রাজারহাটে হস্তান্তরের জন্য প্রস্তুত ৭০টি আধাপাকা বাড়ি

আগের সংবাদ

ধুনটে মেয়র পদে হ্যাভিওয়েটদের লড়াই

পরের সংবাদ

বিপুল ভোটে আলোচিত কাদের মির্জার জয়

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৬, ২০২১ , ৬:১২ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ১৬, ২০২১ , ১০:৩৩ অপরাহ্ণ

দ্বিতীয় ধাপের পৌর নির্বাচনে তুমুল আলোচিত নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভায় অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে ভোটের উৎসব হয়েছে। এই ভোট উৎসবে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী আবদুল কাদের মির্জা বিজয়ী হয়েছে। আবদুল কাদের মির্জার কাছে পাত্তাই পেলেন না বিএনপি মো. কামাল উদ্দিন চৌধুরী ও স্বতন্ত্র হিসেবে লড়াই করা জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা মোশাররফ হোসাইন। প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থী মিলিয়ে যত ভোট পেয়েছেন, কাদের মির্জা একাই পেয়েছেন তার কয়েক গুণ ভোট।

শনিবার (১৬ জানুয়ারি) সকাল আটটা থেকে বিকাল চারটা পযন্ত সব দলের কাছে গ্রহণযোগ্য ভোট শেষে যখন ফলাফল আসতে শুরু করে, তখন দেখা যায় নৌকা প্রতীকে ভোট পড়েছে বিপুল পরিমাণে। ধানের শীষ আর জামায়াত নেতার মোবাইল ফোনে ভোট পড়েছে অনেক কম।প্রতিদ্বন্দ্বি দুই প্রার্থীর সম্মিলিত ভোটের পেয়ে নৌকায় ভোট পড়েছে প্রায় সাড়ে তিন গুণ।

নয়টি কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে ভোট পড়েছে ১০ হাজার ৭৩৮টি। বিএনপির ধানের শীষে ভোট পড়েছে এক হাজার ৭৭৮। জামায়াত নেতার মোবাইল ফোনে পড়েছে এক হাজার ৪৫১টি। ভোটের আনুষ্ঠানিক ফল আসার আগেই স্থানীয় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে অবস্থানকারী কাদের মির্জা নিজেকে জয়ী ঘোষণা করেন। এ সময় সমর্থকরা উল্লাসে ফেটে পড়েন।

এই পৌরসভায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বহু বছর পর যেন নির্বাচনি উৎসবের স্বাদ পেয়েছে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার বাসিন্দারা। ভোটকেন্দ্রে তাদের স্বতঃস্ফুর্ত উপস্থিতি আর উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। পৌরসভার নয়টি কেন্দ্র্রের সবকটিতেই ভোটারদের ছিলো দীর্ঘ লাইন।
সবাই নিজ থেকেই কেন্দ্র্রে গিয়ে নিজের ভোট নিজে দিয়েছেন। একেতো নতুন পদ্ধতি ইভিএম, অন্যদিকে সুষ্ঠু ভোটে উৎসবের ছোঁয়া লেগেছে, তাই ভোটারা কেন্দ্রে গিয়েছেন নিজ তাগিদেই। যারা কেন্দ্রে যেতে চাননি তাদেরও সুষ্ঠু ভোটের ভরসা দিয়ে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়েছেন কাউন্সিলর প্রার্থীরা।
সকাল আটটায় পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের উদয়ন প্রি-ক্যাডেট একাডেমি কেন্দ্র্রে প্রথম ভোটটি দেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী ও সেতুমন্ত্রীর ভাই আবদুল কাদের মির্জা। সেখানে সকাল থেকেই ছিল নারী ভোটারদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মত। বিপরীতে পুরুষ ভোটারদের লাইনটা খুব ছোট। সকালে প্রতিটি কেন্দ্রের চিত্র এক। তবে বেলা বাড়ার সাথে সাথে পুরুষ ভোটারদের উপস্থিতিও বাড়ে। পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের বসুরহাট এ.এই.সি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভোট দিতে আসেন সামসুন্নাহার। দুপুরে রান্নঘরের ব্যস্ততা বাড়বে তাই সকাল সকাল এসে লাইনে দাড়িঁয়েছেন। বলেন, ‘তিনবার নিজের ভোট দিতাম পারিনাই, আইজকা দিমু। আমার ভোট অইন্নরা দিয়া দিত, ভোট দিতাম আইলে কইতে ভোট নাই যানগা।’

