হ্যান্ডবলে পুলিশের শুভ সূচনা

আগের সংবাদ

অন্ধকার থেকে আলোকিত দেশে ফেরা

পরের সংবাদ

নিরাপদ হোক সোশ্যাল মিডিয়া

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১০, ২০২১ , ১০:১৬ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ১০, ২০২১ , ১০:১৮ অপরাহ্ণ

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে সোশ্যাল মিডিয়া বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই সঙ্গে বৃদ্ধি পাচ্ছে ব্যবহারকারীর সংখ্যাও। সামাজিক মাধ্যমগুলোর মধ্যে ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম, ইমোর মতো মাধ্যমগুলো সব থেকে বেশি ব্যবহার হচ্ছে। আধুনিক যুগের এই মাধ্যমগুলো মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সহজ করে দিয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে খবর চলে আসে মিনিটে। আগে যেটা এক মাসেরও বেশি সময় লাগত, সেটা হয়ে যাচ্ছে নিমিষেই। সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতে মানুষ তাদের আবেগ, ইচ্ছাগুলো প্রকাশ করে থাকে। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর বড় সাফল্য হচ্ছে জনমত তৈরি করা। কেউ দুর্নীতি বা কোনো অন্যায় করলে এই মাধ্যমগুলোর মাধ্যমে প্রতিবাদ জানায়। সোশ্যাল মিডিয়া যেমন মানুষের উপকারের জন্য ব্যবহার করা হয় তেমনি এগুলোই আবার মানুষের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। বাবা-মা অজ্ঞতাবশত তাদের স্কুলপড়ুয়া ছেলেমেয়েদের হাতে স্মার্টফোন তুলে দেন। এতে তাদের উপকার হওয়ার চেয়ে ক্ষতিটাই বেশি হয়। বিশেষ করে এই করোনাকালীন সময়ে অনেকেই অনলাইন ক্লাসের দোহাই দিয়ে স্মার্টফোন কিনেছে। স্মার্টফোন পাওয়ার ফলে তারা প্রচুর সময় ফোনের পেছনে ব্যয় করে। বন্ধু-বান্ধব দ্বারা প্রভাবিত হয়ে ফেসবুক, ইনস্টগ্রামে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট খোলে ভার্চুয়াল বন্ধু-বান্ধব তৈরি করে অনেক সময় এগুলোর পেছনে ব্যয় করে। পড়াশোনার প্রতি তীব্র অনীহা, মনঃসংযোগের ঘাটতি, সমবয়সী বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে সামাজিক মেলামেশা- এসব কিছুই ভীষণভাবে বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, রাতের পর রাত জেগে এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে সক্রিয় থাকার ফলে শরীরের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। বাবা-মাকে ফাঁকি দিয়ে মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে।

অল্প বয়সে স্মার্টফোনে আসক্ত হওয়ার ফলে বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে অপরাধের প্রবণতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেকে ফেসবুকের বা অন্যান্য নিরাপত্তার বিষয়ে বিস্তারিত না জেনেই অ্যাকাউন্ট তৈরি করছেন। যার ফলে হ্যাকাররা এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অবৈধভাবে তাদের অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিচ্ছে এবং তাদের ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতে বা ফেসবুকে ছড়িয়ে দিচ্ছে। অনেকের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে তারা অর্থ দাবি করে। ফেসবুক হ্যাক কিংবা অন্য মাধ্যমগুলো হ্যাক হওয়ার পেছনে প্রধান কারণ হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিরাপত্তার বিষয়ে তাদের অজ্ঞতা। হ্যাকাররা বিভিন্নভাবে তাদের ষড়যন্ত্রের ফাঁদ পেতে রাখে। তার মধ্যে একটি হচ্ছে, ভিকটিমকে তারা একটা ছোট লিঙ্ক মেসেজ পাঠিয়ে বলে এটাতে তোমার কিছু পছন্দের ছবি আছে ওপেন করে দেখ। এ রকম টাইপের আরো অনেক কিছু দিয়ে থাকে তারা। দেখা যায়, অনেকে শখের বশত এটা ওপেন করে ফেলে। যার ফলে এই লিঙ্কটা ওপেন করার সঙ্গে সঙ্গে ভিকটিমের অ্যাকাউন্টের সব তথ্য হ্যাকারদের হাতে চলে যায়। এ ছাড়া আরো বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে হ্যাকাররা সাধারণ মানুষের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলো হ্যাক করে অর্থ ছাড়াও ব্যক্তিগত আক্রোশের কারণে তাদের ছবিগুলোকে এডিটিং করে তাদের প্রোফাইলে ছেড়ে দেয়। আর এই বিষয়টি বেশি উপলব্ধি করা যায় মেয়েদের ক্ষেত্রে। অনেকে চরমভাবে হতাশায় ভোগে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। যারা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়া খবর প্রচার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে ওই চক্রগুলোকে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসতে হবে এবং তাদের যথোপযুক্ত শাস্তি প্রদান করে জনসম্মুখে বাস্তবায়ন করতে হবে। যার ফলে পরবর্তী সময় যাতে এমন কাজটি করার কেউ সাহস পাবে না। তা ছাড়া বাবা-মাকেও সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে সন্তানদের প্রতি। সন্তানদের সঙ্গে সময় দেবে, সন্তানদের হাতে স্মার্টফোনের পরিবর্তে বই তুলে দিতে হবে। যার ফলে বইয়ের প্রতি তাদের শক্তি হবে। এতে করে সমাজ আরো সুন্দর হবে। আর আমাদের দেশের প্রত্যেক জনগণ গড়ে উঠবে সুনাগরিক হিসেবে। তাই নিরাপদ সোশ্যাল মিডিয়া হওয়াটাই সময়ের দাবি। বিষয়টি অতীব জরুরি।

শিক্ষার্থী, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।

[email protected]

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়