একশত বছর পর

আগের সংবাদ

জননিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর

পরের সংবাদ

পারমিতার জগৎ

প্রকাশিত: জানুয়ারি ৭, ২০২১ , ৫:৫৫ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ৭, ২০২১ , ৫:৫৫ অপরাহ্ণ

আমি পারভিনকে পাশ কাটাবার জন্য বললাম, “তেমন কিছুই না, দূরসম্পর্কের আত্মীয়!” ওকে আর প্রশ্ন করার সুযোগ না দিয়ে আমি বাথরুমে ঢুকে গেলাম। বাথরুমে ঢুকে আমার মনে হলো, সবুজকে কেন আমি ‘তুমি’ সম্বোধন করলাম! ফ্রেশ হয়ে ফিরে আসতেই আবার ছেঁকে ধরলো পারভিন, “ইয়ার্কি নয়, সত্যি করে বল, কী সম্পর্ক তোর সাথে?” আমি হেলা করে বললাম, “বললাম তো কিছু না। মেজ’পার শ্বশুড়বাড়ির পাশের বাসায় থাকেন। উনি একজন কবি। মানুষের হাত দেখে অতীত-ভবিষ্যৎ সব বলে দিতে পারেন। তার কবিতা আমার খুবই প্রিয়। ব্যস এটুকুই।” পারভিনের আগ্রহ বেড়ে গেলো, “হাত দেখতে পারেন? তাহলে তো তাকে আমার হাতটা দেখাতে হবে!” আমি হাসলাম, “বেচারা অসুস্থ। পরশু অপারেশন হবে; এখন কি তোর হাত দেখাবার সময়?” পারভিন অবাক হয়ে বললো, “এখন কেনো? অপারেশন হয়ে যাক, তারপর দেখাবো। তুই কি আজ আর যাবি না তাকে দেখতে?” বিছানায় শুতে শুতে বললাম, “বলে তো এসেছি, বিকেলে যাবো; যদি ঘুম ভাঙে, আর মন যদি ঠিক থাকে তাহলে যেতে পারি।” পারভিন আমার পাশে বসলো, “শুয়ে পড়ছিস যে, খেতে যাবি না?” আমি চাদরে মাথাটা ঢেকে বললাম, “খেতে ইচ্ছে করছে না। তুই খেয়ে আয়। পারভিন “হুম” বলে উঠে গেলো। যেতে যেতে জিজ্ঞাসা করলো, “কয়টায় ডেকে দেবো? অবশ্য জানি, ডাকার প্রয়োজন হবে না। তুই আসলে ঘুমাতেই পারবি না। কবির চুলে আঙুল চালাবার দৃশ্য দেখেই বোঝা হয়ে গেছে সব আমার।” পারভিন খেতে চলে গেল।
পারভিনের কথাই সত্যি হলো, আমি চাদর মুড়ি দিয়ে শুয়েই থাকলাম, ঘুম আসলো না দণ্ডের জন্য। কেবল ঘুমের ভান করে বিছানায় শুয়ে রইলাম। পারভিন খেয়ে ফিরলো। গুন গুন করে সিনেমার একটা গান গাইতে গাইতে দরোজা বন্ধ করে শুয়ে পড়লো। সবই টের পেলাম কিন্তু ঘুমের ভান করে পড়ে রইলাম, নড়াচড়া করলাম না একদম।

