মহামারির বছরে রেমিটেন্স ২১ বিলিয়ন ডলার

আগের সংবাদ

ধর্ষককে দেখেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলে নির্যাতিতা

পরের সংবাদ

বসুরহাটে জেলা প্রশাসকের অপসারণের দাবিতে সড়ক অবরোধ

প্রকাশিত: জানুয়ারি ৩, ২০২১ , ৯:১২ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ৩, ২০২১ , ৯:১২ অপরাহ্ণ

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থী আবদুল কাদের মির্জার অনুসারীরা নির্বাচনী প্রতীকের শ্লোগান ছেড়ে জেলা প্রশাসকের অপসারণ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, মন্ত্রীর নাম ভাঙ্গিয়ে টেন্ডারবাজি ও নিয়োগ বাণিজ্যের বিচারের দাবিতে সড়ক অবরোধ ও অবস্থান ধর্মঘট করেছে।
রোববার (৩ জানুয়ারি) দুপুর থেকে সড়ক অবরোধ করে জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ চলতে থাকে।
এ সময় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই পৌর মেয়র প্রার্থী আবদুল কাদের মির্জা বিক্ষোভকারীদের মাঝে শুয়ে পড়লে সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সমাবেশের কারণে যান চলাচল বন্ধ থাকে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার সকাল ১০টার দিকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের উপস্থিতিতে আগামী ১৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য বসুরহাট পৌর নির্বাচনের নির্বাচনী আচরণবিধি সংক্রান্ত সভা চলছিল।
এসময় আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আবদুল কাদের মির্জা তার বক্তব্যে নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী, ফেনীর সংসদ সদস্য নিজাম হাজারী ও সন্দ্বীপের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। এছাড়াও দলীয় বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম তাকে নির্বাচন ও আচরণবিধি মেনে কথা বলার জন্যে অনুরোধ জানান।
এতে ক্ষুদ্ধ হয়ে মেয়র প্রার্থী আবদুল কাদের মির্জা সভাস্থল ত্যাগ করেন। তার অনুসারীরা জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে নানা আপত্তিকর স্লোগান দিতে থাকেন। পরে বিক্ষোভকারীরা বসুরহাট জিরো পয়েন্টে বঙ্গবন্ধু চত্বরে জড়ো হয়। এ সময় আবদুল কাদের মির্জা ঘটনাস্থলে গিয়ে শুয়ে পড়লে তার অনুসারীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করতে থাকে। সেখানে আবদুল কাদের মির্জা অসুস্থ্য হয়ে পড়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষোভ আরো জড়ালো হয়ে উঠে।

সমাবেশে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খিজির হায়াৎ খান, সাধারণ সম্পাদক নুরনবী চৌধুরী ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আজম পাশা রুমেলসহ স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন।

সন্ধ্যা ৫টার দিকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিম বসুরহাট বিক্ষোভস্থলে গিয়ে পৌর আওয়ামী লীগ ও মেয়র আবদুল কাদের মির্জার সাথে আলোচনা করে তিনি তাদের দাবির সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে বলেন, এভাবে দল ও দেশ চলতে পারে না। ১৬ জানুয়ারি নির্বাচনের পর এ সকল অভিযোগের ব্যাপারে দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সাথে পরামর্শ করে তার দিক নির্দেশনা মোতাবক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এতে নেতাকর্মীরা অবস্থান ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেন। তিনি সকল নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেররে নৌকার পক্ষে কাজ করার আহবান জানান।

পুলিশ সুপার মো, আলমগীর হোসেন বলেন, বিষয়টি তাদের জন্য বিব্রতকর। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

জেলা প্রশাসক মো. খোরশেদ আলম খান বলেন, মেয়র প্রার্থী আবদুল কাদের মির্জা নির্বাচন নিয়ে সভায় দীর্ঘক্ষণ নানা বিষয়ে বক্তব্য দেন। এক পর্যায়ে তাকে নির্বাচন ও আচরণবিধি নিয়ে কথা বলার জন্য অনুরোধ জানালে তিনি উত্তেজিত হয়ে সভাস্থল ত্যাগ করেন। এরপর তার উপস্থিতিতে অনুসারীরা প্রথমে উপজেলা পরিষদের সামনে এবং পরে প্রধান সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে।

ডিসি

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়