নিউজ ফ্ল্যাশ

আগের সংবাদ

বিচ্ছিন্ন ঘটনায় শেষ হলো দ্বিতীয় ধাপের ভোটগ্রহণ

পরের সংবাদ

নায়ক নাকি চরিত্রাভিনেতা?

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৬, ২০২১ , ৪:২৭ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ১৭, ২০২১ , ৬:০৩ অপরাহ্ণ

জনি ডেপ, ব্রাড পিট, লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও নামগুলো সামনে এলেই নায়কোচিত ব্যাপার-স্যাপার নিয়ে এক কল্পনার ভুবনে ভাসতে শুরু করে মন। কিংবা হালের বলিউডের শাহরুখ খান, সালমান খান, রণবীর কাপুর কিংবা তারও আগের প্রজন্মের উত্তম কুমারকে নিয়ে নস্টালজিয়া আমাদের তরুণ প্রজন্মের কম নয়। এ ছাড়া বাংলাদেশের সালমান শাহকে ঘিরে একটা প্রজন্ম এখনো ঘোরে কাটাচ্ছে। সিনেমায় এ নায়কদের অ্যাকশন, সংলাপ, এক্সপ্রেশন দেখে কখন যে ভাবতে বসে যাওয়া হতো- ‘অভিনয়ে নাম লেখালে এদের মতো নায়ক হব।’ সে অনুযায়ী বসা হতো শরীর আকর্ষণীয় করার জন্য! কিন্তু এই নায়ক-নায়ক ব্যাপার কি আজকের সময়ে খুব একটা টানছে অভিনয়ে আসা ছেলেদের? যেখানে নায়কোচিত ব্যাপারের গুরু হলিউড পিছু হটেছে অনেকটা সময় আগেই। ইতোমধ্যেই গল্প এবং চরিত্রাভিনেতা কেন্দ্রিক সিনেমা নির্মাণে বিপ্লব সাধন করেছে হলি ইন্ডাস্ট্রি। তাদের পথে হাঁটতে শুরু করছে বলিউডও।

নায়ক-নায়ক ব্যাপারের বাইরের অভিনেতাদের নিয়ে সিনেমা নির্মাণ করে ইতোমধ্যে ব্যাপক সাড়া পেতে শুরু করেছে তারা। বৈশ্বিক সিনেমার এ পরিবর্তনের ধাক্কা এসে লেগেছে টলিউড, ঢালিউডের মতো ছোট ইন্ডাস্ট্রিগুলোতেও। এ ধাক্কা না এসেই বা উপায় কি! সমুদ্রে নামলে ছোট-বড় সব ঢেউয়ের মুখোমুখি আপনাকে তো হতেই হবে- সে আপনি একদম পাড়ে থাকুন কিংবা মাঝে। সে হিসেবানুযায়ী বাংলাদেশের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি স্বল্প পরিসরে হলেও আদিম চিন্তা থেকে বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। অভিনয়শিল্পীদেরও ভাবনার পরিবর্তন হচ্ছে ব্যাপকভাবে। নায়কোচিতভাবে নিজেকে উপস্থাপনে কসরত না করে মানসিকভাবে একজন চরিত্রাভিনেতা হিসেবে তৈরি করতে সময় দিচ্ছেন তারা।

শরীফুল রাজ

সাম্প্রতিক সময়ে তার বড়সড় প্রভাব পড়েছে ওটিটি প্ল্যাটফর্মের দরুন। মূলধারার সিনেমার বাইরে ওয়েব সিরিজ কিংবা ওয়েব ফিল্মগুলোতে চোখ রাখলে দেখা যায় নায়ক হিসেবে পরিচিত কোনো মুখ সেখানে নেই। তবে ওটিটিতে বাংলাদেশের প্রভাব তেমন না থাকলেও মূলধারার সিনেমাতে ইতোমধ্যে চরিত্রাভিনেতাদের ছোঁয়া লেগেছে। অবশ্য এর ভালো ফলাফল না পাওয়া গেলেও যাত্রাটাকে অনেকেই বাংলাদেশের সিনেমার জন্য পজিটিভ হিসেবেই দেখছেন। তরুণ প্রজন্মের বেশিরভাগ অভিনয়শিল্পীই নিজেকে চরিত্রাভিনেতা হিসেবে গড়ে তুলছেন। সা¤প্রতিক সময়ে ‘আলফা’ সিনেমায় আলমগীর কবীর, ‘ন ডরাই’ সিনেমায় শরীফুল রাজ চরিত্রকে ফুটিয়ে তুলে দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছেন। এদিকে ‘স্ফুলিঙ্গ’ সিনেমায় শ্যামল মাওলা-রওনক হাসান যুক্ত হয়ে সে ভালোবাসায় ভাগ বসিয়েছেন।

