নতুন ১ হাজার প্রাইমারী স্কুল নির্মাণের সুপারিশ

আগের সংবাদ

সেদ্ধ ডিমের যত উপকার

পরের সংবাদ

পুলিশের ভয় দেখিয়ে রাস্তা কেটে কৃষকদের হয়রানি

প্রকাশিত: জানুয়ারি ৬, ২০২১ , ৫:০৪ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ৬, ২০২১ , ৫:৫৫ অপরাহ্ণ

নেত্রকোনার মদনে রাস্তা কেটে ফসলি জমি করল প্রভাবশালীরা। এ নিয়ে উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন গ্রামবাসী। উপজেলার আওয়ামী দলীয় নেতাকর্মীসহ একাধিকবার গ্রাম বৈঠকে বসলেও এর কোন সুরাহা হয়নি।

অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার হাজরাগাতি গ্রামের রমজান মিয়ার বাড়ি হতে সুমেশ চন্দ্র আদিত্যের বাড়ি হয়ে আক্কাস মিয়ার জমি পর্যন্ত প্রায় ১ কিলোমিটার রাস্তা দিয়ে হাওরের বোরো ধান কৃষকরা বাড়িতে তুলতেন। উক্ত রাস্তাটি সংস্কার না থাকায় ফসল তোলতে দুর্ভোগে পড়তে হয় কৃষকদের। ফসল ঘরে তোলার দুর্ভোগ দূর করতে গ্রামবাসী একত্র হয়ে সুমেশ চন্দ্র আদিত্য এর বাড়িতে এক বৈঠকে বসেন। এতে সিদ্ধান্ত হয় ১ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কারের ব্যয় গ্রামবাসী বহন করবে। সারা গ্রামের গরীব অসহায় কৃষকরা ২ লাখ টাকা উত্তোলন করে ভেকু দিয়ে ৮ দিনেই এ রাস্তাটি সংস্কার করে। এতে গ্রামের কৃষদের মাঝে হাসি ফুটে উঠে।

কয়েক দিন যেতে না যেতেই সুমেশ চন্দ্র আদিত্য ও একই গ্রামের আজিজুল ষড়যন্ত্র করে গভীর রাতে ভেকু দিয়ে ৪/৫ শ ফুট রাস্তা কেটে ফসলি জমিতে রূপান্তরিত করে। এতে গ্রামের কৃষকরা উপজেলার আওয়ামী লীগের সভাপতি/সম্পাদকসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে গেলে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় আজিজুল ও সুমেশ চন্দ্র আদিত্য পুনরায় রাস্তা নির্মাণ করে দিবে। কিন্ত দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও রাস্তা নির্মাণ না করে এলাকাবাসীকে বিভিন্ন সময় সুমেশ চন্দ্র আদিত্যের ছেলে পুলিশের চাকরি করার সুবাধে মামলার ভয়ভীতি প্রর্দশন করে আসছে। গ্রামবাসী এ নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

মঙ্গলবার সরজমিনে গেলে দেখা যায়, প্রায় ৪/৫শ ফুট রাস্তা কেটে ফসলি জমি করার দৃশ্য চোখে পড়ে। এ সময় স্থানীয় আহাদ, রমজান অভিযোগ করে বলেন, আমরা গ্রামবাসী জমির মালিক সুমেশ চন্দ্র আদিত্যকে নিয়েই টাকা কালেকশন করে ২ লাখ টাকা ব্যয়ে মাটি কেটে রাস্তাটি করে ছিলাম। তারা প্রভাবশালী থাকায় রাস্তাটি কেটে আবার জমির ফসল করে ফেলেছে। প্রতিবাদ করলেই তার ছেলে পুলিশের চাকুরি করার সুবাদে স্থানীয় পুলিশ দিয়ে হয়রানির শিকার করে। নিরুপায় হয়ে আমরা অভিযোগ দায়ের করেছি। রাস্তাটি কেটে ফেলায় বোরো ধান তোলা নিয়ে দু:শ্চিন্তায় আছি। মামলা নিয়েও আতঙ্কে আছি। এ বিষয়ে গ্রামবাসী ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সুমেশ চন্দ্র আতিদ্যকে বাড়িতে না পাওয়ায় তার স্ত্রী শুকলা রানী সরকার বলেন, এ রাস্তাটি সরকারি কোন হালট নয়। এলাবাসীর সুপারিশের প্রেক্ষিতে আমার স্বামী ও পাশের বাড়ির আজিজুল তার জমি দিয়েই রাস্তাটি নিয়েছিল। কিন্তু আজিজুল না মেনে তাদের ভাইদের নিয়ে প্রথমে ভেকু দিয়ে রাস্তা ভেঙে জমি করে ফেলে। পরে আমার ছেলেরাও রাস্তাটি ভেঙে জমি করে। আমি একা দিলে তো রাস্তা হবে না। তবে আপনার ছেলে পুলিশে থাকায় হয়রানি করছে বললে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

ওসি মাসুদুজ্জামান জানান, আমি শুনেছি এলাকাবাসীর সঙ্গে সুমেশ চন্দ্র আদিত্যের জমি ও রাস্তা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে ঝামেলা আছে। তবে পুলিশের পরিচয় দিয়ে কারো অনৈতিক সুবিধা নেয়ার সুযোগ নেই।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার বুলবুল আহমেদ জানান, এ ব্যাপারে একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তাধীন আছে।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়