যুবলীগ নেতা অপহরণ, উদ্ধারের দাবিতে বিক্ষোভ

আগের সংবাদ

ইসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে রাষ্ট্রপতিকে ৪২ নাগরিকের চিঠি

পরের সংবাদ

কুমিল্লা টাউন হল নিয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের গণশুনানি

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৯, ২০২০ , ৪:২১ অপরাহ্ণ আপডেট: ডিসেম্বর ১৯, ২০২০ , ৪:৫৩ অপরাহ্ণ

কুমিল্লা টাউনহল নিয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের গণশুনানি কুমিল্লায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর কুমিল্লা বীরচন্দ্র নগর মিলনায়তন ও গনপাঠাগারকে (টাউন হল) পূরাকীর্তি হিসেবে ঘোষণা করবে কি না, সে বিষয়ে শনিবার (১৯ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় টাউন হল প্রাঙ্গণে এ গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

এদিকে কুমিল্লার বিভিন্ন সরকারী, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন সকাল সাড়ে ১০টায় কুমিল্লার টাউনহল, কান্দিরপাড় পূবালী চত্তর, সার্কিট হাউজ রোড, পুলিশ লাইনস চত্তর, প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন গুরত্বপূর্ণ সড়কে কুমিল্লা টাউনহলে আধুনিক দৃষ্টিনন্দন কমপ্লেক্স ভবন নির্মানের দাবীতে মানববন্ধন করেছে।

ইতোপূর্বে কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম বাহাউদ্দীন বাহারের উদ্যোগে গণপূর্ত বিভাগ টাউন হলের বহুতল ভবনের নকশা প্রস্তাবনা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

অনুষ্ঠিত গনশুনানিতে সামাজিক, সাংস্কৃতিক রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ মতামত জানিয়ে বক্তব্য দেন। এ সময় বক্তারা কুমিল্লা টাউনহলকে একটি আধুনিক দৃষ্টিনন্দন কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণের পক্ষে সমর্থন জানান।

বক্তারা বলেন, কুমিল্লার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত টাউনহল ভবন এই শহরের সকল রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের অনুষ্ঠান বা মিলিত হবার জনপ্রিয় স্থান। কালের বিবর্তনে পুরো ভবনটি এখন শত সমস্যায় জর্জরিত। একটু বর্ণাঢ্য বা বড় পরিসরে অনুষ্ঠানের জন্য টাউনহল এখন অনুপযোগী। পাঠাগারেও কোন বই সংরক্ষণের আধুনিক সুযোগ না থাকায় এবং পরিসরের অভাবে কার্যক্রম পরিচালনা বন্ধ হবার দ্বারপ্রান্তে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় একাধিক মিলনায়তন, আধুনিক পাঠাগার সম্বলিত একটি দৃষ্টিনন্দন কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। যা হবে টাউন হলের প্রতিষ্ঠাতা বীরচন্দ্র মহারাজ মাণিক্য বাহাদুরের নামে এবং তার স্মৃতিকে ধারণ করে। কুমিল্লার সচেতন সকল মহল এ উদ্যোগে সমর্থন করছেন।

কুমিল্লার রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যরা বলেন এই মহতি ও সুদূরপ্রসারী উদ্যোগে কুমিল্লার মানুষকে তাদের স্বপ্ন পূরণের দিকে অগ্রসর করবে।

গনশুনানী শেষে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও বিশেষজ্ঞ কমিটির আহ্বায়ক মো. আব্দুল মান্নান ইলিয়াস বলেন, কুমিল্লা বীরচন্দ্র নগর মিলনায়তন ও গনপাঠাগার প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে পুরাকির্তী হবে কিনা এ বিষয়ে যে গণশুনানি হয়েছে তা কমিটির সদস্যরা বসে বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়ে রিপোর্ট দিবে। এসময় বিশেষজ্ঞ কমিটির অন্যতম সদস্য ও কুমিল্লা জেলা প্রশাসক আবুল ফজল মীর উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গনশুনানির বিষয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও বিশেষজ্ঞ কমিটির আহ্বায়ক মো. আব্দুল মান্নান ইলিয়াস গত ৯ ডিসেম্বর কুমিল্লা জেলা প্রশাসনে অনুষ্ঠিত সভায় এই গণশুনানি আয়োজনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেন।

সে সময় টাউন হল ভবনের জরাজীর্ণ অবস্থার কথা উল্লেখ করেন তিনি। টউন হল ভেঙে পুননির্মাণের বিরোধিতাকারী ৫০ জন বিশিষ্ট নাগরিকের তালিকা সংগ্রহ করে তাদের মতামত নেওয়া এবং টাউন হলকে কেন প্রত্নসম্পদ হিসেবে ঘোষণা করা হবে না, সেজন্য এই গণশুনানির আয়োজন করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়