দেশে করোনায় আরও ১৬ জনের মৃত্যু

আগের সংবাদ

নিউজ ফ্ল্যাশ

পরের সংবাদ

গো-খাদ্যের হাহাকার, বিপাকে খামারিরা

প্রকাশিত: জানুয়ারি ৮, ২০২১ , ৫:১৪ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ৮, ২০২১ , ৫:১৫ অপরাহ্ণ

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় গো-খাদ্যের বাজারে হাহাকার পরেছে। করোনাকালেও সরকারি কোনো সহায়তা মিলেনি গরু খামারিদের ভাগ্যে। গরু পালনে চরম বিপাকে পড়েছেন উপজেলার খামারিরা।

উপজেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা জুড়ে ছোট-বড় প্রায় ২ হাজার ৮০৮ টি গরুর খামার রয়েছে। এসব খামারে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার ৫৭৩টি গরু লালনপালন করেন খামারিরা। গেল বন্যায় রাণীনগর উপজেলাসহ আশেপাশের বিভিন্ন এলাকায় ধান পানিতে ডুবে যাওয়ায় গরুর প্রধান খাদ্য খড়ের চরম সংকট দেখা দেয়।

স্থানীয়দের মতে, গত মৌসুমে প্রতি বিঘা (৩৩ শতক) জমির খড় রকম ভেদে ৫শ’ থেকে ৮শ’ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কিন্তু সেই খড় বর্তমানে প্রতি বিঘা বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকায়। এছাড়া ধান কাটার পর জমিতে অবশিষ্ট যে নাড়া থাকে সেই নাড়াও এবার প্রতি বিঘা ১ হাজার থেকে দেড় হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে গরুর প্রধান খাদ্য খড় নিয়ে চরম বিপাকে পরেছেন এলাকার খামারিরা।

উপজেলার আবাদপুকুর কুতকুতি তোলা মোড়ের গো-খাদ্য ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী খাঁন জানান, ভুষি,ময়দা, খৈল এসবেও বস্তা প্রতি প্রায় আগের তুলনায় ২শ’ থেকে আড়াই শ’ টাকা দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে গো-খাদ্যের দাম বাড়লেও সেই তুলনায় বাজারে গরুর দাম বাড়েনি। এমন সংকটে করোনাকালে রিক্সা, ভ্যান, পরিবহন চালক, অসহায় দুঃস্থদের এবং ফসল উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতে সরকার প্রনোদনা দিলেও মাংস, দুধ উৎপানে এই এলাকায় খামারিদের কোন সরকারি সহায়তা মিলেনি। ফলে সরকারের সুযোগ-সুবিধা বঞ্চিত অনেক খামারিরা লোকসানের কবলে পরে দিশেহারা হয়ে পরেছেন।

কালীগ্রাম বড়িয়াপাড়া গ্রামের খামারী খলিলুর রহমান, আতাইকুলা গ্রামের শাহিনুর রহমান, মিরাটের বীরেন হাওলাদার, ঘোষগ্রামের লোটন হোসেন, ভবানীপুরের হাসান আলীসহ অন্যান্য খামারীরা জানান, এলাকায় গরুর প্রধান খাদ্য খড়ের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। আমরা অনেকেই খড় না পেয়ে জমি থেকে নাড়া, পানা বা বাতরাজ কেটে খাওয়াচ্ছি। তারা বলেন, সরকারি ভাবে খাদ্য সহায়তার জন্য তালিকা হয়েছে শুনেছি। কিন্তু করোনাকালীন দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও আশ্বাস ছাড়া ভাগ্যে কোন সহায়তা মেলেনি। চরা দামে খাদ্য কিনে গরু পালনে লোকসান হচ্ছে। তাই খামারীদের টিকে রাখতে সরকারিভাবে খাদ্য সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এ ব্যাপারে রাণীনগর উপজেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, করোনাকালীন খামারীদের কিছুটা লোকসান পোষাতে ইতোমধ্যে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে তালিকাও করা হয়েছে। কিন্তু এখনো কোন সহায়তা আসেনি। আসা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যেই এই সহায়তা খামারিরা পাবেন।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়