ভ্যাকসিন আসছে, আসুক স্বস্তিও

আগের সংবাদ

রাণীনগরে আ.লীগ নেতা মজিদের মোটর শোভাযাত্রা

পরের সংবাদ

উপজেলা প্রশাসনে দ্বন্দ্ব

স্ব-স্ব অবস্থান থেকে কাজ করার সুযোগ থাকা উচিত

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৬, ২০২১ , ১০:৪৬ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ১৬, ২০২১ , ১০:৪৬ অপরাহ্ণ

স্থানীয় সরকারের সংস্থাগুলোর কাজে কর্তৃত্ব করবে কে তা নিয়ে দ্বন্দ্ব ও বিবাদ এখন ত্রিমুখী। একদিকে রয়েছেন সংসদ সদস্য এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, অন্যদিকে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। এই ত্রিকোণ রশি টানাটানিতে নির্বাচিত স্থানীয় সরকার সংস্থাগুলো আজ ত্রিশঙ্কু অবস্থায় নিপতিত। উপজেলা প্রশাসনের ক্ষমতা নিয়ে নানা সময়ে উঠেছে নানা কথা। বারবার উদ্যোগ নেয়ার পরও চেয়ারম্যানদের ক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব হয়নি। তবে কাগজে-কলমে তাদের কিছু কাজ দেয়া হলেও মূলত সংসদ সদস্য ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলেই উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সব কাজ সম্পাদন করেন। সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসনের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হওয়ার জন্য উচ্চ আদালতে গেছেন উপজেলা চেয়ারম্যানরা। প্রশ্ন উঠছে, বারবার উপজেলা চেয়ারম্যানদের আসলে কাজ কী? উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান (দায়িত্ব, কর্তব্য ও আর্থিক সুবিধা) বিধিমালা, ২০১০ শিরোনামে নতুন বিধিমালা অনুযায়ী চেয়ারম্যানের দায়িত্ব : চেয়ারম্যান উপজেলা পরিষদের দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজ করবেন। তিনি পরিষদের সভায় সভাপতিত্ব করবেন, সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ব্যবস্থা নেবেন ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তত্ত্বাধান করবেন। পরিষদে ন্যস্ত করা বা প্রেষণে নিযুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বার্ষিক কাজকর্মের অগ্রগতি সম্পর্কে কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দেবেন। তবে বার্ষিক গোপন প্রতিবেদন (এসিআর) চেয়ারম্যান দেবেন না। সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অধস্তনের গোপন প্রতিবেদন দেবেন। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা শৃঙ্খলাবহিভর্‚ত কাজ করলে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চেয়ারম্যান লিখতে পারবেন। তবে পরিষদের নিজস্ব কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ এবং প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে তিনি শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নিতে পারবেন। আরো জানা যায়, সুষ্ঠুভাবে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উপজেলা পরিষদ ১৭টি বিষয়ে স্ট্যান্ডিং কমিটি গঠন করে। এমতাবস্থায় উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যদের মাঝে মতপার্থক্যের ভেতর দিয়ে চলছে উপজেলা পরিষদ। ফলে উপজেলা পরিষদ কাক্সিক্ষত পর্যায়ে কার্যকর হতে পারেনি বলে মনে করেন উপজেলা চেয়ারম্যানরা। সংসদ সদস্যরা সংবিধান মোতাবেক নিজ নিজ আসন থেকে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি। তাই নিজ এলাকার জনগণের ভালো-মন্দ দেখার প্রধান দায়িত্ব তো তারই। তারা যেমন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান কিংবা ইউনিয়ন পরিষদ অথবা পৌরসভার চেয়ারম্যানরাও সমভাবে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। তবে সবাই ভিন্ন ভিন্ন স্তরের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। কেউ কারো চেয়ে ‘কম নির্বাচিত’ বা ‘কম জনপ্রতিনিধি’ নয়। এখন প্রশ্ন দাঁড়ায়, কোন জনপ্রতিনিধি তাহলে কোন দায়িত্ব পালন করবে? উত্তর অতি সহজ। যে প্রতিনিধি যে কাজের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন, তিনি সেই দায়িত্ব পালন করবেন। উপজেলা পরিষদের কাজে নাক গলানো সংসদ সদস্যদের মোটেও দায়িত্ব নয়। আমরা মনে করি, উপজেলা পরিষদের গঠন ত্রæটিপূর্ণ এবং নিয়ন্ত্রিত বলেই এটি একটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাঁড়ায়নি। কারণ স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং ইউএনওরাই পুরো পরিষদ নিয়ন্ত্রণ করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট উপজেলা পরিষদ। এটি শক্তিশালী ও গতিশীল করতে হলে বিদ্যমান আইন সংশোধন করতেই হবে।

এসএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়