‘একই কেন্দ্রে কথা হয় আশি বছর বয়সী ভোটার ওবায়েদ মোল্লার সঙ্গে। বার্ধক্যের কারণে চলাচলই কঠিন, তবু লাঠি ভর করে অন্য এক জনের সহায়তা নিয়ে এসেছেন ভোট দিতে। বলেন, ‘২০০১ সালের পর থিক্কা ভোট দিয়া শান্তি নাই, সব চুরি কইরা লইয়া যায়, এইবার নিজের ভোট নিজে দিয়্যুম।’
সামুসুন্নাহার ও ওবায়েদের মত আরও অনেক অসংখ্য ভোটারের সঙ্গে কথা হয়। সবার অভিজ্ঞতাই এক। আগে নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি।
সকাল সাড়ে নয়টার দিকে বসুরহাট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ইভিএমে ভোট দিয়ে ধানের শীষের প্রার্থী কামাল উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘আমি যেই দুই চারটা কেন্দ্রে গিয়েছি সেখানে সুন্দর পরিবেশে নির্বাচন হচ্ছে। কোনো সমস্যা নাই। জয়-বিজয় আল্লাহর হাতে।’ এই ভোটে হেরে গেলেও কোনো আফসোস থাকবে না বলে জানিয়েছেন বিএনপি নেতা। বলেন, ‘বিজয় হলেও ভালো, পরাজয় হলেও আমরা সুন্দরভাবে মেনে নেব।’ তিনি বলেন, ‘একটা পোস্টার কোথাও ছেঁড়া হয়নি, কোথাও কোনো অসুবিধা হয়নি।’ এরকম সুন্দর নির্বাচনি পরিবেশের জন্য তিনি বর্তমান মেয়র কাদের মির্জা ও প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান তিনি। নির্বাচনের ফলাফল মানার বিষয়ে তিনি সন্ধ্যায় আবারও বলেন, ‘অবশ্যই আমি ফলাফল মেনে নিয়েছি। এই সুন্দর নির্বাচনের ফলাফল না মানলে আমি কেন রাজনীতি করি?’

দুপুরে পৌরসভার পূর্ব চর কাঁকড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে জামায়াত নেতা স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী মাওলানা মো. মোশাররফ হোসাইন নির্বাচনের পরিবেশের প্রশংসা করে বলেন, বিএনপি প্রার্থী মো. কামাল উদ্দিন প্রবীণ মানুষ, তাঁর পক্ষে জনগনের সেবা করা সম্ভব নয়। এখানে বিএনপির মধ্যে তিন গ্রুপ। তাই নৌকার সাথে প্রতিদ্ব›দ্বীতা হবে মোবাইল ফোনের। নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক, তা মেনে নিবো।
বেসরকারিভাবে নির্বাচিত মেয়র আবদুল কাদের মির্জা বলেন, প্রমাণ হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার ভাই ওবায়দুল কাদের সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে পারেন। তাকে ভোট দেয়ায় কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে কাদের মির্জা বলেন, তিনি যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তার পূর্ণ বাস্তবায়ন করবেন।
গত কয়েকদিন সমালোচনা করলেও ভাই ওবায়দুল কাদেরের প্রশংসা করেছেন কাদের মির্জা। তিনি বলেন, রাজনীতির বিষয়ে সব দায়িত্ব নিয়েছেন ওবায়দুল কাদের। তার নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি চলবেন। এতদিন যেসব কথা বলেছেন, সেগুলো আর বলবেন না। পরাজিত দুই প্রার্থীর সঙ্গে রোববার দেখা করার কথাও বলেন কাদের মির্জা।
রিটার্নিং অফিসার ও নোয়াখালীর সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা রবিউল আলম বেসরকারিভাবে আবদুল কাদের মির্জার জয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নির্বাচনে তাদের সকল আয়োজন ছিলো পরিপূর্ণ। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সতর্কভাবে আদের দায়িত্ব পালন করেছে। তাই কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। নির্বাচন নিয়ে কোন না প্রার্থীর কাছ থেকে অভিযোগও উঠেনি।

এসএইচ/ডিসি

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়