ইবির সাথে ফিনল্যান্ডের ট্যাম্পেরে বিশ্ববিদ্যালয়ের চুক্তি

আগের সংবাদ

নেতা পাচ্ছি অভিভাবক কি পাচ্ছি?

পরের সংবাদ

সড়কপথ যেন মৃত্যুফাঁদ

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১২, ২০২১ , ১০:১১ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ১২, ২০২১ , ১০:১১ অপরাহ্ণ

সড়ক ব্যবস্থাপনার ত্রুটি ও সড়কে বিরাজমান বিশৃঙ্খলার কারণে প্রতিনিয়ত যা ঘটছে তা নিছক দুর্ঘটনা নাকি ‘হত্যাকাণ্ড’Ñ এ নিয়ে প্রশ্ন জেগেছে। নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) পরিসংখ্যান বলছে, ২০২০ সালে ৪ হাজার ৯২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ হাজার ৯৬৯ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। গত বছরের জানুয়ারিতে এক মাসে ৪৪৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৯৫ জন নিহত ও ৮২৩ জন আহত হয়েছে। সেফটি ফাউন্ডেশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানা যায়, গত ডিসেম্বরের এক মাসেই ৪০২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৬৪ জন নিহত এবং ৫১৩ জন আহত হয়েছে। এর মধ্যে ৪ ডিসেম্বর মাত্র একদিনে সড়কে প্রাণ গেছে ২৬ জনের। দুর্ঘটনার মধ্যে ১২৪টি জাতীয় মহাসড়কে, ১২৯টি আঞ্চলিক সড়কে, ১০৪টি গ্রামীণ সড়কে, ৪২টি শহরের সড়কে সংঘটিত হয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (এআরআই) গবেষণায় দেখা গেছে, মোট দুর্ঘটনার মধ্যে ৫৩ শতাংশ ঘটে মাত্রাতিরিক্ত গতিতে যানবাহন চালানোর জন্য। আর চালকের বেপরোয়া মনোভাবের জন্য ঘটে ৩৭ শতাংশ সড়ক দুর্ঘটনা। সড়কের কাঠামোগত ত্রুটির জন্য সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে না তেমন নয়। দেশে তো ভগ্নদশাগ্রস্ত সড়কেরও অভাব নেই। মহাসড়কের কোথাও কোথাও রয়েছে বিপজ্জনক বাঁক। তা ছাড়া ফিটনেসবিহীন যানবাহন, পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী বহন, হেলপার দ্বারা যানবাহন চালানো, মহাসড়কে অটোরিকশা, নসিমন-করিমন ও মোটরসাইকেলের অবাধ চলাচল এবং ব্যস্ত সড়কে ওভারটেকিং, ওভারলোডিং সড়ক দুর্ঘটনার সম্ভাবনা অনেকাংশে বাড়িয়ে দেয়। দেশের সড়কে-মহাসড়কে এখনো বেপরোয়াভাবে চলছে ১০ লাখ নসিমন-করিমন ও ইজিবাইক। চালু রয়েছে ৫ লাখ ফিটনেসবিহীন বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, হিউম্যান হলার এবং কয়েক লাখ নিবন্ধনবিহীন অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল।

দেশের সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা অনেকটাই পরিবহন মালিক ও গাড়িচালকের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। গণপরিবহনে বাড়তি যাত্রী সামাল দিতে গতিসীমার বাইরে দ্রুত গাড়ি চালিয়ে বেশি ট্রিপ দেয়ার অশুভ প্রতিযোগিতায় পরিবহন সংস্থাগুলো চালকদের অনেক বেশি কর্মঘণ্টা কাজে ব্যস্ত রাখে। ফলে চালকের ওপর এক ধরনের মনস্তাত্তি¡ক চাপ পড়ে, তাকে বেসামাল হয়ে গাড়ি চালাতে হয়, যা প্রকারান্তরে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়। দূরপাল্লার যাত্রায় চালকরা হয়ে পড়েন ক্লান্ত, অবসাদগ্রস্ত। এসব কিছু বিবেচনায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। সেগুলো ছিলÑ চালক ও সহকারীদের প্রশিক্ষণ প্রদান, দূরপাল্লার বাসযাত্রায় বিকল্প চালক রাখা ও পাঁচ ঘণ্টা পরপর চালক পরিবর্তন করা, চালক ও যাত্রীদের সিটবেল্ট বাঁধা বাধ্যতামূলক করা, চালকদের জন্য মহাসড়কে বিশ্রামাগার নির্মাণ এবং সিগন্যাল মেনে যানবাহন চালানোর ওপর কড়াকড়ি আরোপ। এসবের বাস্তবায়ন অনেকটাই দৃশ্যমান নয়। ২০১৮ সালের ২৯ জুলাই ঢাকা বিমানবন্দর সড়ক এলাকায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যুর পর দেশব্যাপী নিরাপদ সড়কের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ পাস হয়। এমনকি সড়ক পরিবহন উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে সড়ক পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতেও ১৯টি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। তাতে রাজধানীতে লক্কড়-ঝক্কড় গাড়ি চলাচল বন্ধ করাসহ মহানগরীতে মালিক ও চালকদের মধ্যে চুক্তিভিত্তিক যানবাহন চলাচল বন্ধের ঘোষণা দেয়া হলেও পরবর্তীতে তা কার্যকর হয়নি। সড়কে শৃঙ্খলা এনে দুর্ঘটনা রোধে কমিটি প্রণীত ১১১টি সুপারিশযুক্ত প্রতিবেদনে আশু করণীয় ৫০টি, স্বল্পমেয়াদি ৩২টি এবং দীর্ঘমেয়াদি ২৯টি প্রস্তাবও বাস্তবায়ন করা যায়নি। দেশের মানুষকে জিম্মি করে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকারের শুভ উদ্যোগকে ব্যাহত করা হয় বারবার। দেশে গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে সড়ক-মহাসড়ক নেটওয়ার্কের জন্য অন্তত একটি শত বছরের দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা প্রস্তুত করে সড়কের কাছাকাছি কোনো স্থাপনা গড়ে তোলা রোধসহ সড়ক পরিবহন খাতের প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা দূর করা ছাড়া দুর্ঘটনা ঠেকানো যাবে না।

মালিবাগ, ঢাকা।
[email protected]

এসএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়