ইমতিয়াজ বর্ষণ

এ প্রজন্মের অনেক অভিনয়শিল্পীই চরিত্রকে প্রাধান্য দিচ্ছেন অভিনয়ের ক্ষেত্রে। গিয়াস উদ্দিন সেলিম নির্মিত ‘স্বপ্নজাল’ সিনেমায় একজন চরিত্রাভিনেতা হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করেছেন ইয়াশ রোহান। এ সিনেমায় অভিনয় করে দর্শকের মনে বেশ দাগ কাটতে পেরেছেন এ অভিনেতা। এ ছাড়া তার মুক্তির অপেক্ষায় থাকা ‘পরাণ’ সিনেমাতেও তাকে ভিন্ন রকম এক চরিত্রে দেখা যাবে। একইভাবে তিনি ‘আদম’ সিনেমাতেও অভিনয় করছেন নায়ক ব্যাপারটিকে দূরে সরিয়ে রেখে। এ প্রসঙ্গে ইয়াশ রোহান বলেন, ‘বিশ্ব যেদিকে চলছে আমরা চাইলেও তার উল্টো দিকে যেতে পারব না। আর যদি যাইও তবে আমাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। ফলে আজকের সময়ে গল্প, চরিত্রকে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে, দর্শকও সেটি গ্রহণ করছে। সে হিসেবে একজন অভিনেতা হওয়াই আমার মুখ্য উদ্দেশ্য। অনেকে আমাকে প্রশ্ন করে থাকেন, আমি সিনেমায় নিয়মিত নই কেন? আমি তাদের একটা কথাই বলিÑ গল্প, চরিত্র ভালো না হলে কাজ করে মজা নেই। সুতরাং আজকের দিনে সালমান-শাহরুখদের মতো নায়ক হওয়ার সময় নয়।’ তবে কি নায়কদের নস্টালজিয়া কিংবা নায়ক হতে চাওয়ার পার্ট চুকে গেছে?

এ প্রসঙ্গে ‘ঊনপঞ্চাশ বাতাস’ সিনেমায় অভিনয় করা ইমতিয়াজ বর্ষণ বলেন, ‘আমরা যাদের মেগাস্টার বা সুপারস্টার বলে জানি তাদের বাইরের অনেকেই যারা চরিত্রানুযায়ী অভিনয় করে থাকেন তারা বেশি প্রাধান্য পাচ্ছেন। এখন এটি কতদিন স্থায়ী থাকবে সেটা বলা সম্ভব হচ্ছে না। তবে ইরফান খান, নওয়াজুদ্দীন সিদ্দিকী, আমাদের দেশের চঞ্চল চৌধুরীসহ অনেকেই নায়কোচিত ব্যাপারের বাইরে চরিত্রকে ফুটিয়ে তুলেছেন এবং তুলছেন। দর্শকও তাদের অভিনয়ের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে। এখন সেই বডি, আকর্ষণীয় চেহারার চেয়ে দর্শক গল্প এবং অভিনয়টাই বেশি দেখতে চায়। যার কারণে চরিত্রাভিনেতারা অভিনয় দিয়ে একটি জায়গা করে নিতে পারছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বলতে গেলে মাত্র জার্নিটা শুরু হয়েছে। এখনই কোনো জাজমেন্টে যাওয়া যাচ্ছে না এবং যাওয়াও উচিত নয়।

তবে সামনে ভালো কিছু একটা হবে বলেই আশা করা যাচ্ছে।’ ইন্ডাস্ট্রিতে নায়ক হিসেবে আবির্ভাব ঘটা বাপ্পি চৌধুরী শোনালেন ভিন্ন কথা। তার মতে তিনি নায়ক ছিলেন নায়কই আছেন। তবে সময়ের সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে বিভিন্ন চরিত্রে নিজেকে উপস্থাপন করছেন। এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘এখন সময় হলো চরিত্রকে কেন্দ্র করে গল্পকে উপস্থাপন করা। সেখানে আমাকে সময়ের সঙ্গে চলতে গিয়ে বর্তমানে যেমন হাওয়া তেমন করেই ভাসতে হচ্ছে। কিন্তু আমি নায়ক নায়কই রয়েছি।’

ইয়াশ রোহান

বাপ্পি চৌধুরীর এ কথার রেশ ধরে একটি প্রশ্ন ওঠা কি অস্বাভাবিক যে- গল্প মুখ্য হলে, চরিত্র মুখ্য হলে নায়ক শব্দটি কোনো বিশেষ ব্যক্তির দিকে কীভাবে ইঙ্গিত করে? তবে এসব প্রশ্নের দোলাচল বাদ দিয়ে সরলরৈখিকভাবে দেখলে নায়কোচিত ব্যাপারে মজে যাওয়ার চেয়ে দর্শক বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে চরিত্রাভিনেতাদের দিকে। অভিনয় এবং গল্প তাদের হৃদয় ছুঁতে না পারলে নায়ক ব্যাপারটি যতই থাক টিকে থাকা বেশ মুশকিলই হচ্ছে বলতে গেলে। ফলে বাংলাদেশের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি বলতে গেলে এখন বিশ্ব সিনেমার সঙ্গে তাল মিলিয়ে গল্প এবং চরিত্রাভিনেতাদেরই প্রাধান্য দিচ্ছে। যেখানে তরুণ প্রজন্মের অনেক অভিনয়শিল্পীই অভিনয় দক্ষতায় নিজেদের জায়গা বেশ পাকাপোক্তভাবেই দখলে নিচ্ছেন। এখন এ সুযোগ কতদিন বহাল থাকবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও বিশ্ব সিনেমার সঙ্গে বাংলাদেশের সিনেমার তাল মেলানোর প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানাতে হয় নিঃসন্দেহে। শাকিল মাহমুদ

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়