সংবাদপত্র পর্যালোচনা

আগের সংবাদ

সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসল চুকুর

পরের সংবাদ

সরকারের পাঁচ অগ্রাধিকার

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২, ২০২১ , ১১:৫৫ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ২, ২০২১ , ১১:৫৯ পূর্বাহ্ণ

অর্থনৈতিক ১০০ জোন বাস্তবায়ন
ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নে গুরুত্ব
এসডিজি লক্ষ্যমাত্রায় অগ্রগতি

পঞ্চাশে পা রেখেছে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ। পুরনো চ্যালেঞ্জ নিয়েই নতুন বছরের যাত্রা শুরু সরকারের। চলমান মুজিব জন্মশতবার্ষিকীর সমাপনী আর স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের লক্ষ্যে আর্থসামাজিক-রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিকসহ নানা সংকট সমাধানের চ্যালেঞ্জ সরকারের সামনে। তবে দক্ষভাবে কোভিড-১৯ মোকাবিলা করে নতুন বছরে লক্ষ্যপূরণের স্বপ্নে বিভোর সরকার। রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়ন ও রূপকল্প-২০৪১ অর্জনে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি চাঙ্গাসহ ৫টি চ্যালেঞ্জকে অগ্রাধিকার দিয়ে উন্নয়নের পথে হাঁটবে সরকার। সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন বছরকে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত এবং সুশাসন নিশ্চিত করে সোনার বাংলা বিনির্মাণের মাইলফলক হিসেবে দেখছে সরকার। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ১০০ অর্থনৈতিক জোন, ডেল্টা প্ল্যান, মেগাপ্রকল্প, এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা এবং দুর্নীতি দমনকে বিশেষ গুরুত্ব দেবে সরকার।

সরকারের শীর্ষ ব্যক্তিরা বলছেন, বৈশি^ক করোনা ভাইরাস মহামারি মোকাবিলার চ্যালেঞ্জ নিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানানো হয়েছে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে গুরুত্ব দেয়া হবে অর্থনৈতিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে। অর্থনৈতিক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ব্যবসা বাণিজ্য শিল্প কল-কারখানার জন্য প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজগুলোর যথাযথ বাস্তবায়নসহ অনানুষ্ঠানিক খাতের জন্য প্রয়োজনে নতুন প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হবে। করোনায় বেকার জনগোষ্ঠীর জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা রয়েছে। সেইসঙ্গে করোনার কবলে বর্ধিত অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক নিরাপত্তবেষ্টনীর আওতা বাড়ানো হবে। অর্থনৈতিক ১০০ জোন বাস্তবায়ন : শিল্পোন্নত দেশ গড়ার অঙ্গীকারে সারাদেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার বিশেষ স্বপ্নের কথা একাধিকবার জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এলক্ষ্যে ২০৩০ সাল নাগাদ দেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে সরকার। ইতোমধ্যে অনুমোদন পেয়েছে ৯৩টি অর্থনৈতিক অঞ্চল। নতুন বছরে চট্টগ্রামে বিশাল অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। ওই অঞ্চলে ৩০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী তাজুল ইসলাম। এতে জিডিপি ১ শতাংশ বেড়ে যাবে বলেও জানান তিনি।

মেগা প্রকল্পে গতি : বিশ্বের এগারতম পদ্মা সেতুর মূল অবকাঠামোর দৃশ্যমান, করোনা ধাক্কা কাটিয়ে মেগা প্রকল্পগুলোর কাজে পূর্ণগতি, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে সফল বাংলাদেশ। চলতি বছরে মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের লক্ষ্যে মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে গুরুত্ব সরকারের। আগামী বিজয় দিবসের আগেই পদ্মা সেতু চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হবে- আশা সরকারের। এছাড়া স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে মেট্রোরেল চালুর আশা সরকারের। ইতোমধ্যেই ৬১ শতাংশ কাজ শেষ হওয়া কর্ণফুলী টানেল যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হবে ২০২২ সালের মধ্যেই। আর রূপপুরে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণ কাজের ৩০ শতাংশ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রথম ইউনিটের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দেয়ার আশা সরকারের।

ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নে গুরুত্ব : টেকসই উন্নয়নে শতবর্ষী ডেল্টা প্ল্যানের আওতায় বন্যা, নদীভাঙন, নদী ব্যবস্থাপনা, নগর ও গ্রামে পানি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনার দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নিয়েছে সরকার। ব-দ্বীপ উন্নয়নের এই পরিকল্পনায় উপকূলীয় অঞ্চলে ২৩টি প্রকল্পের জন্য বিনিয়োগ করা হবে ৮৮ হাজার ৪৩৬ কোটি টাকা। বরেন্দ্র এবং খরাপ্রবণ অঞ্চলে ৯টি প্রকল্পের আওতায় বিনিয়োগ হবে ১৬ হাজার ৩১৪ কোটি টাকা। হাওর ও আকস্মিক বন্যাপ্রবণ অঞ্চলের জন্য ৬টি প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হবে ২ হাজার ৭৯৮ কোটি টাকা। পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের জন্য ৮ প্রকল্পে ৫ হাজার ৯৮৬ কোটি টাকা, নদী ও মোহনা অঞ্চলে ৭টি প্রকল্পে ৪৮ হাজার ২৬১ কোটি টাকা এবং নগরাঞ্চলের জন্য ১২টি প্রকল্পে বিনিয়োগ ধরা হয়েছে ৬৭ হাজার ১৫২ কোটি টাকা। ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নে বিদায়ী বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চেয়ারপারসন ও পরিকল্পনামন্ত্রীকে ভাইস চেয়ারম্যান করে ‘ডেল্টা গভর্ন্যান্স কাউন্সিল’ করেছে সরকার। এই মহাপরিকল্পনার অধীনে ২০৩০ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য ৮০টি প্রকল্প নিয়েছে সরকার। জানতে চাইলে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান ভোরের কাগজকে বলেন, করোনার কারণে ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নে কিছুটা স্থবিরতা এলেও নতুন বছরে এটি অগ্রাধিকার পাবে। উন্নয়নকে একই ছাতার নিচে আনার বিকল্প নেই। টেকসই উন্নয়নের জন্য ডেল্টা প্ল্যানকে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

এসডিজি লক্ষ্যমাত্রায় অগ্রগতি : করোনায় দারিদ্র্য কমিয়ে সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল (এসডিজি) লক্ষ্যমাত্রা অর্জন বিশ্বকে এক চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে। বাংলাদেশেও বেকার জনগোষ্ঠী, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, জেন্ডার সমতা, বৈষম্য হ্রাস এবং টেকসই উৎপাদন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। কোভিডকালে বেশ কয়েকটি অভীষ্টে কাক্সিক্ষত অর্জন না হলেও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। এসডিজির ১৭টি অভীষ্টের মধ্যে ৪টি টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনে সঠিক পথে ও ৬টি অভীষ্ট অর্জনে বাংলাদেশ পরিমিত রূপে উন্নতি করেছে। এসডিজির ৩টি অভীষ্ট অর্জনে বাংলাদেশের অবস্থান অপরিবর্তিত ও দুটির মূল্যায়নের জন্য উপাত্তে ঘাটতি রয়েছে। জানতে চাইলে অর্থনীতিবিদ ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম ভোরের কাগজকে বলেন, নতুন করে দরিদ্র হওয়া জনগোষ্ঠীর জন্য নতুন প্রণোদনা দেয়া প্রয়োজন। নতুন বছরে জাতিসংঘ ঘোষিত ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাংলাদেশকে এগুতে হবে।

দুর্নীতি দমনে জিরো টলারেন্স : টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকারের অন্যতম প্রতিশ্রুতি দুর্নীতি দমন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি দেশে-বিদেশে আলোচিত। নতুন বছরেও দুর্নীতি দমনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে সরকার। এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে দুর্নীতিমুক্ত ও সুশাসন খুবই জরুরি। দুর্নীতি করলেই সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা। ঘরে বাইরে সরকারের চলমান শুদ্ধি অভিযানও অব্যাহত থাকবে। দুর্নীতিকে কোনো ছাড় নয়।

এমআই

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়