বিপুল ভোটে আলোচিত কাদের মির্জার জয়

আগের সংবাদ

বোয়ালমারী পৌরসভা নির্বাচনে সহিংসতা, ব্যালট বাক্স ভাংচুর

পরের সংবাদ

ধুনটে মেয়র পদে হ্যাভিওয়েটদের লড়াই

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৬, ২০২১ , ৬:২১ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ১৬, ২০২১ , ৬:২১ অপরাহ্ণ

তৃতীয় দফায় আগামী ৩০জানুয়ারি ধুনট পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে মেয়র পদে ৪জন এবং কাউন্সিলর পদে ৪৩জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ১১জানুয়ারি প্রার্থীরা প্রতিক বরাদ্দ পাওয়ার পর প্রচার যুদ্ধে নেমেছেন। এবার ধুনট পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে লড়াই করছেন হ্যাভিওয়েট প্রার্থীরা।

মেয়র পদে আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী অধ্যাপক টিআইএম নূরুন্নবী তারিক নৌকা প্রতীকে, বিএনপি মনোনিত প্রার্থী আলিমুদ্দিন হারুন মন্ডল ধানের শীষ প্রতীকে, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি মনোনিত প্রার্থী বীরমুক্তিযোদ্ধা সাহা সন্তোষ কাস্তে প্রতীকে এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী এজিএম বাদশাহ্ জগ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

অধ্যাপক টিআইএম নূরুন্নবী তারিক শিক্ষা জীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত হোন। পরে ধুনট উপজেলায় ১৯৮৬সাল থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছেন। সর্বশেষ দুই যুগ ধরে তিনি ধুনট উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিএনপি’র ঘাটি হিসেবে পরিচিত এ উপজেলায় তৃনমুল থেকে আওয়ামী লীগকে সাংগঠনিক ভাবে শক্তিশালী করতে অসামান্য অবদান রেখেছেন। ২০০৪সালে ধুনট পৌরসভা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। ওই নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আলিমুদ্দিন হারুন মন্ডলের নিকট পরাজিত হয়েছেন। ২০০৯সালে ধুনট উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হোন। পরবর্তি ৫বছর সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। টিআইএম নূরুন্নবী তারিক ধুনট সরকারি কলেজের ইংরেজী বিষয়ের অধ্যাপক। দীর্ঘকাল শিক্ষকতা করায় এলাকায় তিনি ‘তারিক স্যার’ হিসেবে পরিচিতি। এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনি।

আলিমুদ্দিন হারুন মন্ডল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত অবস্থায় ছাত্র নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তিনি শিক্ষা জীবনে ধুনট ধুনট সরকারি এনইউ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ভিপি এবং ধুনট সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের জিএস ছিলেন। এছাড়া ধুনট উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, সভাপতি, ধুনট উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও দু’দফায় ধুনট উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৮৩সালে ধুনট সদর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হোন। ১৯৯৩সালে পুনরায় ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে স্বর্ণপদক লাভ করেন। ২০০৪সালে ধুনট পৌরসভার নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মেয়র নির্বাচিত হোন আলিমুদ্দিন হারুন মন্ডল। মেয়র হিসেবে জাতীয় পদক লাভ করেন। এরপর তিনি বিএনপির রাজনীতিতে যোগ দেন। আলিমুদ্দিন হারুন মন্ডল বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মাদ্রাসা ও কবরস্থান প্রতিষ্ঠা এবং পরিচালনায় যুক্ত ছিলেন। তিনি ধুনট পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি এবং বর্তমান আহবায়ক কমিটির সদস্য। ২০১১ ও ২০১৫ সালের ধুনট পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি মনোনিত মেয়র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন। এই নির্বাচনেও ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনি।

ধুনট পৌরসভার বর্তমান মেয়র এজিএম বাদশাহ্ ১৯৭৮সালে ধুনট উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হোন। ১৯৮২সালে ধুনট উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এবং ১৯৮৪সালে ধুনট সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি ছিলেন। এছাড়াও দীর্ঘদিন ধুনট উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়ত্বি পালনকালে সাংগঠনিক কার্যক্রমে অসামান্য অবদান রাখেন। ১৯৯৭সালে তিনি ধুনট সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হোন। ২০১১সালে আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী হিসেবে এবং ২০১৫সালে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে ধুনট পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হোন। এজিএম বাদশাহ্ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, ঈদগাহ মাঠ, কবরস্থান, শ্মশানের প্রতিষ্ঠাতা। এছাড়াও তিনি ব্যবসায়ী, শ্রমিক, পেশাজীবি সংগঠনে নেতৃত্ব দেন তিনি। এবারের নির্বাচনেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জগ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় ইতিমধ্যে স্থানীয় আওয়ামী লীগ তাকে বহিস্কার করেছে।

কমরেড সাহা সন্তোষ ১৯৭১সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের রনাঙ্গনের সৈনিক। জীবন বাঁজি রেখে লড়াই করেছেন পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে। ১৯৭০সালে রাজনীতিতে সক্রিয় হোন তিনি। ওই বছর ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) এর নির্বাচনী কর্মী হিসেবে অংশ গ্রহন করেন। ১৯৭২সালে ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৩সালে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সদস্য পদ লাভ করেন। একই বছর ধুনট শাখার সম্পাদক এবং ১৯৭৮সালে থানা কমিটির সম্পাদক নির্বাচিত হোন। তিনি পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সংগঠক ও বগুড়া জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া বাংলাদেশ ক্ষেত-মজুর সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক ও রাজশাহী বিভাগীয় কমিটির সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কমরেড সাহা সন্তোষ ধুনট বাজার ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের সাবেক সভাপতি ও বর্তমানে পেশাজীবীদের সংগঠন মৈত্রী’র সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এই নির্বাচনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি মনোনিত প্রার্থী হিসেবে তিনি কাস্তে প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

আগামী ৩০জানুয়ারি ধুনট পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে ৯টি কেন্দ্রের ৩১টি কক্ষে ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হবে। ধুনট পৌরসভার মোট ভোটার ১১হাজার ৭১৩জন। এরমধ্যে পুরুষ ৫হাজার ৬৩৭জন এবং নারী ৬হাজার ৭৬জন। ২০০১সালে ধুনট পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পর ২০০৪সালে, ২০১১সালে এবং ২০১৫সালে ধুনট পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

ডিসি

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়