ্য লস্ট মাদার)। শ্রেষ্ঠ শিল্প নির্দেশক (যুগ্ম): মোহাম্মদ রহমত উল্লাহ বাসু ও মো. ফরিদ আহমেদ (মনের মতো মানুষ পাইলাম না)। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রাহক: সুমন কুমার সরকার (ন ডরাই)। শ্রেষ্ঠ শব্দগ্রাহক: রিপন নাথ (ন ডরাই)। শ্রেষ্ঠ পোশাক ও সাজ-সজ্জা: খোন্দকার সাজিয়া আফরিন (ফাগুন হাওয়ায়) এবং শ্রেষ্ঠ মেকআপম্যান: মো. রাজু (মায়া দ্য লস্ট মাদার)।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়