পাহাড় কাটার দায়ে এক লাখ টাকা জরিমানা

আগের সংবাদ

আ. লীগের মনোনয়ন লড়াইয়ে পিন্টু-সোহেল

পরের সংবাদ

প্রশাসনের অনুরোধ উপেক্ষা করে রাস্তায় চারার হাট

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৯, ২০২০ , ৫:৫১ অপরাহ্ণ আপডেট: ডিসেম্বর ১৯, ২০২০ , ৬:১৪ অপরাহ্ণ

নওগাঁর সাপাহার উপজেলা সদর এলাকায় প্রশাসনের অনুরোধ উপেক্ষা করে চলছে ব্যস্ত রাস্তার দুইধারে চারাগাছ বেচাকেনার হাট। দীর্ঘদিন ধরে খঞ্জনপুর জবই বিলগামী থানা রোডে এই চারাগাছের হাট রয়েছে। এখানে ফলদ, বনজ, ঔষুধি ও ফুল গাছের চারা বিক্রি হয়।

শনিবার (১৯ ডিসেম্বর) হাট ইজারাদার মিলন চৌধুরী বলেন, সাপাহার ও তার আশে পাশের নার্সারি মালিকগণ তাদের উৎপাদিত বিভিন্ন প্রজাতির চারা গাছ এই হাটে বেচাকেনা করছেন। এ ছাড়া রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, বগুড়া ও নওগাঁ জেলা থেকে চারা ব্যবসায়ীরা ট্রাকে করে বিভিন্ন প্রজাতির হাজার হাজার চারা গাছ এনে বিক্রি করেন। বিদেশি প্রজাতির আকাশমনি, ইউক্যালিপটাস, মেহগনিসহ দেশি জাতের আম, জাম, কাঁঠাল, লেবু, পেয়ারা, জলপাই, পেঁপে, নিমসহ ঔষুধি গাছের চারা বিক্রি হয়। এই চারার হাটে প্রায় ৪০/৫০টি চারাগাছের দোকান রয়েছে যেখানে প্রতিদিন গড়ে ৩ থেকে ৪ হাজার চারাগাছ বেচাকেনা হয়।

শিতলডাঙ্গা থেকে আসা চারাক্রেতা রহমত আলী ভোরের কাগজকে বলেন, এই বাজারে চারাগাছগুলো ভাল, গাছ মরার ভয় কম। এছাড়া সদরের অন্য জায়গায় তেমন চারার বাজার নেই। তাই এই ব্যস্ত রাস্তার উপরে ঝুঁকি নিয়ে মানুষ চারা ক্রয় করেন।

পোরশা উপজেলার নিতপুর ইউনিয়ন থেকে আসা কলোনী নার্সারীর মালিক বাবুল আকতার ভোরের কাগজকে বলেন, আম্রপালি, গৌরমতি, বারী-৪, হিমসাগর(খিরসাপাতি), নাক-ফজলি, আশিনা ও বারমাসি কাঠিমন জাতের আমের চারা। চায়না থ্রি লিচু ও থাই হাইব্রিড নারিকেল গাছের চারা বেশি বিক্রিয় হয়।

তিনি আরো জানান, আম্রপালি-টেন চারা বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১২০ টাকা, সোনামুখী আশিনা ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। আকাশমনি, ইউক্যালিপটাস, মেহগনিসহ অন্যান্য বনজ গাছের চারা ২০/২৫ টাকা দরে বিক্রি হয়।

বাজারে বেশ কয়েকজন চারা ব্যবসায়ী জানান, সাপাহার অঞ্চলের লোকজন বনজ জাতের চারা গাছ লাগানোর চাইতে ফলদ জাতের চারা গাছ বিশেষ করে আমগাছের চারা রোপণের ব্যাপারে খুবই উৎসাহী। পরিবহনে সুবিধা হওয়ায় রাস্তার দুইধারে চারার হাট রয়েছে। এতে মানুষের সামান্য ঝুঁকি মেনে নিতে হবে।

উপজেলা উপ-সহকারী উদ্ভীদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আতাউর রহমান সেলিম জানান, উপজেলার সদরের অদূরে স্থাপিত ওই চারার হাটে বিভিন্ন প্রজাতীর আমের চারার সমাহার দেখে এ উপজেলার লোকজনের পাশাপাশি দূরদূরান্ত থেকে লোকজন এখানে এসে আমের চারা সংগ্রহ করছেন। আম এ উপজেলার অর্থনৈতিক উন্নয়নে বেশ ভূমিকা রাখছে। তাই সব মিলিয়ে সাপাহার উপজেলার সর্বস্তরের কৃষকদের মাঝে আম চারা রোপণে ব্যাপক প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।

সাপাহার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মজিবুর রহমান ভোরের কাগজকে জানান, এ উপজেলায় জলবায়ুর কারণে ধানের চাইতে আম চাষে কৃষক বেশি লাভবান হচ্ছে। বিশেষ করে এ উপজেলার উৎপাদিত সুমিষ্ট রসালো ফল আম বর্তমানে দেশের সর্বত্র বিশেষভাবে খ্যাতি অর্জন করেছে। আম বাগান তৈরি করে এরই মধ্যে অনেক কৃষকের ভাগ্যে বদলে গেছে।

তিনি আরো জানান, ২০১৬ সালে ২ হাজার ৩৭৫ হেক্টর জমিতে আম বাগান ছিল। ২০১৭ সালে বেড়ে আমবাগান হয় ৩ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে। ২০১৮ সালে ৪ হাজার হেক্টর জমিতে আমবাগান। ২০১৯ সালে ৮ হাজার ২৫০ হেক্টরে জমিতে আমবাগান। ২০২০ সালে আম বাগান জমি জরিপের কাজ চলমান রয়েছে। ২০১৬ সালে আম উ’ৎপাদন হয়েছে ১২.৫০ মেট্রিক টন, ২০১৭ সালে আম উ’ৎপাদন হয়েছে ১৩ মেট্রিক টন, ২০১৮ সালে আম উ’ৎপাদন হয়েছে ১৩.৫০ মেট্রিক টন, ২০১৯ সালে আম উ’ৎপাদন হয়েছে ১২ মেট্রিক টন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কল্যাণ চৌধুরী ভোরের কাগজকে বলেন, ব্যস্ত রাস্তায় চারার হাট মানুষ দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকার বিষয়টি নিয়ে চারা ব্যবসায়ীদের সাথে কয়েকদফা বসেছি। কিন্তু তারা সদরের বাইরে যেতে চান না। এছাড়া সুবিধামত খাস জমিও পায়নি। খাস জমি খুজছি, পেলে চারার বাজার অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হবে।

ডিসি

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়