বসুরহাটে বিএনপির মিথ্যাচারের জবাব দিয়েছেন ভোটাররা

আগের সংবাদ

নিউজ ফ্ল্যাশ

পরের সংবাদ

করোনা সঙ্কটে নতুন বাজার খোঁজার পরামর্শ বাণিজ্যমন্ত্রীর

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৬, ২০২১ , ৭:৫৮ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ১৬, ২০২১ , ৭:৫৮ অপরাহ্ণ

কোভিড-১৯ মহামারীতে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি পণ্য পোশাক খাতকে রক্ষায় বিদেশি ক্রেতাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। একইসঙ্গে এ সঙ্কটকালে নতুন বাজার খুঁজতেও দেশের পোশাক শিল্প মালিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
শনিবার বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডি আয়োজিত ‘রিকভারি অব দ্য অ্যাপারেল সেক্টর ফ্রম কোভিড-১৯ ক্রাইসিস; ইস অ্যা ভ্যালু চেইন বেইসড সল্যুশন পসিবল?’ শীর্ষক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক সঙ্কট সামাল দিলেও এখন মহামারীর দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে। এই ঢেউয়ে সঙ্কট আরও গভীরে পৌঁছেছে। এর ফলে ক্রেতারা এখন অর্ডারের পরিমাণ ও মূল্য কমিয়ে দিয়েছে। এতে সঙ্কট আরও বাড়ছে। ক্রেতাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ক্রেতারা যদি পোশাকের অর্ডার ঠিক রাখার পাশাপাশি মূল্যও কিছুটা বাড়িয়ে দেন, তাহলে এখাতের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে।

সিপিডির সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। শ্রীলঙ্কার পোশাক রপ্তানির সঙ্কটের সঙ্গে বাংলাদেশের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনটি তৈরি করেন তিনি।

গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ২০০৭-০৮ সালে যখন বিশ্ব অর্থনেতিক মন্দা তৈরি হয়েছিল তখনও তৈরি পোশাকখাত এত বড় চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়েনি। এর কারণ হচ্ছে দেশীয় উদ্যোক্তা এবং বৈশ্বিক ক্রেতা কেউ-ই এ সংকটের সঙ্গে পরিচিত নয়। ফলে পোশাকের সাপ্লাই চেইনে একটা বড় সমস্যা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, দাম ও চাহিদা কমায় দেশে রপ্তানি কমে যাচ্ছে। ফলে পোশাকখাতে শ্রমিক ছাঁটাই, কারখানা লে অফ, ওভারটাইম হ্রাস, মজুরি কম সব কিছুই ঘটছে। এর পুনরুদ্ধার যদি দ্রুততর না হয় এবং সহজীকরণ না হয় তাহলে এসডিজির অর্জন ব্যাহত হতে পারে।
অনুষ্ঠানে সিপিডির চেয়ারম্যান রেহমান সোবহান উপস্থিত আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড এইচএন্ডএম এর বাংলাদেশ পাকিস্তান ও ভিয়েতনামের কান্ট্রি ম্যানেজার জিয়াউর রহমানের কাছে ক্রেতা হিসেবে তার কোম্পানি কোনো দায়িত্ব পালন করতে আগ্রহী কি না জানতে চান। এ সময় জিয়াউর বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠান এই সঙ্কট দূর করতে প্রতিশ্রুত। যদি সঙ্কট মোকাবেলায় সরকার, মালিক, ক্রেতা ও শ্রমিক নিয়ে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করে, তাহলে অবশ্যই এইচঅ্যান্ডএম পোশাকের মূল্য কিছুটা বাড়াতে রাজি আছে।
অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হক বলেন, প্রথম সঙ্কট থেকে আমরা কিছুটা উত্তরণ করতে পারলেও এখন দ্বিতীয় সঙ্কটে পড়েছি। এ সমস্যা মোকাবেলা করার জন্য আমাদের আঞ্চলিক সহযোগিতা গড়ে তুলতে হবে। সরকারের নীতি সহায়তা চেয়ে রুবানা বলেন, আগে পোশাকখাতে যে ঋণ দেয়া হয়েছে, তার পরিশোধে গ্রেস পিরিয়ড সুবিধাসহ দুই বছরের পরিবর্তে পাঁচ বছরে পরিশোধে মালিকদের দাবির প্রতি সরকার সহানূভূতিশীল হবেন। পাশাপাশি নতুন করে প্রণোদনার উদ্যোগ নেবেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদুত হ্যারি ফারভেইজ বলেন, বাংলাদেশ বিশ্ববাসীর পোশাকের জোগান দিতে বড় ভূমিকা রাখছে। তিনি বলেন, কোনো সরকার কোনো কোম্পানিকে সরাসরি নির্দেশনা দিতে না পারলেও নেদারল্যান্ডস সরকার সেদেশের পোশাক আমদানকারকদের বাংলাদেশের অর্ডার বাতিল না করার অনুরোধ জানিয়েছে।

সংলাপে পোশাকখাত পুনরুদ্ধারে ঐক্যের ডাক দেন, মালিক-সরকার ও শ্রমিক নেতারা। তারা বলেন, এখন বিভেদের সময় নয়। দরকার সব পক্ষের ঐক্য। এই ঐক্যবদ্ধ চেষ্টাই পারবে বৈশ্বিক এ সংকটে পোশাক খাতকে আগের চেহারায় ফিরিয়ে আনতে। বক্তারা বলেন, করোনার দ্বিতীয় ধাক্কায় পোশাক খাত আবারও সংকটে পড়েছে। এটা শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ নয়, বৈশ্বিকও। যা কারো একার পক্ষে মোকাবিলা সম্ভব নয়।

ডিসি

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়