ভ্যাকসিন পেতে নিবন্ধন শুরু ২৬ জানুয়ারি

আগের সংবাদ

বিদ্যালয় এখন খুলে দেয়া উচিত

পরের সংবাদ

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় জাপানিরাই হতে পারে মডেল

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১১, ২০২১ , ৯:১৯ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ১১, ২০২১ , ৯:১৯ অপরাহ্ণ

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় জাপানিদের সুনাম বিশ্বব্যাপী। যারা জাপান ভ্রমণ করেছেন বা জাপানিদের সম্পর্কে জেনেছেন তারা বিষয়টি অবগত। জাপানিরা শুধু দেশটাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখেন না তারা যেখানে যান বা বিদেশ ভ্রমণ করলেও সে জায়গাও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করেন। প্রশ্ন হতে পারে, জাপান এই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার শিক্ষা পেল কোথা থেকে? সহজ উত্তর হলো, জাপানে শিশু বয়স থেকে বিদ্যালয়ে ও পরিবারে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার শিক্ষা দেয়া হয়। বিদ্যালয়গুলোতে শিশুদের দিয়ে নিজেদের ক্লাসরুম, বিদ্যালয়ের আশপাশ, টয়লেটসহ পাঠসংশ্লিষ্ট সবকিছু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার মতো ব্যবহারিক কাজ করানো হয়। পরিবারগুলোতেও ছোটকাল থেকে জাপানি শিশুরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার শিক্ষা-দীক্ষা পেয়ে থাকে। শিশুদের জন্যও পরিবারে আলাদা আলাদা কাজ ভাগ করা আছে। বিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ওপর পাঠ নির্দিষ্ট করা আছে। জাপানে শিশুদের এই শিক্ষা দেয়া হয় যে কোনো কাজই ছোট নয়। অন্যান্য পেশার মতো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সঙ্গে যারা সংশ্লিষ্ট তাদেরও গুরুত্ব ও মর্যাদার দিক দিয়ে কখনো খাটো করা হয় না। এ কথা সবাই জানে যে, যে জাতি শ্রমের মর্যাদা দিতে জানে সে জাতির উন্নতি অবধারিত।
রাজধানী ঢাকা শহর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য কয়েক বছর আগে রাস্তাগুলোর পাশে ফুটপাতে মিনি ডাস্টবিন বসানো হয়েছিল। কিন্তু সে প্রকল্প মুখ থুবড়ে পড়েছে অনেক আগেই। ঘিঞ্জি এই শহরে সরাসরি জনসাধারণসংশ্লিষ্ট যে কোনো প্রকল্প বা কর্মসূচি নেয়ার আগে ব্যাপক জনসচেতনতা ও সতর্কতার প্রয়োজন রয়েছে; যেটা ‘মিনি ডাস্টবিন প্রকল্পে’ করা হয়নি। জাপানি মডেল বাংলাদেশে কার্যকর করার জন্য সবার আগে কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। বিদ্যালয়গুলোতে শিশুদের পড়াশোনার জন্য পাঠ্যসূচিতে সুনির্দিষ্টভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ওপর বিভিন্ন দেশের উদাহরণ ও পাঠ সংযোজন করতে হবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব শিশুকাল থেকেই শিশুদের মধ্যে প্রোথিত করতে হবে। বিদ্যালয়গুলোতে ব্যবহারিক কাজের অংশ হিসেবে বিদ্যালয়ের আশপাশ, শ্রেণিকক্ষসহ শিশুদের কাজের উপযোগী সব কাজে শিশুদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজগুলোতে প্রণোদনা হিসেবে নম্বর ও পুরস্কার দিয়ে প্রেরণা জোগাতে হবে। পরিবারে শিশুরা যেসব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করতে পারে সেসব কাজ শিশুদের দিয়ে করাতে হবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজগুলো শিশুদের দিয়ে করাতে পারলে শিশুদের মধ্যে ছোট বয়স থেকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা ও চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার প্রতি সচেতনতা গড়ে উঠবে। সরকার থেকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রতি গুরুত্বরোপ করে যদি কোনো প্রকল্প নেয়া হয় তবে সেটি বাস্তবায়ন করার পূর্বে সচেতনতা ও সতর্কতার ওপর ব্যাপক জোর দিতে হবে। সব এলাকায় একসঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়ন না করে একটি নির্দিষ্ট এলাকায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে কাজ শুরু করে আগে কাজের অগ্রগতি যাচাই করা যেতে পারে। কোনো নির্দিষ্ট এলাকার মানুষের মধ্যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কাজের অংশ হিসেবে রাস্তায় ময়লা না ফেলে নিজেদের কাছে রাখা নির্দিষ্ট ব্যাগে ময়লা সংরক্ষণ করার মতো কাজে গুরুত্বারোপ করা যেতে পারে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের পাশাপাশি ইতিবাচক কাজের জন্য পুরস্কারেরও ব্যবস্থা করতে হবে। নিজের ঘর, নিজের চারপাশ, নিজের জামাকাপড় পরিষ্কার-পরিছচ্ছন্ন রাখার কাজে কখনই অবহেলা করা উচিত নয়। একদিকে ছোটকাল থেকে যদি শিশুদের পড়ালেখা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার মতো ব্যবহারিক কাজে সংযুক্ত করা যায় অপরদিকে জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা ও গুরুত্বের ওপর জোর দেয়ার পাশাপাশি বিধিনিষেধ আরোপ করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাকে অন্যান্য কাজের মতো নিত্যকাজ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা যায়, তাহলে সেদিন বেশি দূরে নয় যেদিন বাঙালি জাতিও বিশে^র বুকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার মডেল হিসেবে পরিচিতি পাবে।

৫/এ নারিন্দা রোড, নারিন্দা, সূত্রাপুর, ঢাকা।

এসএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়