বঙ্গবন্ধুর লন্ডন সফরের ঐতিহাসিক দিনটি স্মরণ করল যুক্তরাজ্য

আগের সংবাদ

মহাসড়কে শৃঙ্খলার বালাই নেই

পরের সংবাদ

আর্থিক খাতে কেলেঙ্কারি তদন্ত ধীরগতি

দুদকের আইনজীবী প্যানেল শক্তিশালী করা জরুরি

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১০, ২০২১ , ১০:৫২ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ১০, ২০২১ , ১০:৫২ অপরাহ্ণ

আর্থিক খাতে নানা কেলেঙ্কারি ও দুর্নীতির দায়ে দুদকের মামলাগুলোর অগ্রগতি নেই। বেসিক ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক ও ফারমার্স ব্যাংকসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে বড় জালিয়াতির হোতা হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছে। এ ছাড়া ডেসটিনি, হলমার্ক, যুবক, ক্রিসেন্ট গ্রুপ ও বিসমিল্লাহ গ্রুপের মতো চাঞ্চল্যকর মামলাগুলোর ক্ষেত্রে অগ্রগতি নেই। এসব আর্থিক কেলেঙ্কারি ব্যাংক খাতকে নাজুক অবস্থায় ঠেলে দিয়েছে। চরম অনিয়ম, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা এবং নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। কয়েকটি ধ্বংসের দ্বারপ্রাপ্তে। বেসিক ব্যাংকের এত বড় কেলেঙ্কারি, অথচ সেই ব্যাংকের চেয়ারম্যানের কিছুই হয়নি, যিনি কিনা ব্যাংকের ৮০ শতাংশ টাকা লুট করে নিয়েছেন। ফারমার্স ব্যাংকের কর্ণধার সাবেক এক মন্ত্রী এবং তার সমর্থনপুষ্ট চিশতি গং হাজার হাজার কোটি টাকা বের করে নিয়েছেন। অথচ ফারমার্স ব্যাংকটি নাম বদলে টিকে থাকার চেষ্টা করছে। এসব প্রভাবশালী ব্যক্তি দুর্নীতি দমন কমিশনকেও (দুদক) জিম্মি করে ফেলছেন। দুদক বেশ কিছু ভালো কাজ করলেও আর্থিক কেলেঙ্কারির হোতাদের কাছে গিয়ে কখনো কখনো আটকে যাচ্ছে, সরকারের ভেতর থেকেও কেউ কেউ নানাভাবে দুর্নীতিবাজদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে। অর্থনৈতিক উন্নয়নের নানা সূচকে বাংলাদেশের অগ্রগতির এবং সমৃদ্ধির উজ্জ্বল চিত্র আমাদের উল্লসিত করলেও আমাদের সব উচ্ছ্বাস থেমে যায় ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধির অঙ্ক দেখলে। এ বিষয়ে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে সবাই সচেতন এবং ওয়াকিবহাল। বিষয়টি সবাইকে বিব্রত করে। অস্বীকার করার উপায় নেই, রাজনৈতিক ছত্রছায়া, উচ্চ আদালতে রিট, সর্বোপরি বিচার না হওয়ার কারণেই বড় বড় অর্থ আত্মসাৎ ও ঋণখেলাপির ঘটনা ঘটছে। এমনকি নিয়ন্ত্রক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের দুর্বলতা, রাঘব-বোয়ালদের বাঁচাতে উচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ এবং তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না করার কারণে আর্থিক খাতের লুটেরা শ্রেণি উৎসাহিত হচ্ছে। আর্থিক খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতি রোধে দুদক আশাবাদী হলেও মামলাগুলোর অগ্রগতি হতাশাজনক। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইনে যে কোনো মামলা দায়েরের পরবর্তী ৬ মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করার বিধান রয়েছে। আর বিচার শুরু হওয়ার দিন থেকে পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে বিচারকাজ শেষ করার কথা। কিন্তু দুদকের মামলায় বেশিরভাগই দুই থেকে আড়াই বছর লেগে গেছে তদন্ত শেষ করতে। একইভাবে বিচার শুরু হওয়ার পরও বছরের পর বছর অতিবাহিত হলেও শেষ হচ্ছে না বিচারকাজ। আমরা চাই, দুদক একটি মর্যাদাসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান হিসেবে দুর্নীতি দমনে সুষ্ঠু ভ‚মিকা পালনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করুক। দুদকে দক্ষ ও নিষ্ঠাবান আইনজীবীর সংকট রয়েছে। যে কারণে দুদক প্রভাবশালী ও ধনাঢ্য অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েও কুলিয়ে উঠতে পারছে না, বেশিরভাগ মামলায় আসামিদের শাস্তি নিশ্চিত করতে পারছে না। কাক্সিক্ষত ভূমিকা নিশ্চিত করতে দুদকের নিজস্ব আইনজীবী প্যানেলকে শক্তিশালী করা এবং মামলার প্রয়োজন অনুযায়ী উপযুক্ত মাপের আইনজীবী দ্বারা মামলা পরিচালনার কথাও এখন ভাবতে হবে।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়