পোশাক শিল্প ঘুরে দাঁড়াতেই আবারো অনিশ্চয়তায়

আগের সংবাদ

ফাঁস হলো সুশান্তের নিজ হাতে লেখা চিঠি

পরের সংবাদ

নদীর স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য ফেরাতে হবে

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৩, ২০২১ , ৮:৪১ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ১৩, ২০২১ , ৮:৪১ অপরাহ্ণ

নদীমাতৃক দেশের ইতিহাস ক্রমে ম্লান হতে যাচ্ছে। দেশের নদীগুলোর অবস্থা যে শোচনীয় তা নদীর সার্বিক চিত্র পর্যবেক্ষণ করলেই বোঝা যায়। এর পেছনে দখলদারিত্ব থেকে শুরু করে নানা অনিয়ম জড়িত। বিশেষ করে ঢাকার চারপাশের শীতলক্ষ্যা, বুড়িগঙ্গা, তুরাগ ও বালু এই চার নদীর দিকে তাকালে স্পষ্ট হয়ে ওঠে দখল ও দূষণের মহোৎসব। ভূমিদস্যুদের দখলবাজি, সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নির্লিপ্ততা এবং নাগরিক সচেতনতার অভাবে নদীগুলোতে এই অবস্থা তৈরি হয়েছে। অথচ নদীমাতৃক দেশে এই অবস্থা হওয়ার কথা ছিল না। দূষণ ও দখলের এ উৎসব বন্ধে সরকার কঠোর না হলে প্রতিটি নদী মানুষের জন্য এক সময় অভিশাপের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। জানা গেছে, সারাদেশে উচ্ছেদ অভিযানের মধ্যেও নদী দখলদারের সংখ্যা বেড়েছে। ২০২০ সালে দেশে নদী দখলদারের সংখ্যা ৬৩ হাজার ২৪৯ জন, যা গত বছর দখলদারের এই সংখ্যা ছিল ৫৭ হাজার ৩৯০ জন। মঙ্গলবার বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানিয়েছে জাতীয় নদীরক্ষা কমিশন। এতে জানানো হয়, প্রতিটি বিভাগেই পেশিশক্তি ও প্রভাব বিস্তার করে নদীর মধ্যে বা ফোরশোরে বড় বড় কিছু অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। বারবার তাগাদা দেয়া সত্ত্বেও ওইসব স্থাপনা উচ্ছেদ করা যায়নি। এমনকি সরকারি স্থাপনাও সরিয়ে নেয়া সম্ভব হয়নি। নদী বাঁচাতে তীরবর্তী জায়গার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদসহ ১২ দফা নির্দেশনা দেন আদালত। নির্দেশনা অনুযায়ী নদীর অবৈধ জায়গা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দখলমুক্ত করার কথা বলা হয়। নদীকে দূষণমুক্ত করতে সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়। নদীর পাড়ে ওয়াকওয়ে নির্মাণ, বনায়ন, পাড় বাঁধানো এবং সর্বোপরি নদীর সীমানা নির্ধারণ করতে পিলার স্থাপনের নির্দেশ দেয়া হয়। এসব কাজ দ্রুত করার জন্য বিআইডব্লিউটিএ, পরিবেশ অধিদপ্তর, ভূমি মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কাজগুলো বাস্তবায়ন করতে নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু নদী দখল ও দূষণ থেমে নেই। নদী দখলের প্রতিযোগিতা শুধু বড় শহর-নগর-বন্দর-গঞ্জেই সীমাবদ্ধ নয়, দেশের সব শহরাঞ্চলেই তা ঘটছে। বুড়িগঙ্গা, কর্ণফুলী, সুরমা, কীর্তনখোলা, রূপসাসহ শহর তীরবর্তী প্রায় ১৭৪টি নদী এ আগ্রাসনে পড়েছে। কেবল নদী নয়, শহরের ভেতরের বা পাশের খালগুলোও অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে দ্রুত। নদী থেকে ভ‚মি সৃষ্টির জন্য নেয়া হচ্ছে বিচিত্র সব কলাকৌশল। সৃষ্টি করা হচ্ছে কৃত্রিম চর। নদীগ্রাস আগামী দিনে পরিবেশসহ সার্বিক পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি ঘটাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রায় প্রতিদিনই নদীদূষণ ও দখলের খবর পত্রিকায় আসে। নদীদূষণ ও দখল এখন নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএর বিষয়টি দেখভাল করার কথা, অথচ তারা তো সেটা করছেই না বরং নদী দখল ও দূষণ আরো বেড়েছে। এগুলো বিআইডব্লিউটিএর গাফিলতির ফল। এভাবে নদী দখল ও দূষিত করে মানুষ পরিবেশের ক্ষতি তো করছেই, সেই সঙ্গে নিজেদের বিপদও ডেকে আনছে। এভাবে দখল ও দূষণ করে একদিকে যেমন নদীগুলোকে মেরে ফেলা হচ্ছে, অন্যদিকে বাংলাদেশও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্মুখীন হচ্ছে ক্রমাগত। নদী দখল ও দূষণের সঙ্গে সরকারেরই কোনো না কোনো প্রভাবশালী নেতাকর্মী জড়িত থাকে বলেও অভিযোগ রয়েছে। আমরা মনে করি, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের নদী নিয়ে যে সমস্যাগুলো আছে তা সমাধানে সরকারকে কাজ করতে হবে। কোনো রাজনৈতিক স্বার্থের কাছে নদীর যে কোনো ধরনের উন্নয়ন ব্যাহত হোক, এমনটা প্রত্যাশিত নয়। নদী দূষণমুক্ত করা ও দখল প্রক্রিয়া বন্ধ করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ রয়েছে। যেভাবেই হোক দ্রুত কাজ শুরু করে নদীগুলোকে দখল ও দূষণমুক্ত করতে হবে।

এসএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়