আনুশকাদের বাঁচাতে হলে দিশানদের ঠেকাতে হবে

আগের সংবাদ

স্ব-স্ব অবস্থান থেকে কাজ করার সুযোগ থাকা উচিত

পরের সংবাদ

ভ্যাকসিন আসছে, আসুক স্বস্তিও

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৬, ২০২১ , ১০:৪৩ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ১৬, ২০২১ , ১০:৪৩ অপরাহ্ণ

প্রতি ডোজ ভ্যাকসিন সাধারণের জন্য ১ হাজার ১২৫ টাকায় বাংলাদেশের বাজারে বিক্রির প্রক্রিয়াও শুরু করতে যাচ্ছে! ভ্যাকসিনের এমন উচ্চ মূল্য সাধারণের জন্য কতটা মানবিক হবে তা বলাই বাহুল্য। পরিকল্পিত এবং মানবিকভাবে ভ্যাকসিনের প্রয়োগই আমাদের প্রত্যাশা। সর্বোপরি, ভ্যাকসিন আমদানি, পরিকল্পিত প্রয়োগ, ব্যবসায় ও রাজনীতির ক্ষেত্রে কী অবস্থা সৃষ্টি করে তাই দেখার অপেক্ষা আমাদের।

বিশ্বব্যাপী মানুষকে আতঙ্কিত করে একটি বছর কোভিড-১৯ দাপটের সঙ্গে তার সক্রিয় অস্তিত্বের প্রমাণ রেখে চলেছে। আশার কথা, এরই মধ্যে বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীর নিরলস প্রচেষ্টায় কোভিড-১৯ প্রতিরোধের ভ্যাকসিনও বাজারে আসছে। তাই দীর্ঘ আতঙ্কিত জীবনে ক্রমে মানুষের মনে স্বস্তিও ফিরে আসছে। কিন্তু ইউরোপের কয়েকটি দেশে এখনো করোনা পরিস্থিতি বিপজ্জনক থাকায় সেসব দেশে আতঙ্ক আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে। লকডাউন দীর্ঘস্থায়িত্ব অর্জনের মাধ্যমে মানুষের আতঙ্ককেও আরো প্রলম্বিত করেছে। ব্যবসায় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ নানা ধরনের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডও স্থবির হয়ে পড়েছে। সে তুলনায় বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি এখনো সহনীয়তার মাত্রা অতিক্রম করেনি।
এই লেখা যখন লিখছি (১৫ জানুয়ারি সন্ধ্যা) তখন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রেস বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা গেল দীর্ঘ ৮ মাস পর করোনায় মৃতের সংখ্যা গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বনিম্ন। বিগত দুটি সপ্তাহের মধ্যে কেবল একদিন ২৪ ঘণ্টায় মৃতের সংখ্যা ৩০ অতিক্রম করলেও অন্যান্য দিনে ছিল ৩০-এর নিচে। ১৫ জানুয়ারি ২৪ ঘণ্টায় সর্বনি¤œ মৃত্যু ১৩। সাম্প্রতিক প্রবণতাদৃষ্টে বলা যায়, দেশে করোনা পরিস্থিতি কিছুটা হলেও ভালো।
শীত মৌসুম শুরুর আগে অনেকেই আশঙ্কা করেছিলেন বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতির অবনতি ঘটবে। কোভিড-১৯-এর দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হবে শীতকালেই। যদিও শীত শেষ হয়নি তবু সার্বিক গতি প্রকৃতিদৃষ্টে বলা যায়, এখনো দেশে করোনা পরিস্থিতির তেমন অবনতি হয়নি। নতুন বছরের প্রথম মাসের অর্ধেক অতিবাহিত হয়েছে। জানুয়ারির এই অর্ধেক সময়ে আমরা বরং আক্রান্তের হার দিন দিন হ্রাস পেতেই দেখছি। মৃত্যু হার ১.৪৬ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১.