\৪\
প্রখর রোদ্দুরে একখণ্ড মেঘ যেনো ছায়া দিয়ে গেল
কানে কানে প্রশ্ন করে গেল “এতোদিন কোথায় ছিলেন?”
তবে কি মেঘের ভিন্ননাম বনলতা সেন ছিলো একদিন?
ভেতরে যন্ত্রণা ছিলো যতো এতোদিন
মেঘবালিকার স্পর্শে হয়ে গেলো পলকে বিলীন!
বিপন্নের এই উপশমগীতি গেয়ে গেল দুপুর-শালিক
যেনো সাতসমুদ্দুর পেরিয়ে আসা শীতল বাতাস
কিছুক্ষণ ঝরেছিলো শ্রাবণের ধারা
সহস্র বছর পর যেনো শোনা গেল কড়ানাড়া
একপাশে মৃত্যুদূত খাড়া অন্যপাশে জীবনের পক্ষে সাড়া।
স্বপ্নেরা বিকেলে যদি প্রজাপতি ওড়ে
‘ভালোবাসি’ যদি বলে কেউ আকুল-ব্যাকুল স্বরে
করতল রাখে যদি কপালে সযতে্ন মায়াময়
অতঃপর এ জীবন যদি অন্ধ হয়,
থাকে কি মৃত্যুতে পথ হারাবার ভয়
ভুলে যাবো দু’জনেই কখন কোথায় দু’জনার হলো পরিচয়;
আমি তো ভোলার সব আয়োজন রেখেছি প্রস্তুত সারাক্ষণ
মৃত্যুর সমস্ত অনুপান রাখে প্রস্তুত আত্মহত্যাপ্রবণ বালিকা যেমন।
মৃদুকুঞ্চিত সাদা কাগজের বুকে কম্পিত হাতে লেখা কবিতাটি আমি রাতে কতবার পড়েছি বলতে পারবো না। কবিতার গূঢ় অর্থ অনুধাবনের চেষ্টা করেছি; শেষ দুই লাইন নিয়ে চরম সংকটে পড়েছি বারবার; আবার ভেবেছি, আমি যা ভাবছি হয়তো তেমনটি নয়, কতটুকুই বা বুঝি আমি কবিতার? কবিরা যে কত মকশো করে কবিতা লিখতে পারে! পাঠককে বিভ্রান্ত করেই যেনো কবিদের সুখ! কালকে গিয়ে জিজ্ঞাসা করতে হবে, কেনো শেষ দুই লাইন লেখা হয়েছে? পড়তে পড়তে কখন যে দু’চোখের পাতা বন্ধ হয়ে পড়েছিলো তাও জানি না। বুকের ভেতর কেবল জেগেছিলো সবুজের সাথে বিকেলে অপূর্ণ সাক্ষাতের স্মৃতি।
বিকেলে যখন সবুজকে দেখতে গেলাম, ও তখন জেগেই ছিলো; ওর ক’জন বন্ধু এসেছিলো দেখতে। আমি যাবার পর একজন বললো, “আমরা এখন তাহলে আসি। ডাক্তার ম্যাডাম চলে এসেছেন যখন আমরা থেকে লাভ কী? আমরা বরং একটু ঘুরে আসি।” আস্তে আস্তে সবাই বেরিয়ে গেল। হাতে করে আমি কিছু আঙুর কিনে নিয়ে গিয়েছিলাম, তার থেকে চার-পাঁচটা ওর মুখে তুলে দিলাম; বাকিটা রেখে দিয়ে বললাম, “একবারে বেশি আঙুর খাওয়া ঠিক না, পরে আবার খেয়ো।” সবুজ কেমন যেনো রহস্যের হাসি হাসলো, তারপর মৃদু কণ্ঠে বললো, “আমার তো মনে হচ্ছে, কেন থাকি না এ হাসপাতালে শল্যচিকিৎসার রুগী হয়ে অনন্তকাল?” সবুজের কথার অর্থ আমি বুঝলাম, কিন্তু না বোঝার ভান করে বললাম, “অনন্তকাল রুগী হয়ে থেকে কী লাভ?” সবুজ আবার রহস্য করে হাসলো, “তোমার সযতœ স্পর্শ যদি পাই ক্ষতি-ই বা কী?”” আমি কোন কথা বলতে পারলাম না, চুপচাপ সবুজের মাথার চুলে আঙুলের বিলি কেটে দিতে থাকলাম। সবুজ বালিশের নিচ থেকে একটা ভাঁজকরা কাগজ বের করে আমার হাতে দিয়ে বললো, “হোস্টেলে গিয়ে এটা পড়ে দেখো। আজ দুপুরেই লিখেছি তুমি চলে যাবার পর।” কাগজটা হাতে নিয়ে একবার খুলে দেখতে ইচ্ছে হলো, কিন্তু চিঠি ভেবে আমার সাহস হলো না খুলতে; কোত্থেকে যেনো একরাশ লজ্জা এসে আমায় জাপটে ধরলো। তবু লজ্জার মাথা খেয়ে প্রশ্ন করলাম, “এটা কী চিঠি লিখেছো আমার কাছে?” সবুজ রহস্য করে উত্তর করলো, “চিঠিও ভাবতে পারো আবার কবিতাও। আমি আসলে আমার