নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় ছাত্রলীগ নেতাকে গুলি করে হত্যা

আগের সংবাদ

যেভাবে জন্মদিন কাটাবেন রাষ্ট্রপতি

পরের সংবাদ

ফিরে দেখা কুবির-২০২০

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১, ২০২১ , ১২:৫২ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ১, ২০২১ , ১২:৫২ অপরাহ্ণ

নবীন হলেও সমসাময়িক দেশীয় কার্যকলাপ এবং ছাত্র শিক্ষক রাজনীতি, নানা অর্জন, উদ্ভাবন, বহির্গমণ, কৃতিত্ব গ্রহণ কিংবা ভরাডুবি নিয়ে বরাবরই দেশীয় মিডিয়ায় শিরোনাম হয়ে থাকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি)।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং ভৌগোলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থিত হওয়ায় সর্বতোভাবে বিশ্ববিদ্যালয়টি দেশ ও জাতীয় স্বার্থে ভুমিকা রেখে আসছে। তবে বিভিন্ন মহলের একনিষ্ঠ ইচ্ছার প্রয়াসে নানা সময়ে সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয় শালবনের কোলে গড়ে উঠা কম্পাসটিকে।

প্রতিষ্ঠার ১৫ বছরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বিচিত্র অভিজ্ঞতার ভিতরে নিজেদের অবস্থান পরিস্কার করেছে এখানকার শিক্ষক শিক্ষার্থীসহ সকলে। করোনা কালীন দুর্যোগের কবলে হারিয়ে যাওয়া ২০২০ এ কেমন ছিল স্থির ক্যাম্পাসের চিত্র। আসুন যেনে নেওয়া যাক প্রথম দিক থেকে প্রাপ্তি অপ্রাপ্তির হিসাব সমূহ।

প্রাপ্তি অপ্রাপ্তির খাতায় কুবিয়ানদের হৃদয়ে উজ্জ্বল আলো ছড়ায় তাদের প্রথম সমাবর্তন। যা বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিক্ষার্থীদের প্রবল আকাঙ্ক্ষার ফলন। বহুল আলোচিত এই সমাবর্তনকে ঘিরে কুবিতে সবথেকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয় সৌন্দর্যবর্ধন কাজে। তবে এতে প্রশাসন যতটা না আলোচিত হয় তার থেকে সমালোচিত হয় ঢের বেশি। সমাবর্তনকে ঘিরে সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পের বাস্তবতায় আলোকসজ্জা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসকে শিশু পার্কের সাথে তুলনা করতে ছাড়ে নি। এমনকি প্রায় ২০ লক্ষ টাকা ব্যায়ে এই আলোকসজ্জার লাইট এবং খাঁজগুলো তিন মাস না পেরুতে বিলীন হলে ফের সমালোচিত হয় প্রশাসনিক নিরাপত্তা এবং তদারকি ব্যাবস্থা।

এছাড়া ক্যাম্পাসে মূল ফটক না থাকায় সমাবর্তনের আগে প্রশাসন শিক্ষার্থীদের কৃত্রিম ফটক নির্মাণের আশ্বাস দিলেও পরে নামসর্বস্ব কয়েকটি ব্যানার লাগিয়ে ফটকের কাজ সমাধান করতে গেলে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়ে প্রশাসন। একইদিনে শিক্ষার্থীদের প্রদান করা সার্টিফিকেটের বৃহৎ একটা অংশে ভুল থাকায় প্রশ্নের সম্মুখীন হন কর্তা ব্যাক্তিরা।

এদিকে বছরের শুরুতে অর্ধ কোটি টাকা ব্যায়ে মুক্তমঞ্ছ নির্মাণ করে বিশ্ববিদ্যালয়। তবে হস্তান্তরের আগে বিভিন্ন অংশে ফাটল এবং স্থাপনাটির নকশা নিয়ে সমালোচিত হয় প্রশাসন। একই সময়ে আগের ভিসির নিয়ে আসা প্রায় ২ কোটি টাকার অভ্যন্তরীণ রাস্তা নির্মানের কাজ বাস্তবায়ন করে বর্তমান উপাচার্যের প্রশাসন। তবে সেটিও হস্তান্তরের আগেই বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিলে দেশের প্রথম সারীর প্রায় সকল ইলেক্ট্রনিক এবং প্রিন্ট মিডিয়ায় খবর প্রকাশিত হয়। কিন্তু তাতে কি। বিশ্ববিদ্যালয়ে একের পর এক অনিয়ম হবে কিন্তু তার সুবিচার কবে হবে সে উত্তর খুজতে গিয়ে ধরা পড়বে অন্য আরেক অনিয়ম। এভাবেই চলছে সকল কর্মযজ্ঞ।

অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের চরম আবাসিক সংকটে প্রায় তিন বছর পার করেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ হাসিনা ছাত্রী হল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সম্প্রসারিত অংশের কাজ, টিচার্স ক্লাব এবং ডর্ম নির্মাণের কাজ কবে শেষ হবে এ বছরে সে প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারেনি প্রশাসন।

তথাপি এতসব বিষয়ে কথা বলতে গেলে প্রশাসনিক কর্তা ব্যাক্তিদের তথ্য প্রদানে অনিহা এবং বরাবর আশ্বাস ব্যাতীত সুফল বলতে তেমন কিছুর আশা জাগাতে পারে নি বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ।

এদিকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ফেল করার পরও তদবিরের জোরে প্রার্থীকে নিয়োগ, শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে পাল্টাপাল্টি প্যানেল ঘোষণা, বঙ্গবন্ধু পরিষদে ফাটলসহ নানা আলোচিত সমালোচিত ঘটনা প্রবাহে বছরের শেষাংশে প্রায় প্রতিনিয়ত খবরের কাগজে শিরোনাম হয়েছে শালবনের বিশ্ববিদ্যালয়টি।

সার্বিক বিষয় একুশ সালের প্রস্ততি এবং সংগঠিত অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা গ্রহণ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে উপাচার্য প্রফেসর ড. এমরান কবির চৌধুরী বলেন, “সব বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে গেলে ভিন্ন সমস্যার উদ্ভব হয়। তবে আমরা আগত বছরে আরও সুসংগঠিত হয়ে কর্ম পরিচালনার বিষয়ে আশাবাদী। কিছুদিনের মধ্যে মূল ফটকের কাজ শুরু হবে। সাথে সাথে ক্যাম্পাস সম্প্রসারণের কাজও শুরু হওয়ার পর্যায়ে। তবে এসব কাজে সবথেকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে স্বচ্ছতাকে। সেক্ষেত্রে আমি মনে করি ২০২১ সাল হবে বিশ^বিদ্যালয়ের জন্য চমক।”

সর্বপরি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে উপাচার্যদের দায়িত্ব পালনে শেষ বছর খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর আগের উপাচার্য প্রফেসর ড. আলী আশরাফের শেষের দিকে চরম আন্দোলনের মুখে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের সম্ভাবনা নিভে যায়। তবে তার আগে কোন উপাচার্য পূর্ণ মেয়াদে দায়িত্ব পালনে সামর্থ হননি। সেদিক থেকে বর্তমান উপাচার্য প্রফেসর ড. এমরান কবির চৌধুরীর এটি শেষ বছর। দেখার বিষয় হল উপাচার্যের শেষ সময়কে ঘিরে নতুন কোন রাজনীতির দানা বেঁধে যায় কিনা। তাই সে প্রশ্নের উত্তর খোজার জন্য অপেক্ষার প্রহর গুনতে হতে পারে ২১ এর শেষাংশ পর্যন্ত।

এমআই

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়