সম্ভাবনার নতুন দুয়ার থিম পার্ক

আগের সংবাদ

ভ্যাকসিন নিয়ে দুর্নীতি!

পরের সংবাদ

ওষুধ শিল্পের ভূত-ভবিষ্যৎ

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৩, ২০২১ , ৮:২৭ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ১৩, ২০২১ , ৮:২৭ অপরাহ্ণ

সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই হাসপাতাল প্রাঙ্গণে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির অসংখ্য প্রতিনিধিদের উপস্থিতিই এখনকার দিনের নিয়মিত চিত্র। একদা ডাক্তারদের পেছনে ছুটা প্রতিনিধিরাই আজকাল ছুটছেন রোগীদের পেছনে। কারণ একটাই, ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনে নিজেদের কোম্পানির ওষুধের নাম লেখানোই তাদের একমাত্র লক্ষ্য। ডাক্তারদের নির্দেশিত ওষুধ যখন সেসব রোগীর লোকেরা বিভিন্ন ফার্মেসিতে কিনতে যান তখন বোঝেনই না যে, প্রেসক্রিপশনে কী লেখা আছে আর দোকানদার কী ওষুধ দিচ্ছে। আমাদের দেশের ডাক্তারের হাতের লেখাপড়া খুবই কষ্টসাধ্য! ওনাদের সিংহভাগই কখনো ওষুধের জেনেরিক নাম লেখেন না লেখেন ট্রেড নাম। এতে সহজ-সরল মানুষ মনে করে যেই ট্রেড নাম লেখা আছে সেটাই সেবন করতে হবে, অন্য কোনো ট্রেড নামের ওষুধ সেবন করলে তেমন কার্যকরী হবে না, যদিও এখানে দামের একটা কারসাজি থেকে যায়। জনসাধারণের এই অসহায়ত্বের খুব ভালোভাবেই সুযোগ নেয় বিভিন্ন কোম্পানি।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের এক জরিপে দেখা যায়, দেশের মানুষ মোট চিকিৎসা ব্যয়ের ৬৬ শতাংশই ব্যয় হয় শুধু ওষুধের জন্য। তা ছাড়া দুর্বল বাজার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অদূরদর্শিতার কারণে বাজারে রয়েছে অসংখ্য নকল ওষুধের ছড়াছড়ি। সাদা মনে মানুষ ওষুধ কিনতে যায়, বিপরীতে অসাধু ব্যবসায়ীরা তাদের ধরিয়ে দেয় নকল কিংবা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ। ফলে আরোগ্য লাভের বিপরীতে সৃষ্টি হয় নতুন কোনো জটিলতা, আবার কখনো দেখা দেয় মৃত্যু সংকট। নিত্যদিনে ঘটে চলা এই প্রতারণা সামলে নিয়ে অসাধু দোকানদারদের রুখতে বাজারে নেই সার্টিফিকেটের ব্যবস্থা।
দেশের এই সম্ভাবনাময় শিল্পের শিল্পগুণ ধরে রেখে মানসম্মত ওষুধ উৎপাদন এবং সুষম সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রথমত, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরকে ঢেলে সাজানো প্রয়োজন। প্রয়োজনে লোকবল বৃদ্ধি করাসহ বাজারে সার্বক্ষণিক তদারকির মাধ্যমে কোনো কোম্পানি কী ওষুধ, কীভাবে ছাড়ছে, ওষুধের মান, দাম, কীভাবে বিপণন হবে তা পর্যালোচনা করে অচিরেই সঠিক পদক্ষেপ নিতে হবে। দ্বিতীয়ত, প্রয়োজনীয় জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, অনুমোদন ব্যতিরেকে অসদুপায়ে কেউ যেন ওষুধের ফার্মেসি খুলতে না পারে সে জন্য নিবন্ধিত দোকানদারের ব্যবস্থা করতে হবে। তৃতীয়ত, ওষুধের বাজার যাতে সার্বক্ষণিক ভোক্তাকেন্দ্রিক থাকে তার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। শেষতক, কেউ যাতে মানহীন, মেয়াদোত্তীর্ণ, নকল ওষুধ সরবরাহ করতে না পারে সেসবের ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ছাড়াও ‘ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ’ অধিদপ্তরের সঙ্গে জোটবদ্ধ করতে হবে যেন কেউ কখনো খারাপ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হলে অভিযোগ জানাতে পারে। একই সঙ্গে অনতিবিলম্বে প্রতিটি ওষুধ নীতির সুপ্রয়োগ জরুরি। চিকিৎসকদের টাইপ করা প্রেসক্রিপশন এখন কেবল সময়ের দাবি। এ ছাড়াও অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ সেবন ও বিক্রির নীতিমালা প্রস্তুত ও তার যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। এক সময়ের ছোট্ট একটা শিল্পই এখন দেশের বড় চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে, হচ্ছে। গত কয়েক বছরে দেশের মানুষের দুর্ভোগ কমিয়েছে শুধু দেশ নয়, দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে আজ বিশ্বের নানা দেশে সম্মানের সঙ্গে ব্যবসা করছে আমাদের ওষুধ কোম্পানিগুলো। সম্ভাবনাময় এই ওষুধ শিল্পের দেশ এবং বিদেশে চাহিদা, সরবরাহ, পণ্যমান এবং রপ্তানি নিশ্চিত করতে যুগোপযোগী আইনের পাশাপাশি নানাধর্মী পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। কর্তৃপক্ষের কাছে একটাই চাওয়া, বাইরের দেশে সরবরাহকৃত পণ্যের পণ্যমান যেন দেশের মানুষেরও আয়তাধীন থাকে। দিন শেষে নির্ভেজাল, মানসম্পন্ন ওষুধ ভোক্তাদের কাছে পৌঁছানোই ওষুধ শিল্পের প্রধান এবং একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত।

শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
[email protected]

এসএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়