আজকের অনুভব বর্ণনা করে একটা কবিতা লিখতে চেয়েছি, জানি না তুমি পড়তে পারবে কি-না? ছিঁড়ে ফেলে দিও না; আমার কাছে এর কোন কপি নেই।” আমার কেনো যেনো ইচ্ছে হচ্ছিলো, সবুজের বুকে মাথা রেখে কিছুক্ষণ কাঁদি; এ সময় সবুজের মা আর ভাই এলেন। আমি তাঁদের অপরিচিত নই। আমি ভাঁজ করা কাগজটা আমার হাতের ছোট্ট পার্সটাতে রেখে দিলাম। সবুজ আমাদেরকে পরিচয় করিয়ে দিতে চাইলো, “মা ও সলিম ভাইয়ের বউ মধুমিতা ভাবীর ছোট বোন পারমিতা। ও এই কলেজেই ডাক্তারি পড়ে।” আমি উঠে দাঁড়িয়ে সবুজের মা-ভাইয়ের সাথে সালাম বিনিময় করলাম। সবুজের মা আমায় আদর করে বললেন, “চিনি তো আমি ওকে। কী গো মা তুমি এই কলেজেই পড়ো? তাহলে আমার এই পাগল ছেলেটার একটু খোঁজ রেখো। কখন যে ওকে কোন পাগলে পায়, কোথায় যে হারিয়ে যায়! মায়ের যন্ত্রণাটা যদি একটু বুঝতো!” মায়ের চোখ ছলছল করে উঠলো, আমি তাঁকে সান্তনা দিয়ে বললাম, “আপনি একটুও চিন্তা করবেন না খালাম্মা। আমি কামাল স্যারের সাথে কথা বলেছি, আশা করি কোন সমস্যাই হবে না।”
সন্ধ্যা পেরিয়ে গেছে অনেক্ষণ। এ সময় পারভিন আসে আমার খোঁজে। সামান্য ভর্ৎসনার সুরে বলে, “কিরে সন্ধ্যা হয়েছে কখন? হোস্টেলে যেতে হবে না?” আমি যেনো পালাবার পথ খুঁজে পেলাম। বিদায় নিয়ে বললাম, “আজ আসি। টেনশান করবেন না। আমি কালকে আবার এসে খোঁজ নিয়ে যাবো।” পারভিনকে নিয়ে আমি বেরিয়ে এলাম ওয়ার্ড থেকে।
হোস্টেলে ঢুকে অস্থির হয়ে ছিলাম, কখন পড়বো, ভাঁজ করা কাগজটা খুলে! রাতের খাবার খেয়ে আসলাম দু’জন। পারভিন বই নিয়ে বসলো, আর আমি শুয়ে মগ্ন হলাম কবিতায়। পড়তে পড়তেই ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম। ঘুম যখন ভাঙলো, দেখলাম হাতে নেই কবিতাটি। পারভিন শুয়ে পড়েছিলো। আমার প্রশ্নের উত্তরে মুচকি হেসে বললো, “আমি কী করে বলবো তোর কবির কবিতা কোথায়? হয়তো বাতাসে কোথাও উড়ে গিয়ে থাকবে।” ধড়ফড় করে উঠলাম, আশপাশে খুঁজে দেখলাম, কোত্থাও নেই। পারভিনের হাসি আর কথায় মনে হচ্ছিলো ও মিথ্যা কথা বলছে। আমি সিরিয়াস, “দেখ পারভিন সবকিছু নিয়ে ইয়ার্কি ভালো লাগে না! কবিতাটার কোনো কপি নেই, ওটা হারিয়ে গেলে ও খুব মন খারাপ করবে!” এবার পারভিন কিছুটা নমনীয় হলো, “কিছু খরচাপাতি কর, নইলে আমাকেই খরচাপাতি করতে হবে?”
: খরচাপাতি করতে হবে মানে কী?
: মানে, কিছু না, হয় তুই কিছু খরচ করবি, না হয় কালকে আমি কবিতাটা কপি করে সবার মাঝে বিতরণ করে জানাবো, এমন একজন প্রতিভাবান কবি ভর্তি আছেন আমাদের হসপিটালে; সবাই যেনো তার একটু খোঁজ-খবর করে।
: ইয়ার্কি হচ্ছে! তুই না আমার বন্ধু? এটাই কি বন্ধুত্বের নমুনা?
: না-রে পারমিতা, কবিতাটা কিন্তু সত্যিই চমৎকার। তোর সামান্য স্পর্শেই এমন সুন্দর কবিতা! আরও বেশি কিছু পেলে হয়তো ‘পারমিতার জগৎ’ নামে মহাকাব্যই লিখে ফেলবে একটা।
: আর কিছু দেবার সুযোগ কী আর এ জীবনে আসবে?
: আসবে না কেনো? সমস্যা কোথায়?
: সমস্যা যে কোথায় এবং কত বড়, তাই তো জানি না; কেবল বুঝি, পাহাড়সমান সমস্যা অপেক্ষা করছে আমার আকাক্সক্ষার সামনে।
