এবার ফার্মেসি ব্যবসায় অ্যামাজন

আগের সংবাদ

চা উৎপাদনে তৃতীয় পঞ্চগড়

পরের সংবাদ

সোনার হরিণ ধরতে অন্ধের মতো বিদেশ ছুটবেন না

প্রকাশিত: জানুয়ারি ৬, ২০২১ , ২:০৫ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ৬, ২০২১ , ২:০৫ অপরাহ্ণ

বিদেশগামীদের দালালদের বিষয়ে সর্তক করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সোনার হরিণ ধরার পেছনে কেউ দয়া করে অন্ধের মতো ছুটবেন না। দালালের খপ্পরে পড়বেন না।

বুধবার (৬ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস ২০২০ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানের গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আসলে মানুষ অনেক সময় নানা ধরনের কথা চিন্তা করে- ভাবে বিদেশে গেলে অনেক অর্থ উপার্জন করবে। সেখানে কিছু কিছু দালালের খপ্পরে অনেকে পড়ে অন্ধকারের পথে পা বাড়ায়। সেখানেও আমি তাদেরকে বলবো, আপনারা এই ধরনের পরিস্থিতির শিকার হবেন না। দালালের খপ্পরে পড়বেন না।

এখন আমাদের দেশে কাজেরও যেমন অভাব নেই, খাবারেরও অভাব নেই আল্লাহর রহমতে। কাজেই এখন আর সোনার হরিণ ধরার পেছনে কেউ দয়া করে অন্ধের মতো ছুটবেন না। আপনারা নিবন্ধন করে তার মাধ্যমে যান। সেটাই আমরা চাই।

দালালদের খপ্পরে পড়ে সব হারানোর বিষয়ে সবাই সর্তক করে সরকার প্রধান বলেন, আপনারা কারো প্ররোচনায় বিদেশে গিয়ে বিপদে পড়েন সেটা নিজেদের জন্য, পরিবারের জন্য খুবই কষ্টকর, খুবই ক্ষতিকর। কিছুদিন আগে আপনারা জানেন যে লিবিয়া থেকে কতজনকে জীবন দিতে হলো। এই পরিস্থিতির শিকার যেন আমার দেশের মানুষকে হতে না হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, অনেক সময় যারা বিদেশে যাবে তারা ধোকায় পড়ে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে, টাকা খরচ করতে যেয়ে ভিটেমাটি, জমি বিক্রি করে অথবা বন্ধক রাখে। কিন্তু যে সোনার হরিণ ধরবার জন্য বিদেশে ছোটে সেখানে গিয়ে দেখে সেই বেতনও পাচ্ছে না। আরো মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে। একদিকে যেমন নিজেদের সম্পত্তি হারানো অন্য দিকে সেখানে গিয়ে উপযুক্ত কাজের অভাব। এই ধরনের অবস্থাও আমরা দেখেছি।

বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে ভিটেমাটি বিক্রি বা বন্ধক না রেখে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা যারা বিদেশ যাবেন তারা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে যেতে পারবেন, খুব স্বল্প সুদে তাদের ঋণ দেওয়া হয়। তারা এই টাকা ব্যাংকে পাঠিয়ে ঋণ শোধ করতে পারবেন। জমি জমা বিক্রি বা বন্ধক রাখা লাগবে না।

বিদেশ যাওয়ার আগে নিবন্ধন করার করার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, সমগ্র বাংলাদেশে যে ডিজিটাল সেন্টার করে দিয়েছি তারই মাধ্যমে প্রবাসী কল্যান মন্ত্রনালয়ে নিবন্ধন করার সুযোগ আছে। আর এই নিবন্ধিত যারা যেখানেই কাজের সুযোগ হবে তাদেরকে সেখানে প্রেরণ করা হয়। কাজেই সেজন্য ধৈর্য ধরতে হবে।

মুজিব বর্ষের আহ্বান দক্ষ হয়ে বিদেশ যান এবারের আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবসের প্রতিপাদ্য ‘মুজিব বর্ষের আহ্বান দক্ষ হয়ে বিদেশ যান’ এর প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রশিক্ষণ নিয়ে বিদেশ যাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবাই যদি একটু ট্রেনিং নিয়ে দক্ষতা অর্জন করে বিদেশে যান তাহলে অর্থও বেশি উপার্জন করতে পারবেন। আবার নিজেদের চাকুরীর নিরাপত্তাটাও নিশ্চিত করতে পারবেন।

তিনি বলেন, সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ হলো যারা বিদেশে যাবে- তাদের কর্মক্ষম করে গড়ে তোলা। তাদের বিভিন্ন ট্রেনিং দেওয়া, তাদের শিক্ষা দীক্ষা থেকে শুরু করে কে কি কাজ করবেন সেই কাজে একটা যোগ্যতা অর্জন করা। যাতে করে বাইরে যেয়ে তাদের কোন বিপদে পড়তে না হয়। সেই দিকে আমরা বিশেষ ভাবে পদক্ষেপ নিয়েছি।

সরকার প্রধান বলেন, যেই যখন বিদেশ যাবেন কি কাজ করতে যাচ্ছেন তার ওপর ট্রেনিং নিতে হবে। নিজেকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। দক্ষ করে গড়ে তুলতে যথেষ্ট সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছি। দেশের বিভিন্ন জায়গায় আমরা ট্রেনিং সেন্টার করে দিয়েছি।

প্রবাসী কর্মীদের যথাযথ মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিবাসন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমি একটা অনুরোধ করবো, আমাদের এ শ্রমিক অভিবাসনের সঙ্গে যারা জড়িত, বিশেষ করে রিক্রুটিং এজেন্ট থেকে শুরু করে আমাদের মন্ত্রণালয়, তাদের প্রতি আমার অনুরোধ, এদেশের মানুষও কিন্তু মানুষ, সেভাবে তাদের মর্যাদা দিতে হবে।

সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের নির্দেশ দিয়ে সরকার প্রধান বলেন, যারা বিদেশে যেতে চান, তাদের কর্মসংস্থান ঠিক মতো হচ্ছে কিনা, তাদের নিরাপত্তা ঠিক মতো হচ্ছে কিনা, বিশেষ করে মেয়েরা, যারা যান, তাদের নিরাপত্তার বিষয়ে সবাইকে লক্ষ্য রাখতে হবে। এক্ষেত্রে আমাদের প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে কর্মরত যারা এবং বিদেশে কর্মী পাঠানোর যেসব সংগঠন আছে, তাদের আমি দায়িত্বশীলভাবে ভূমিকা পালন করার অনুরোধ করবো। কারণ, দায়িত্বটা আপনাদের ওপরই বর্তায়।

অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যান ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমেদ, প্রবাসী কল্যান ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি সভাপতি আনিসুল ইসলাম মাহমুদ,মন্ত্রনালয়ের সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীনসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এমএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়