নাগরিক স্বার্থে সেবা সংস্থাগুলোর সমন্বয় জরুরি

আগের সংবাদ

নদীর স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য ফেরাতে হবে

পরের সংবাদ

পোশাক শিল্প ঘুরে দাঁড়াতেই আবারো অনিশ্চয়তায়

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৩, ২০২১ , ৮:৩৬ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ১৩, ২০২১ , ৮:৩৬ অপরাহ্ণ

করোনা মহামারি প্রাদুর্ভাব সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ায় তৈরি পোশাক খাতে এক ধরনের বিপর্যয় দেখা দেয়। আমাদের দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৩ শতাংশ আসে পোশাক শিল্প থেকে। তাই দেশের পোশাক শিল্প অর্থনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। পোশাক শিল্প বিপর্যয়ের ফলে অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব বিদ্যমান থাকে। পোশাক রপ্তানিতে শীর্ষে অবস্থানকারী দেশ চীন। ধারণা করা হয়েছিল করোনা ভাইরাস উৎপত্তির কারণে চীনের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিদ্যমান থাকবে। চীনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব বিদ্যমান থাকলে অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও রপ্তানির ক্ষেত্রে সুবিধা ভোগ করতে পারবে। কিন্তু বাণিজ্যযুদ্ধের সম্ভাব্য পরিণতি মোকাবিলায় চীনা উদ্যোক্তাদের কারখানা ভিয়েতনামে স্থানান্তর করা হয়। ফলে ভিয়েতনামে পোশাক শিল্পের বাণিজ্য সম্প্রসারিত হতে থাকে। বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের কাঁচামাল বেশিরভাগই চীন থেকে সরবরাহ করতে হয়। কিন্তু করোনার কারণে কাঁচামাল সরবরাহে জটিলতা দেখা দেয়। তাই করোনাকালে সরবরাহ চেইনের বৈচিত্র্যকরণে এবং অর্থনৈতিক ক্রিয়াকালাপে সমস্যা দেখা দেয়। যার ফলে পোশাক শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব বিদ্যমান থাকে। যদিও ২০১৮ সালের তুলনায় ২০১৯ সালে পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশ এগিয়ে ছিল। কিন্তু ২০২০ সালের সূচনালগ্ন থেকেই উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০১৯ সালে গ্লোবাল ক্লোথিং এক্সপোর্টে বাংলাদেশের বাজার অংশীদারিত্বে ছিল ৬ দশমিক ৮ শতাংশ, যা ২০১৮ সালে ছিল ৬ দশমিক ২ শতাংশ। এক বছর ব্যবধানে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব বাড়ে দশমিক দুই শতাংশ। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো ইপিবির মতে, ২০১৯ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বরে পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ১ হাজার ৬০২ কোটি ৪০ লাখ ডলার। কিন্তু ২০২০ সালে একই সময়ে রপ্তানি নেমে আসে ১ হাজার ৫৫৪ কোটি ৬৫ লাখ ডলারে, যা বিগত বছরের তুলনায় ২ দশমিক ৯৯ শতাংশ কম। পোশাকের চাহিদা কমে আসায় আমাদের দেশ থেকে রপ্তানির ক্রয়াদেশ অনেক ক্ষেত্রে বাতিল হয়ে যায়। তার ওপর আমাদের দেশে দুই মাস লকডাউন থাকায় বিরূপ প্রতিক্রয়া দেখা দেয়। যার ফলে উৎপাদন ব্যাহত হয়। পর্যাপ্ত পরিমাণ কাজ না থাকায় কারখানা থেকে অনেক শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়। তবে মন্দাভাব কাটিয়ে ওঠা শুরু করলে আবারো পোশাক শিল্পে শঙ্কা দেখা দেয়। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের একটা বড় অংশ ইউরোপের বাজার দখল করে আছে। ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পোশাক রপ্তানি করে আসছে জার্মানিতে, তারপর যুক্তরাজ্যে। মোট পোশাক রপ্তানির প্রায় ৫৪ শতাংশ ইউরোপের বিভিন্ন দেশগুলোতে হয়ে থাকে, বাকি ৪৬ শতাংশ অন্যান্য দেশে। তাই ইউরোপ দেশগুলোর ব্যবসায়িক পরিস্থিতির ওপর পোশাক রপ্তানির আয় অনেকাংশ নির্ভর করছে। গত নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। কিন্তু ইউরোপের দেশগুলোতে করোনায় আঘাত হানায় আবারো পোশাক বাজারে স্থবিরতা দেখা দেয়। বিশেষ করে যুক্তরাজ্যে নভেম্বর মাসে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ায় সীমিত আকারে আবারো লকডাউন ঘোষণা করা হয়। সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। করোনার প্রথম ধাক্কায় পোশাক খাত ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিছু দিনে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করলেও করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে রপ্তানির ক্ষেত্রে বিপর্যয়ের শঙ্কা আবারো দেখা দেয়। আশার কথা হলো, মহামারিজনিত কারণে ওভেন পোশাক রপ্তানি কমলেও নিটওয়্যার রপ্তানি বেড়েছে। বাংলাদেশকে প্রতিযোগীপূর্ণ দেশগুলোর সঙ্গে টিকে থাকতে হলে উৎপাদিত পণ্যের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। পাশাপাশি প্রযুক্তিগত উন্নয়ন জোরদার করতে হবে। মহামারি প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় পোশাক খাতকে বিপর্যয়ের হাত থেকে বাঁচাতে সরকার বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

ব্যাংক কর্মকর্তা ও লেখক।
[email protected]

এসএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়