ভোট চাইলেন আ. লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সদস্যরা

আগের সংবাদ

ওষুধ শিল্পের ভূত-ভবিষ্যৎ

পরের সংবাদ

সম্ভাবনার নতুন দুয়ার থিম পার্ক

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৩, ২০২১ , ৮:২৪ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ১৩, ২০২১ , ৮:২৪ অপরাহ্ণ

শিশু, বৃদ্ধ, কিশোর সব বয়সি মানুষেরই বিনোদন প্রয়োজন। প্রতিনিয়ত যান্ত্রিকতা, প্রতিহিংসা পরায়ণতার মধ্যে জীবন অতিবাহিত করতে করতে সবাই একটু দম ছেড়ে বাঁচতে চায়। শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশ, খেলাধুলার জন্য থিম পার্ক অপরিহার্য। বৃদ্ধদের জন্যও একটু খেলাধুলার ব্যবস্থা হলে মন্দ হয় না। তাই না? সারাজীবন স্বামী-সন্তান, পরিবারের জন্য কষ্টক্লেশ করে শেষ বয়সে এসেও একটু স্বস্তির ঠাঁই মিলে না অনেক বৃদ্ধের। আর তাই তাদের একটু আনন্দ দিতে পারে এই থিম পার্ক। থিম বা অ্যামিউজমেন্ট পার্ক এমন একটি পার্ক, যেখানে সব বয়সি দর্শকের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয় ও সাজানো হয় বিনোদনের জন্য একটি মনোরমীয় স্থান। সাধারণ পার্কের সঙ্গে থিম পার্কের পার্থক্য হচ্ছে এটি একটি থিম বা বিষয়বস্তুর ওপর তৈরি করা হয়। সেই থিমকে কেন্দ্র করে এর স্থাপনা করা হয় এবং রাইডগুলো সাজানো হয়।

কিন্তু বাংলাদেশে থিম বা অ্যামিউজমেন্ট পার্ক যেমন কম রয়েছে তেমনি যেগুলো আছে তার প্রচারও মানুষের জানার বাইরেও রয়েছে। মাগুরা ভায়না মোড় হতে ৩ কিমি দূরে নতুন বাজারের পর শ্রীপুর রোডের পার্শ্বে একটি থিম পার্ক রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের ক’জন দর্শকের তা বোধগম্যতার মধ্যে রয়েছে? ১৯৪৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে ‘সান্তা ক্লজ ল্যান্ড’ নামে বিশ্বের প্রথম থিম পার্ক তৈরি করা হয়। এই পার্ক তৈরির ৯ বছর পর অভিনেতা ওয়াল্ট ডিজনিল্যান্ডের তত্ত¡াবধানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় তৈরি করা হয় ডিজনিল্যান্ড পার্ক। অভিনেতার নামানুসারে এই পার্কের নামকরণ করা হয়। বিভিন্ন থিমের সমন্বয়ে তৈরি হয়েছে এই পার্ক। জানা যায় সারা বিশ্ব থেকে ৬৫ কোটি দর্শক এসেছে এই পার্কে।

শুধু শিশুদের (১১ বছরের নিচে) কথা চিন্তা করে ১৯৬৮ সালে ডেনমার্কে বানানো হয়েছে ‘লেগোল্যান্ড’ পার্ক। এটিও বেশ জনপ্রিয়তা পায়। এর শাখা ইউরোপ ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্যেও দেখা যায়। ‘ডিজনিল্যান্ড’ ছাড়াও বিশ্বের বিখ্যাত থিম পার্কের মধ্যে রয়েছে ‘সিওয়ার্ল্ড অরল্যান্ডো’, ‘ইউনিভার্সাল স্টুডিও হলিউড’। এই থিম পার্কগুলো এতটাই জনপ্রিয়তা পেয়েছে যে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এসবের শাখাও রয়েছে, যেমনÑ ‘হংকং ডিজনিল্যান্ড’, ‘ইউনিভার্সাল স্টুডিও সিঙ্গাপুর’ ইত্যাদি। বাংলাদেশের লতিবাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মাত্র ৩ কিমি দূরে রয়েছে মায়া কানন থিম পার্ক। অনেক সুন্দর মনোরম পরিবেশ ছুটি কাটানোর জন্য এবং অনেক ধরনের রাইডার রয়েছে যার মাধ্যমে অনেক আনন্দ করা যায়।

সিলেটে অত্যাধুনিকভাবে সর্বপ্রথম নির্মিত হয়েছে থিম পার্ক, যার নামকরণ করা হয়েছে ড্রিমল্যান্ড। সিলেট শহর থেকে মাত্র ১৫ কিমি দূরে জকিগঞ্জ রোডে হিলালাপুরে শত বিঘা জমির ওপর এই থিম পার্কটি অবস্থিত। বিনোদনপ্রেমী মানুষের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে এই পার্কটি। পার্কটিতে রয়েছে ২৫টি রাইড। এতে স্থাপন করা হয়েছে বৃহত্তম ওয়েবপুলসহ আন্তর্জাতিক মানের ৯টি ওয়াটার রাইড।

সব বয়সি মানুষের জন্য এই পার্কটি উপযুক্ত। মোগল ঐতিহ্যে নির্মিত হয়েছে এর প্রবেশদ্বার। সিলেটের এই ড্রিমল্যান্ড পার্কে পর্যটকদের জন্য রয়েছে বাম্পার কার, স্কাই ট্রেন, রোলার কোস্টার, মিউজিক্যাল ফাউন্টেইন, জায়ান্ট টুল, প্যারাট্রুপার, মিনি ট্রেন, সুইমিং বোর্ড, ডেঞ্জার হোল্ডার রাইড, নাইনডি মুভিসহ বিভিন্ন ধরনের ভিডিও গেমস। রয়েছে গানের তালে তালে জলরাশির নৃত্যও এই পার্কে।

বাংলাদেশের ৬৪টি জেলা রয়েছে। কিন্তু সব বয়সি মানুষের জন্য বিবেচনীয় এই থিম বা অ্যামিউজমেন্ট পার্ক খুবই নগণ্য। সব বয়সির কথা চিন্তা করে এই থিম পার্ক তৈরি না হলেও বাংলাদেশে কিন্তু প্রত্যেকটা জেলায় অসংখ্য পার্ক রয়েছে সত্যি। কিন্তু সেগুলো হয়ে উঠেছে অশ্লীল প্রেমআড্ডা আর কিশোর গ্যাংয়ের মাতোয়ারা। তাই কর্তৃপক্ষের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি অন্যান্য রাষ্ট্রের মতো শিশু, কিশোর, বৃদ্ধ সব বয়সির জন্য অ্যামিউজমেন্ট পার্ক তৈরি করতে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সাধারণ যেসব পার্ক আছে সেগুলোতেও যেন শিশুরা গিয়ে নোংরাচিত্র না দেখে সে জন্য কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। থিম পার্ক মানুষের বিনোদনের পাশাপাশি অর্থনীতিতে যোগ করবে নতুন মাত্রা।

শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।
[email protected]

এসএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়