তিন থেকে দুইয়ে এলো রিয়াল মাদ্রিদ

আগের সংবাদ

করোনায় পারটেক্স গ্রুপ চেয়ারম্যানের মৃত্যু

পরের সংবাদ

লক্ষ্মীপুর শিল্পকলা ভবনে র‌্যাব, শিল্পীরা অস্বস্তিতে

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৪, ২০২০ , ১২:০০ অপরাহ্ণ আপডেট: ডিসেম্বর ২৪, ২০২০ , ১২:০০ অপরাহ্ণ

স্থবির জেলাভিত্তিক সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড -৫২

বাংলাদেশের দক্ষিণ পূর্বাংশে অবস্থিত চট্টগ্রাম বিভাগের অন্তর্গত পশ্চিম ও দক্ষিণে মেঘনা নদী বিধৌত উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুর। এর দিগন্ত বিস্তৃত ধানক্ষেত, উত্তাল মেঘনার রুপালি রূপ, সারি সারি নারিকেল ও সুপারির বন, সুপ্রাচীন ঐতিহ্যময় ধর্মীয় উপাসনালয় ও জমিদার বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলাকে দিয়েছে অনন্য সৌন্দর্য। লক্ষ্মীপুর নামকরণে রয়েছে নানা মত। ধারণা করা হয়, হিন্দু পুরাণে লক্ষ্মী ধন-সম্পদ ও সৌভাগ্যের দেবীর আশির্বাদপুষ্ট এই জেলা। সে হিসেবে লক্ষ্মীপুরের অর্থ দাঁড়ায় সম্পদসমৃদ্ধ শহর বা সৌভাগ্যের নগরী। আজ করোনার থাবায় মেঘনাবিধৌত ইতিহাস, সংস্কৃতিসমৃদ্ধ, নয়নাভিরাম সৌন্দর্য ও সৌভাগ্যের নগরী লক্ষ্মীপুরে নেমে এসেছে হাহাকার।

সূত্র জানায়, লক্ষ্মীপুরে সাংস্কৃতিক সংগঠনের সংখ্যা প্রায় অর্ধ শতাধিক। সংস্কৃতিকর্মীর সংখ্যা রয়েছে প্রায় ৪ শতাধিক। তারা প্রায় সবাই এখন বেকার। এদের মধ্যে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ১০০ জনকে প্রণোদনা সহায়তা দেয়া হয়েছে। তবে অধিকাংশ শিল্পীর জীবনই হয়ে উঠেছে দুর্বিসহ। তারা অনন্যেপায় হয়ে কেউ দিন মজুরি, মাস্ক ও সবজি বিক্রি করছেন। অথচ সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে যে তালিকা পাঠানো হয়েছে সেখানে অনেকেই সচ্ছল, এমনকি কলেজের অধ্যাপক এবং ৩ জন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকও রয়েছেন।

জানতে চাইলে লহরী শিল্পী গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা ও জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ফরিদা ইয়াসমিন লিকা ভোরের কাগজকে বলেন, শিল্পকলা একাডেমি ভবনের প্রাণস্পন্দন থমকে আছে। ২০১৩ সাল থেকে দীর্ঘদিন ধরে একাডেমি ভবনে র‌্যাব অবস্থান করে থাকায় জেলার সাংস্কৃতিক অঙ্গন জমে উঠছে না। আবার তাদের সরানোও যাচ্ছে না। বিষয়টি বর্তমান জেলা প্রশাসক এবং তার আগের জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হলেও তারা কোনো পদক্ষেপই নেননি। এ ব্যাপারে তাদের যেন কোনো উৎসাহই নেই! একটা জেলার প্রধান সংস্কৃতি কেন্দ্রে যখন কোনো সরকারি বাহিনী দিনের পর দিন উপস্থিত থাকেন, সেখানে সংস্কৃতিকর্মীরা স্বাভাবিক এবং স্বতঃস্ফূর্ত হতে পারে না। অথচ এর আগে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বেশ জমজমাট ছিল।

লক্ষ্মীপুর থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাইন উদ্দিন পাঠান বলেন, করোনায় লক্ষ্মীপুরের শিল্পীরা, বিশেষ করে যারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে নাচ-গানের শিক্ষকতা করেন তারা অমানবিক কষ্টে আছে। ফলে চর্চার জায়গাটাও নাজুক হয়ে পড়েছে। শুরুর দিকে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে শিল্পীদের ৫ হাজার টাকা এবং জেলা প্রশাসনের খাদ্য সহায়তা ছাড়া আর কিছু দেয়া হয়নি। লক্ষ্মীপুর বিবর্তন

থিয়েটারের সভাপতি টিংকু রঞ্জন মল্লিক বলেন, কীর্ত্তন শিল্পীরা এখন করোনাকালে কেউ মাছ বিক্রি, কেউ কৃষি কাজ ও দিন মজুরি করছেন, কেউ কেউ অনলাইন ব্যবসায় জড়িয়ে গেছেন। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি জাকির হোসেন আজাদ বলেন, শিল্পীরা এখনো দারুণ সংকটে দিনাতিপাত করছে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে দ্বিতীয় দফায় তালিকা পাঠানো হলেও এখনো কোনো খুদে বার্তা আসেনি।
জানতে চাইলে লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল ভোরের কাগজকে বলেন, শিল্পকলা একাডেমি ভবন থেকে র‌্যাবকে সরিয়ে নেয়ার কথা আমি জেলা প্রশাসনের সম্মেলনে বলেছিলাম। আমার যে গোপনীয় প্রতিবেদন যায় মন্ত্রণালয়ে, সেই প্রতিবেদনেও জানিয়েছি, র‌্যাবকে যেন সরিয়ে নেয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায়, র‌্যাবকে ওখান থেকে সরিয়ে নেয়া জন্য সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে পুলিশ মহাপরিচালক বরাবর একটি চিঠিও ইস্যু করা হয়েছে।

এমআই

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়