ভ্যাকসিন নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি বিএনপির

আগের সংবাদ

নিউজ ফ্ল্যাশ

পরের সংবাদ

বার্ধক্যের কাছে হার মানলেন কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুন

প্রকাশিত: জানুয়ারি ৩, ২০২১ , ৭:৩১ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ৩, ২০২১ , ১০:১২ অপরাহ্ণ

কথাশিল্পী রাবেয়া খাতুন। কোলাহলে থেকেও যিনি কোলাহল থেকেই ছিলেন দূরে। তবে বার্ধক্যের ভারেও সরব ছিলেন নিজের সৃজন কর্মকাণ্ড নিয়ে। দু’হাত ভরে লিখেছেন ছোটদের বড়দের সকলের জন্য। নিভৃতে থাকা এই মানুষটির কণ্ঠও স্তব্ধ হলো। মৃত্যুর মিছিলে তিনিও শামিল হলেন। রবিবার (৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিটে রাজধানী ঢাকার বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হসপিটালে বার্ধক্যের কাছে হার মানলেন তিনি। মৃত্যুকালে স্বাধীনতা পুরস্কার, একুশে পদক ও বাংলা একাডেমিসহ অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত প্রখ্যাত এই কথাসাহিত্যিকের বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। তার মৃত্যু সংবাদ চ্যানেল আই সূত্র নিশ্চিত করেছে।

জানা যায়, রবিবার দুপুরের দিকে তিনি অসুস্থতা অনুভব করায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখানই তিনি মারা যান। রাবেয়া খাতুনের মৃত্যুতে দেশের শিল্প সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলা একাডেমির সভাপতি শামসুজ্জামান খান ও মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজীও শোক জানিয়েছেন। গভীর শোকাহত চ্যানেল আই পরিবার।

রবিবার দুপুর ১২টায় বাংলা একাডেমিতে তার মরদেহ নেওয়া হবে। সেখানে সর্বস্তরের মানুষ শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এরপর ১টার দিকে চ্যানেল আই ভবনে নেওয়া হবে। পরে বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

মৃত্যুকালে তিনি চার সন্তান ফরিদুর রেজা সাগর, কেকা ফেরদৌসী, ফরহাদুর রেজা প্রবাল ও ফারহানা কাকলীসহ অনেক গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার স্বামী প্রয়াত এটিএম ফজলুল হক ছিলেন দেশের চলচ্চিত্র বিষয়ক প্রথম পত্রিকা সিনেমার সম্পাদক ও চিত্রপরিচালক। বাংলাদেশের প্রথম শিশুতোষ চলচ্চিত্র ‘প্রেসিডেন্ট’ এর পরিচালকও তিনি।

তার প্রকাশিত পুস্তকের সংখ্যা একশ’রও অধিক। এর মধ্যে রয়েছে উপন্যাস, গবেষণাধর্মী রচনা, ছোটগল্প, ধর্মীয় কাহিনী, ভ্রমণকাহিনী, কিশোর উপন্যাস, স্মৃতিকথা এবং উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে- মধুমতী, সাহেব বাজার, রাজারবাগ শালিমারবাগ, ফেরারী সূর্য, দিবস রজনী, সেই এক বসন্তে, বায়ান্ন গলির একগলি, ই ভরা বাদর মাহ ভাদর উল্লেখযোগ্য। তবে সব কিছু ছাপিয়ে উপন্যাস, ছোটগল্প, ভ্রমণকাহিনী, কিশোর উপন্যাস, স্মৃতিকথাসহ চলচ্চিত্র ও নাট্য জগতে বিচরণই মুখ্য হয়ে ওঠে রাবেয়া খাতুনের কাছে। তার মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘মেঘের পরে মেঘ’ জনপ্রিয় একটি চলচ্চিত্র। ‘মধুমতি’ এবং ‘কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টিও প্রশংসিত হয়েছে সব মহলে।

কথাসাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, হুমায়ূন কাদির স্মৃতি পুরস্কার, একুশে পদক, স্বাধীনতা পুরস্কার, বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ পুরস্কার, নাসিরউদ্দিন স্বর্ণপদক, জসিমউদ্দিন পুরস্কার, শেরে বাংলা স্বর্ণপদকসহ অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা অর্জন করেছেন।

১৯৩৫ সালে বিক্রমপুরে জন্ম তার। লেখালেখির পাশাপাশি শিক্ষকতা এবং সাংবাদিকতাও করেছেন। ইত্তেফাক, সিনেমা পত্রিকা ছাড়াও তার নিজস্ব সম্পাদনায় পঞ্চাশ দশকে প্রকাশ হতো ‘অঙ্গনা’ নামের একটি মহিলা মাসিক পত্রিকা।

বাংলা একাডেমি, চলচ্চিত্র জুরী বোর্ড, লেডিস ক্লাব, বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ, মহিলা সমিতিসহ অসংখ্য সংগঠনের সাথে যুক্ত ছিলেন রাবেয়া খাতুন।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়