৪৯ হলেও দৈনিক মৃত্যু কমেছে। পূর্বেই যেমনটি উল্লেখ করা হয়েছে, এ মাসে একদিনই কেবল মৃত্যুর সংখ্যা ৩০ অতিক্রম করেছিল। সুতরাং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত নিয়মিত তথ্য বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, এ মাসে দৈনিক মৃত্যু ১৩ থেকে ৩১-এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। দৈনিক মৃত্যু কমলেও শতকরা মৃত্যুর হার খানিকটা বেড়েছে। অন্যদিকে সুস্থতার হার বৃদ্ধি পেয়েও ৮৯.৪৪ হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, শীতকালে সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কায় সাধারণের মধ্যে মাস্ক ব্যবহারে আগ্রহ সৃষ্টি হওয়ায় আক্রান্তের হার ক্রমহ্রাসমান আছে। তবে বিশেষজ্ঞদের অভিমত এরূপ যে, টানা ৪ সপ্তাহ আক্রান্তের হার শতকরা পাঁচের কম থাকলে পরিস্থিতি বিপদসীমার নিচে বলা যাবে। ১৫ জানুয়ারি ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ৫.৫৭ শতাংশ। ১৪ জানুয়ারি ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় আক্রান্তের হার ছিল ৪.৯০ শতাংশ। এই পরিস্থিতি যদি ৪ সপ্তাহ অব্যাহত থাকে তাহলে আমাদের দেশে করোনা পরিস্থিতি বিপদসীমার নিচে থাকবে বলে আশা করা যায়। সাম্প্রতিককালে ইউরোপীয় দেশগুলোতে সংক্রমণ যাই হোক না কেন, চলতি শীত মৌসুমে বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতি অনেকটাই যে উন্নতির দিকে তাও বলা যায়। তা ছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপক জনসমাগমের মধ্যেও দেশের করোনা পরিস্থিতি মোটামুটি স্বাভাবিক আছে বলেই মনে করা যেতে পারে। করোনা পরিস্থিতি উন্নতির এ সময়েই বাংলাদেশে ভ্যাকসিন আমদানি শুরু হতে যাচ্ছে। এ খবর আমাদেরকে আরো একধাপ আশাবাদী করে।
ভ্যাকসিন আসছে শুনে আমাদের মধ্যে এক ধরনের স্বস্তিও ফিরে আসছে। শোনা যাচ্ছে, আগামী ২৫ বা ২৬ জানুয়ারির মধ্যেই ভারত থেকে ৫০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিনের প্রথম চালান আসবে। কিন্তু ভ্যাকসিনের প্রয়োগ নিয়ে স্পষ্ট নীতিমালার অভাবে কিছু দিন ধরে বিভিন্ন স্তরের মানুষের মধ্যে অস্বস্তিকর কৌত‚হল বিরাজ করছিল। কৌত‚হল বিরাজ করছিল বিভিন্ন গণমাধ্যমেরও। কারণ ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভ্যাকসিন প্রদান সংক্রান্ত কোনো নীতিমালাই প্রকাশ করেনি। তাই এই সুযোগে আমরা আমাদের মতো করেই নানান কিছু কল্পনা করে নিচ্ছিলাম! সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের বক্তব্যের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য থাকায় ভ্যাকসিন প্রয়োগে কী ধরনের নীতিমালা অনুসৃত হবে তা নিয়ে সবার মধ্যে এক ধরনের ধূম্রজালও সৃষ্টি হয়েছিল। ভ্যাকসিন আসার কাক্সিক্ষত দিনক্ষণ যত নিকটবর্তী হচ্ছে ভ্যাকসিন প্রয়োগের নীতিমালা ঠিক ততটা স্পষ্টতা পাচ্ছে না বলেও অনেকের প্রচ্ছন্ন অভিযোগ ছিল। কোনো সূত্র থেকেই জানা সম্ভব হচ্ছিল না যে, প্রথম চালানের পঞ্চাশ লাখ ভ্যাকসিন দেশের কোন সারির ব্যক্তিরা পেতে