কিছুক্ষণ দু’জন চুপ করে থাকলাম। পারভিন নিজের বালিশের তলা থেকে কবিতাটা বের করে আমায় ফিরিয়ে দিয়ে বললো, “সত্যি দোস্ত কবিতাটা বড় টাচি। কবির প্রেমে পড়ে যেতে ইচ্ছে করছে আমারও।” বুকে যেনো আঘাত পেলাম, “ব্যস! আর সামনে এগোবার প্রয়োজন নেই।” প্রসঙ্গ পাল্টাতে বললাম, “আচ্ছা আমাদের হসপিটালে ল্যাপ্রোস্কোপিক অপারেশন হয় না, তাই না?” পারভিন আমাকে সান্তনা দিয়ে বললো, “টেনশান করিস না, কামাল স্যারের হাত খুবই ভালো। ঢাকায় দু’একটা হসপিটালে ল্যাপ্রোস্কোপিক অপারেশন হয় শুনেছি। কিন্তু সে-তো খুবই ব্যয় সাপেক্ষ।” আমার মুখে আর কথা ফুটলো না। পারভিন মমতা মাখানো কণ্ঠে বললো, “শুয়ে পড় তো, রাত হয়েছে অনেক।”
আমার মনটা আজ যুগপৎ বিক্ষিপ্ত-বিরক্ত এবং বিষাদগ্রস্ত। বিক্ষিপ্ত সবুজকে নিয়ে, বিরক্ত সহপাঠি বন্ধুদের নিয়ে, আর বিষাদগ্রস্ত সবুজের জন্যে। সবুজের অপারেশন হবার কথা, কিন্তু আমি পাশে থাকতে পারছি না, মনটা তাই বিক্ষিপ্ত। গতকাল সকালে যখন সবুজের সাথে দেখা করতে গেলাম, তখন তাকে অনেকটাই ফ্রেশ মনে হচ্ছিলো। আমি নিজের দু’করতলে ওর মুখমণ্ডল, দু’চোখ-ঠোঁট-গলায় যত্ন-স্পর্শ ছড়াতে চাইলাম, অতঃপর আলতো করে ওর দু’গালে চুম্বন করলাম। সবুজ ওর দু’হাত বাড়িয়ে আমার দুই স্কন্ধ স্পর্শ করে মৃদু আকর্ষণ করলো যেনো; আমিও তার আকর্ষণে সাড়া দিয়ে শয্যায় বসে নিজেকে ওর বুকে সমর্পণ করলাম। অতঃপর যথারীতি ওর স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নিয়ে, ওকে কয়েকটা আঙুর খাওয়ালাম। সবুজকে প্রশ্ন করলাম, “তোমাকে কি তোমার কবিতাটা ফেরৎ দিতে হবে?” সবুজ মৃদু হাসলো, “তোমার কি কবিতাটি ফেরৎ দিতে ইচ্ছা নয়? চাইলে রেখে দিতেই পারো, সেক্ষেত্রে তুমি কবিতাটি কপি করে আমাকে দিও। কেমন লাগলো আমার কবিতা?” “খুব ভালো, কিন্তু শেষ দু’লাইন নিয়ে আমার মনে সংশয় আছে। কেনো লিখেছো শেষ দু’টি লাইন, বলবে?” আমার প্রশ্নে সবুজ একটু চিন্তিত হলো, চোখ বন্ধ করে যেনো লাইন দু’টি মনে করতে চেষ্টা করলো। নিজের ঠোঁট কামড়ে বললো, “না, আমি ঠিক মনে করতে পারছি না।” আমি কবিতাটি বের করে ওর চোখের সামনে মেলে ধরলাম; সবুজ কবিতায় চোখ বুলিয়ে বললো, “হুম, এটা আসলে প্রেমিক মনের শঙ্কার কথা বলতে চেয়েছি। প্রেমে মিলন যেমন প্রেমিক-প্রেমিকার আকাক্সক্ষা, তেমনি প্রায়শ বিচ্ছেদ হয়ে ওঠে তাদের নিয়তি।” আমার ক্লাসে যাবার সময় হয়ে গেল, আমি ফিরতে চাইলাম। বললাম, “তোমার কবিতাটি চমৎকার, ভীষণ টাচি। আমার কাছেই থাকুক আমি একটা কপি করে তোমাকে পরে দিয়ে দেবো। এখন আমি আসি, জরুরি ক্লাস আছে। তাছাড়া দেখো সমস্ত ওয়ার্ড আমাদের দেখছে অবাক দৃষ্টিতে! আমরা দু’জন যেনো পৃথিবীর অষ্টম আশ্চর্য কিছু!” সবুজ মৃদু হাসলো, তারপর কবিতার মতো করে উচ্চারণ করলো, “তারচেয়ে কমকিছু নও তুমি প্রিয় পারমিতা,/ বর দিই বেহুলা-সাবিত্রী হও হও সতী সীতা!” বিকেলে আবার সাক্ষাতের আশ্বাস দিয়ে ক্লাসে চলে এলাম।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়