শীর্ষে বাংলাদেশ নৌবাহিনী

আগের সংবাদ

এমপি সেতু পার হবেন বলে হাসপাতালে যেতে পারেনি দগ্ধ শিশু

পরের সংবাদ

কমরেড অমল সেনের মৃত্যুবার্ষিকী

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৭, ২০২১ , ১০:১৩ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ১৭, ২০২১ , ১০:১৩ অপরাহ্ণ

নড়াইলের তেভাগা আন্দোলনের অগ্রপথিক, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাবেক সভাপতি কমরেড অমল সেনের অষ্টাদশ মৃত্যুবার্ষিকী (১৭ জানুয়ারি)। এ উপলক্ষে নড়াইল সীমান্তবর্তী বাঁকড়ীতে দুদিনব্যাপী অমল সেনের সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।

প্রথমদিন রবিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুর বারোটায় কমরেড অমল সেনের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন‘কমরেড অমল সেন স্মৃতিরক্ষা কমিটি বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। পুষ্পস্তবক অর্পন শেষে অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা সভা। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা সাতক্ষীরা-১ আসনের এমপি এ্যাডভোকেট লুৎফুল্লাহ। দ্বিতীয় দিন সোমবার কমরেড অমল সেনের মৃত্যুবার্ষিকী বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির নেতৃবৃন্দ শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন ও আলোচনা সভার আয়োজন করবে। কোভিড-১৯ বাস্তবতায় এবারের আয়োজন সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে জানালেন ‘কমরেড অমল সেন স্মৃতি রক্ষা কমিটি’র সম্পাদক অধ্যাপক রবীন্দ্রনাথ বিশ্বাস।

কমরেড অমল সেন ১৯১৪ সালের ১৯ শে জুলাই আউড়িয়ার প্রখ্যাত রায় পরিবারে মামা বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। নবম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত অবস্থায় বৃটিশবিরোধী সশস্ত্র বিপ্লবী ‘অনুশীলন’ গ্রুপের সঙ্গে সম্পর্কিত হন। তিনি মনে প্রাণে বিশ্বাস করতেন মানব জীবনের সর্বোচ্চ প্রাপ্তি হতে পারে মানব সমাজের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করা তথা শ্রমজীবী মানুষের শোষণ মুক্তির লড়াইতে অংশগ্রহণ করা। তাই তিনি পরিবারের জমিদারীর উত্তরাধিকার পরিত্যাগ করে বাড়ি ছেড়ে এক কৃষক পরিবারে এসে আশ্রয় নেন আর আমৃত্যু নিজেকে কৃষক, শ্রমিক মেহনতী মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে নিয়োজিত রাখেন।

বলার অপেক্ষা রাখে না যে, তিনিই নড়াইলের প্রথম কমিউনিস্ট আন্দোলনের সংগঠক। কিছুদিনের মধ্যে তিনি ইজারা প্রথা, হাটতোলা ইত্যাদি খাজনা বন্ধের জন্য গোবরা, আগদিয়া, তুলারামপুর, ধলগ্রাম, মাইজপাড়া এবং মাদ্রাসার হাটসহ ব্যাপক অঞ্চলে হাটতোলা বন্ধের আন্দোলনে কৃষকদের সংগঠিত এবং বিজয় লাভ করেন।

তাঁর আপোসহীন ভূমিকার কারণে জীবনের উনিশটি বছর তাকে কারান্তরীণ থাকতে হয়েছে। ১৯৭১ সালের ২৮ মার্চ স্বাধীনতাকামী বীর জনতা যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার ভেঙ্গে তাকে মুক্ত করেন এবং তিনি মুক্তিযুদ্ধ সংগঠনের কাজে আত্মনিয়োগ করেন। পার্টি কর্মীদের একাংশের সঙ্গে মতবিরোধ হলে তিনি মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি ভারত গমন করেন এবং সেখান থেকেই মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করার কাজ করে যান। স্বাধীনতার পরে তিনি বিভিন্ন কমিউনিস্ট গ্রুপকে ঐক্যবদ্ধ করেন এবং মৃত্যুর পূর্বে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন। ২০০৩ সালের ১৭জানুয়ারি বার্ধক্যজনিত কারণে ঢাকা কমিউনিটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন আজীবন বিপ্লবী কমরেড অমল সেন।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়