যাচ্ছেন? ‘সম্মুখসারি’র ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে চিহ্নিত করা হয়েছে- এমন কোনো তথ্যও কোনো গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়নি। তা সত্তে¡ও এমন ঘোষণা এসেছে যে, ২৬ জানুয়ারি থেকে ভ্যাকসিন গ্রহণকারীদের অনলাইনে আবেদনের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। বিভিন্ন গণমাধ্যম অনলাইন রেজিস্ট্রেশন ফরমটির নমুনাও প্রকাশ করেছে- যেখানে ভ্যাকসিন গ্রহণকারীদের কিছু অঙ্গীকার বা শর্ত মেনে নেয়ার বাধ্যবাধকতার কথা ব্যক্ত আছে।
সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ১৫ জানুয়ারি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে জানা গেল যে, কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় পরামর্শক কমিটি ভ্যাকসিন প্রদানের ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কথা উল্লেখ করেছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা দাবি করছেন, ভ্যাকসিনের মূল উদ্দেশ্য সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার হ্রাস করা। বিগত ৯ মাসের মৃত্যুর পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বয়োজ্যেষ্ঠরাই মৃত্যুহারের শীর্ষে। তাই অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বয়োজ্যেষ্ঠরাই আগে ভ্যাকসিন পাবেন। সে বিবেচনায় প্রথম ধাপে মোট জনসংখ্যার ৮.৬৮ শতাংশ অর্থাৎ দেড় কোটি মানুষকে ভ্যাকসিন দেয়া হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সায়েন্টিফিক অ্যাডভাইজরি গ্রুপ অব এক্সপার্টসের (এসএজিই) নির্দেশনা এবং দেশের সামগ্রিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় রেখে ‘অগ্রাধিকার’ তালিকা তৈরি করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। নীতিমালা অনুযায়ী প্রথম মাসে ৭৭ বছরের বেশি বয়সিদের জন্য ভ্যাকসিন দেয়া হবে। এই বয়স গ্রুপের জন্য রাখা হবে ২৪ লাখ ১৬ হাজার ৬২৬ ডোজ ভ্যাকসিন। এদের আবার দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। ৮০ বছরের বেশি রয়েছেন ১৩ লাখ ১২ হাজার ৯৭৩ জন আর ৭৭-৭৯ বছরের মধ্যে আছেন ১১ লাখ ৩ হাজার ৬৫৩ জন। আবার স্বল্পমাত্রার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জনগোষ্ঠী (যক্ষা, এইডস, ক্যানসার রোগী) ৬ লাখ ২৫ হাজার। এরাও প্রথম মাসে ভ্যাকসিন পাবেন। অন্যদিকে ৭৪-৭৬ বছরের মধ্যে রয়েছেন ৯ লাখ ৫৩ হাজার ১৫৩ জন। প্রথম পর্যায়ের দ্বিতীয় মাসে এই বয়সের সবাইকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনা হবে। ৭০-৭৩ বছরের জনগোষ্ঠী ২০ লাখ ৬ হাজার ৮৭৯ জন। তাদের ভ্যাকসিন দেয়া হবে দ্বিতীয় মাসে। ৬৭-৬৯ বছরের জনসংখ্যা ২৪ লাখ ৭৫ হাজার এবং ৬৪-৬৬ বছরের জনসংখ্যা ২৪ লাখ ৭৫ হাজার। এদের ভ্যাকসিন দেয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে পঞ্চম মাসে। ৭৭-৮০ বছরের ঊর্ধ্বে থাকা সবাইকে প্রথম মাসে ভ্যাকসিনের আওতায় আনা হবে এটিকে ‘ভালো উদ্যোগ’ বলে অনেকেই প্রশংসা করেছেন। অন্যদিকে দ্বিতীয় রাউন্ডে সত্তরোর্ধ্ব থাকা সবাই ভ্যাকসিনের আওতায় আসবেন। অর্থাৎ দুই মাসের মধ্যে আমাদের দেশের সত্তরোর্ধ্ব সবাই ভ্যাকসিনের আওতায় চলে আসবেন।
