সড়কের পাশে আগুন পোহাতে গিয়ে লড়িচাপায় নিহত ২

আগের সংবাদ

সাকিবের স্বপ্ন

পরের সংবাদ

নতুন বছরে মেসি ফিরেছেন স্বরূপে

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১২, ২০২১ , ১২:৫৬ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ১২, ২০২১ , ১২:৫৬ অপরাহ্ণ

বিশ্ব ফুটবলে যখন আর্জেন্টিনার ছোটখাটো এক বালকের আবির্ভাব ঘটে তখন তার খেলা দেখেই অনেকে বলেছিলেন এই ছেলে ফুটবল বিশ্বকে মাতাবেন। নিজের খেলার নৈপুণ্যতা দেখিয়ে মেসি নজর কেড়েছিলেন বিশ্বসেরা ক্লাব বার্সেলোনার। ক্লাবটির একাডেমিতে নিজেকে গড়ার সুযোগ পেয়ে যান মেসি। এরপর আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। লিওনেল মেসি যতো দিন গেছে ততই শুধু সামনের দিকে এগিয়ে গেছেন। বার্সার হয়ে জিতেছেন সব শিরোপা। একে একে পেয়েছেন আর্জেন্টিনা জাতীয় দল ও বার্সেলোনার অধিনায়কের দায়িত্ব।

বছর গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তিনি বার্সার হয়ে একের পর এক শিরোপা জিতেছেন। সঙ্গে সচল রেখেছেন নিজের গোল মেশিন। নিজের পুরো ফুটবল ক্যারিয়ারই বার্সায় কাটিয়ে দেন তিনি। বার্সাও তাকে হতাশ করেনি। তিনি যেমন তাদের দিয়েছেন তেমনই ক্লাবও তাকে দুই হাত ভরে দিয়েছে।

২০০৪ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সবকিছুই ঠিক ঠাক ছিল। তবে মাঝে মাঝে তাকে ও তার ক্লাবকে হতাশ হতে হয়েছে। যদিও সেগুলো ছিল ক্ষণিক সময়ের জন্য। কিন্তু ২০২০ সাল থেকে হঠাৎ করে কেমন যেন পরিবর্তন হয়ে যায় অনেক কিছু। মেসিও ক্লাবের ওপর অখুশি হতে থাকেন। অবশ্য বার্সারই কয়েকজন কর্মকর্তার আচরণে মেসি এমন হয়ে যান। সে বছর মেসি সরাসরি ক্লাবের কয়েকজন কর্মকর্তার সমালোচনা করেন। যা চাপা স্বভাবের মেসির কাছ থেকে আগে কখনো দেখা যায়নি। আর গত মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে ৮-২ গোলের বিশাল ব্যবধানে হেরে বসে বার্সেলোনা। আর ওই সময়ই নিজের সব রাগ যেন একসঙ্গে উগরে দেন মেসি। তিনি বার্সা কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দেন তিনি আর বার্সার হয়ে খেলতে চান না। এ যেন মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার মতো অবস্থা। মেসি বার্সা ছাড়ার ব্যপারে বেশ দৃঢ় ছিলেন। কিন্তু তাকে আটকান সভাপতি জোসেফ মারিয়া বার্তেমিউ। এতেও খুশি হননি মেসি। তিনি এ বিষয়টিরও সমালোচনা করেন। আর এসব ঘটনার কারণে ২টি জিনিস মেসির কাছ থেকে নাই হয়ে যায়। প্রথমটি হলো তার চিরচেনা মুচকি হাসি। দ্বিতীয়টি হলো তার গোল মেশিন। আর গোল মেশিন ধীরগতির হয়ে যাওয়ায় তা তার মুচকি হাসিতে আরো বেশি প্রভাব ফেলে।

আর মেসির এমন অবস্থা দেখে চিন্তার ভাঁজ পড়ে যায় তার সমর্থকদের কপালে। তাদের আইডলের কি হলো এ নিয়ে তাদের ঘুম হারাম হয়ে যায়। তবে সবাই প্রত্যাশা করতে থাকেন যেন আগের রূপে ফিরেন চিরচেনা মেসি। তাদের সেই প্রত্যাশাটা বাস্তবে রূপ নিয়েছে এই নতুন বছর ২০২১ সালে এসে। নতুন বছরে মেসির মুখে ফিরে এসেছে হাসি সঙ্গে শক্তিশালী হয়েছে গোল মেশিনও। এই নতুন বছরে বার্সার হয়ে ৩টি ম্যাচ খেলে মোট ৪টি গোল করেছেন তিনি। অ্যাতলেটিকো বিলবাও ও গ্রানাডার বিপক্ষে টানা ২টি ম্যাচে ২টি করে গোল করেন তিনি। আর তার করা এই গোলগুলো যারাই দেখেছেন তাদের সবার চোখ জুড়িয়েছে এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

মেসি তার ক্যারিয়ারে এ পর্যন্ত মোট ৭ বার লা লিগার সর্বোচ্চ গোলদাতার খেতাব পিচিচির ট্রফি জয় করেছেন। এর মধ্যে গত মৌসুমসহ টানা ৪ বার এই ট্রফি নিজের ঘরের নিয়েছেন আর্জেন্টাইন ফুটবল জাদুকর। তবে গত মৌসুমের বিভিন্ন ঝামেলার কারণে এই মৌসুমের শুরুতে গোলের দেখা পাননি তিনি। ফলে পিচিচির দৌড়ে অনেক পিছিয়ে ছিলেন তিনি। তবে ২ ম্যাচে ৪টি গোল করে এখন আবার সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছেন তিনি। লা লিগায় সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকার সবার উপরে মেসির নাম না থাকাটাই যেন অস্বাভাবিক বিষয়। গত কয়েক বছরে মেসির নামটিই এখানে সবচেয়ে বেশি জ্বল জ্বল করেছে। এখন মেসির নাম আবার শীর্ষস্থানে উঠে আসায় যেন সব কিছু স্বাভাবিক হয়েছে।

এমএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়