বয়োজ্যেষ্ঠদের পাশাপাশি সম্মুখযোদ্ধারূপে খ্যাত স্বাস্থ্যকর্মীদের ভ্যাকসিন প্রদান সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য বা নীতিমালা না থাকায় অস্পষ্ট ভাবনার জাল-জটিলতাও আমাদের গ্রাস করে। কেননা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বরাতে সব সময়ই আমরা শুনে আসছি যে, সম্মুখযোদ্ধাদের অর্থাৎ বিভিন্ন সারির স্বাস্থ্যকর্মীদের সর্বাগ্রে ভ্যাকসিন প্রদান করতে হবে। আমাদের দেশের স্বাস্থ্যকর্মীদের ভ্যাকসিন প্রদান সম্পর্কিত কর্মপরিকল্পনাটিও স্বচ্ছতার সঙ্গে জনসম্মুখে আনা দরকার।
ভ্যাকসিন আসছে এমন খবরে আমরা আনন্দিত হয়েছি। কিন্তু আমাদের আনন্দের মাত্রাটি আরো বিস্তৃত হতো যদি পরিপূর্ণ সরকারি ব্যবস্থাপনায় ভ্যাকসিন আমদানি, সংরক্ষণ, বিতরণ ও প্রয়োগে স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট সরকারি বিভাগগুলো যথেষ্ট সক্ষমতা দেখাতে পারত। বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের ভ্যাকসিন আমদানির প্রক্রিয়া চলছে। বেসরকারিভাবে আসছে বলেই ভ্যাকসিনের বাজার মূল্য নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যে পার্থক্য দেখছি তা মোটেই সুখকর নয়। ভারতে প্রতি ডোজ ভ্যাকসিনের মূল্য ২০০ রুপি আর বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তা ৩৪০ টাকা। অথচ রুপি এবং টাকার মূল্যমানে তেমন পার্থক্য নেই। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ রকমই সংবাদ প্রকাশ করেছে। ভ্যাকসিনের দামে এতটা তারতম্য কোনোভাবেই কাম্য ছিল না। এই তারতম্য নিয়ে সেরাম কর্তৃপক্ষের যুক্তি মেনে নেয়াও কঠিন। তারা বলছে ভারতের তুলনায় বাংলাদেশের জনসংখ্যা অনেক কম। তাই বাংলাদেশে ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রে এরূপ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। করোনার ভ্যাকসিনের দামের এই হেরফেরের পশ্চাতে তাহলে ব্যবসায়িক মনোবৃত্তি না রাজনীতি কোনটি বেশি সক্রিয় তা ভেবে দেখার অবকাশও আমাদের নেই! রয়টার্স আবার এমনও বলেছে যে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি প্রতি ডোজ ভ্যাকসিন সাধারণের জন্য ১ হাজার ১২৫ টাকায় বাংলাদেশের বাজারে বিক্রির প্রক্রিয়াও শুরু করতে যাচ্ছে! ভ্যাকসিনের এমন উচ্চ মূল্য সাধারণের জন্য কতটা মানবিক হবে তা বলাই বাহুল্য। পরিকল্পিত এবং মানবিকভাবে ভ্যাকসিনের প্রয়োগই আমাদের প্রত্যাশা। সর্বোপরি, ভ্যাকসিন আমদানি, পরিকল্পিত প্রয়োগ, ব্যবসায় ও রাজনীতির ক্ষেত্রে কী অবস্থা সৃষ্টি করে তাই দেখার অপেক্ষা আমাদের।

আহমেদ আমিনুল ইসলাম : অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।
[email protected]

এসএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়